লালমনিরহাট জেলা সমন্বয় কমিটির সভা- পুকুর খননের নামে “পুকুর চুরির” অভিযোগ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাট জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় কৃষকের নামে ধান সংগ্রহে সিন্ডেকেট বানিজ্য, কৃষক হয়রানি বন্ধ, মৎস্য সংরক্ষন আইন বাস্তবায়নে খাল, বিল, নদী, নালা অবরুদ্ধ করে ‘খরা’ জাল নামের বেআইনি জাল দিয়ে ব্যাপক হারে পোনা নিধন সহ মৎস্য বিভাগের পুকুর খননের নামে “পুকুর চুরি” বিরুদ্ধে কঠর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানানো হয়েছে ।
সোমবার সকালে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক-এঁর সভা কক্ষে জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলায় চলমান সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি, নদী ভাঙ্গন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জরুরী স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে আলোচনা কালে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি সতর্ক থাকা এবং স্ব-স্বক্ষেত্রে তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ দেন।
সভায় উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট ও সিনিয়র সাংবাদিক গোকুল রায় জেলার সর্বত্র মৎস্য সংরক্ষন আইন ন্যুনতম কার্যকর না থাকায় খাল, বিল, নদী, নালায় স্রোত অবরুদ্ধ করে “খরা” কিংবা “জম জাল” নামে বেআইনি জাল পাতিয়ে অবলীলায় ব্যাপক হারে পোনা মাছসহ সকল ধরনের মৎস্য নিধনযজ্ঞ চলছে। এছাড়া ও ব্যাপক হরে বেআইনি কারেন্ট জালও ব্যবহার হচ্ছে- যা মৎস্য সংরক্ষন আইনর সম্পন্ন পরিপন্থি। মৎস্য সংরক্ষন আইন অনুযায়ি জেলা মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এসব অপতৎপরতা বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানানো হয়। একই সাথে সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের ধাইরখাতা মৌজায় সিংগেরগাড়ী বিল সংগ্লন একটি খাস পুকুড় খননের নামে বরাদ্দকৃত ৫ লাখ টাকা প্রায় সম্পুর্ন আত্মসাৎ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে করেঠার ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানানো হয় সভায়।
প্রাপ্ত অভিযোগের প্রকাশ, সিংগেরগাড়ী পুকুর পূনর্খনের জন্য একটি প্রকল্পের বিপরীতে সম্প্রতি বরাদ্দ দেয়া হয় ৫ লাখ টাকা। জনাগেছে, রংপুর বিভাগ মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ বরাদ্দ কৃত অর্থ জুনের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে নাম মাত্র মাটির কাজ দেখিয়ে সমুদয় অর্থই আত্মাসাৎ করা হয়েছে বলে এলাকা বাসীর অভিযোগে প্রকাশ। প্রাপ্ত অভিযোগে জানাগেছে, এ প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত সাইন বোর্ড না টাঙ্গিয়ে এলাকাবাসীকে অন্ধকারে রেখে গুটি কয়েক লেবার দিয়ে নাম মাত্র মাটির কাজ করা হয়। পুকুর কাটার নামে পানি সেচ দিয়ে ফেলে দিয়ে আগের পোনা মাছগুলো বিক্রয় করেও অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তদুপরি, তথাকথিত মাটির কাজ দেখাতে গিয়ে পুকুরের পূর্ব-দক্ষিন পাড় যা রাস্ত হিসেবে ব্যাবহৃত- এ মোটা রাস্তিটির দু-ধারে স্লব কেটে ফেলায় মানুষের চলাচলও অযোগ্য করা হয়েছে।
এ ছাড়াও, চলতি বরো সংগ্রহ মৌসুমে সারা জেলায় খাদ্য গুদামগুলোতে সিন্ডিকট বানিজ্য বন্ধ করার দাবিসহ খাদ্য গুদাম গুলোতে ওজন, আর্দ্রতা, বস্তা পালটানো ও পরিবহনের নামে বস্তা প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা হাওে উৎকোচ আদায় ও কৃষক হয়রানীর সুনিদ্রিষ্ট কিছূ অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এ ভাবে কৃষক হয়রানির কারনে অনেক চাষী গুদামে ধান দিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে, অনেক ভুমিহীন-এর নামেও ধান বরাদ্দ দেখিয়ে শক্তিশালী সিন্ডেকিট এসব কৃষক সহ সাধারন কৃষক দেওর ভুলিয়ে ভালিয়ে বিপুল পরিমান কাড সংগ্রহ করে তাদেও নামে ধান গুদামে দিয়ে বিপুল অথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট গুলো।
এ ছাড়াও সভায় কৃষকদের নামে ধান বরাদ্দের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে, কোথাও কৃষক প্রতিনি মাত্র ৬ মন, কোথাও ১০ মন এবং কোথাও ১ টন বা তারো অধিক বরাদ্দ দেখিয়ে জেলায় ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারের ঘোষিত ন্যাযমুল্য নিশ্চিত করতে এ সমস্ত লাগামহীন অনিয়ম দূনিতি বন্ধ করারা প্রয়োজন বলে সভায় দাবী জানানো হয়।
উল্লেখ্য যে, প্রতি মন (৪০ কেজি) ধানের সংগ্রহ মুল্য যেখানে ৯ শ ২০ টাকা, সেক্ষেত্রে জেলায় লাগামহীন অনিয়ম দুনিতি, সিন্ডিকেট বানিজ্যের কারনে এখানো পর্যন্ত জেলার হাট-বাজার গুলোতে সংগ্রহ অভিযানের কোন প্রভাবই জেলার হাট বাজার গুলোতে পড়েনি।
ক্ষেত্রভেদে ধান প্রতি মন এখোন সাড়ে ৪শ টাকে থেকে সর্বচ্চ ৫শ টাকা দরে— কেনা বেচা হচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছে আপামর কৃষককুল।

