নাটোরে ছাত্রীর সাথে সভাপতির অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ-তদন্ত শুরু
ইসাহাক আলী, নাটোর থেকে :
সংসার জীবনে নানা ঘটনার জন্ম দেয়া বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি তিনি। তারপরও জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও নতুন প্রেমে মেতেছেন। এবার যে স্কুলের তিনি সভাপতি সেই স্কুলেরই এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এখন উত্তাল পুরো এলাকা। জনগনের বিক্ষোভ থেকে লিখিত অভিযোগের পর ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের তদন্তটিম গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে ওই তদন্ত দল। তবে তদন্ত দলের সামনে অভিযোগকারীরা হাজির হলেও হাজির হননি অভিযুক্ত ওই সভাপতি জিয়াউল আহসান মঞ্জু। তদন্ত দলের প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহাদ আলী বলেছেন ঘটনাস্থলে যা পেয়েছেন সে হিসাবেই প্রতিবেদন দাখিল করবেন তিনি। এদিকে বিষয়টিকে অন্যখাতে প্রবাহিত করতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শোকজ ও উকিল নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ করেছে শিক্ষকরা। এছাড়া ঈদের আগ মুহুেের্ত শিক্ষকদের বেতন সিটে স্বাক্ষর করেননি ওই সভাপতি। আর মঞ্জুর দাবী এটা পারিবারিক ব্যাপার কিন্তু একিিট গোষ্ঠি তার সভাপতি পদ নষ্ট করতে অপ-প্রচার চালাচ্ছ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পেশা জীবনে ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন জিয়াউল আহসান মঞ্জু। সেখান থেকে অবসর গ্রহণের পর হজ্জ্ব ব্যবসা ছাড়াও সামাজিক কাজ করেন তিনি। এর বাইরে ঝাঁরফুঁক দেয়াসহ আধ্যাত্বিক জগতে পদচারনা আছে এমন কথাও এলাকার মানুষের অজানা নয়। তবে ব্যক্তি জীবনে তিনি সব সময়ই নানা ঘটনার জন্ম দিয়ে এলাকার আলোচনা থাকতেম মঞ্জু। সংসার জীবনে মঞ্জু প্রথম সংসার চলাকালে স্ত্রীর আপন ভাস্তিকে বিয়ে করে দ্বিতীয় সংসার গড়েন। তিনি এটাকে অস্বীকার করলেও এলাকার প্রায় সবাই অকপটে এটা স্বীকার করে। প্রথম সংসারে তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে আছে। স্ত্রীর ভাস্তিকে বিয়ে করার পর থেকে প্রথম সংসারে নেমে আসে অশান্তি। এমন নানা অশান্তির জেরে প্রথম সংসারের বড় ছেলে এখন মানসিক ভারসাম্যহীন। তার দ্বিতীয় সংসারে আছে দুই মেয়ে। স্ত্রীর ভাতিজী িিদ্বতীয় স্ত্রী আর এই পক্ষের দুই মেয়েকে নিয়েই চলছিল তার সংসার। দিঘাাাপতিয়া বাজার এলাকায় ভাড়া বাড়িতে ভালো ভাবেই দিন পারছিলেন। ইতোমধ্যে হ্জ্ব পালন করেছেন করেন সেই হজ্বের ব্যবসাও। এর মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মন জয় করে হয়ে যান দেড়শ বছরের স্বনাম ধন্য দিঘাপতিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। সম্প্রতি িিতনি দিঘাপতিয়া বাজার হতে পিএন স্কুল রোডে পশ্চিম হাগুড়িয়া গ্রামে জায়গা কিনে নয়নাভিরাম অত্যাধুনিক বাড়িও করছেন। আার এই বাড়িটিই যেন কাল হয়েছে তার। বাড়ির পাশের প্রতিবেশি নাতনির সাথে নাকি নতুন প্রেমে মেতেছেন। যে স্কুলের তিনি সভাপতি এই নাতনি সেই স্কুল থেকে গত এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে। তবে পরিণয়ের এ অভিযোগ খোদ মঞ্জুুর মেয়ে ও স্ত্রীর। জানা যায়, দাদা-নাতনীর পরিচয় দরেই দীর্ঘদিনের কথোপকথনের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে এমন সন্দেহ হয় তার বড় মেয়ে বাণীর। সে বাবার মোবাইল ফোনে অটো রেকর্ড করে রাখলেও জিয়া তা জানতে পারেনি। প্রতিদিন দাদা-নাতনীর কথোপকথোনটি বাণী ব্লু-টুথের মাধ্যমে নিজ মোবাইলে পার করে দুইবোন ও তার মা গোপনে শুনতো। সম্প্রতি এই নিয়ে িিবরোধে বাবা মেয়ে একে অপরের মোবাইল ফোন ভেঙ্গে ফেলে। এই ঝগড়ার সূত্র ধরে ঘটনাটি এলাকায় প্রকাশ পায়। এ নিয়ে পরিবারে লঙ্কাকান্ড। এতে এলাকাবাসী সমালোচনায় মেতে ওঠে। এক পর্যায়ে এলাকার ব্যাপক লোকজন জড়ো হয় তার বািিড় ঘিরে। বাহিরে এলাকাবাসী সেদিন গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ির ভেতরে চলে বাবা-মেয়ের ঝগড়া। সেখানেও তার পরিবারের সদস্যরা ওই ছাত্রীকে ঘিরে প্রশ্ন করলেও তিনি থাকেন নিশ্চুপ। রাতেই জনরোষে পেছন দরজা দিযে বাড়ি ছাড়েন তিিিন। এনিয়ে পরের দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলাকায় বিক্ষোভ-সমাবেশ করতে থাকে অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে তারা দিঘাপতিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে স্কুল থেকে ছাত্র-ছাত্রী বের করে দেয়। পরে তারা সভাপতির পদত্যাগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের কাছে দাবী জানায়। সে সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্কুলের মামলা সংক্রান্ত কাজে বাহিরে থাকলেও বিক্ষোভের কথা শুনে এসে পরিস্তিতি সামাল দেন। পরে এলাকার বিক্ষুদ্ধরা সভাপতির অপসারন ও শাস্তি চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কমকর্তার লিখিত অভিযোগ করে। উপজেলা নির্বাী কর্মকর্তা নায়িরুজ্জাামান ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করে দেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলমের নেতৃত্বাধীন কমিটিও ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
দিঘাপতিয়া স্কুলে ওই তদন্ত কমিটির সামনে অভিযোগকারীরা হাজির হয়ে তাদের মতামত দেন। এ সময় এলাকার শত শত অভিভাবকরা সভাপতির পদত্যাগ দাবী করে বাইরে বিক্ষোভ করতে থাকে। তবে অনুপস্থিত থাকেন অভিযুক্ত ওই সভাপতি। এ সময় তদন্ত প্রধান শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেন, তারা যা পেযেছেন েেসই প্রতিবেদনই তিনি দাখিল করবেন। আর মঞ্জুু বলেন, তিনি বিষয়টি জানলেও হাজির হননি কারন অভিযোাগটি কোন প্রাতিষ্ঠানিক িিবষয় নয়।
এদিকে এ ঘটনার পর থেকেই প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের প্রতি বিরাগ ভাজন হয়েছেন মঞ্জুু। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে আসা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে চারপাতার শোকজ করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সকল শিক্ষক স্থানীয় এমিিপ শফিকুল ইসলাম শিমুলের সাথে স্বাক্ষাত করলে তিনি ঈদের পর বিষয়টির সুরাহা করে দেয়ার আশ্বাস দেন। এমপির আশ্বাস পেয়ে চলে আসার দুুইতিন দিন পর সভাপতি করেছেন উকিল নোটিশও। এছাড়া মাত্র কয়েকদিন পর ঈদ হলেও শিক্ষকদের বেতন সিটে স্বাক্ষর করেননি সভাপতি। এনিয়ে হতাশ পুরো স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীরা।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলিম উদ্দিন বলেন, এটা সভাপতি আর এলাকাবাাসীর ব্যাপার এখানে তার কিছুই করাার নেই। সে ক্ষমতায় তার নেই। লোকজনের অভিযোগে প্রশাসন নিজ গতিতে চলছে। তবে তাকে ও তার শিক্ষকদের কেন হয়রানি করা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। তিনি ও তার শিক্ষকরা এর সুুষ্ঠু সমাধান চেয়েছেন স্থানীয় এমপি ও প্রশাসনের কাছে।
এদিকে জিয়াউল আহসান মঞ্জু বলেছেন, তার পারিবারিক একটা বিষয় নিয়ে একটি গোষ্ঠি ঘোলাা পানিতে মাাছ শিকােেরর চেষ্টা করছেন। তাদের উদ্দেশ্য তাার সভাপতির পদ দখল করা। আর কিছু নয়। এ ব্যাপারে তিনি চিন্তিত নয়।
এদিকে দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ঈদের পর স্কুলের ছুটি শেষ হলে বৃহত্তর আন্দোলন করার হুমকি দিযেছেন অভিভাবকরা। তারা জানান, সভাপতি পদত্যাগ না করলে তারা তাদের সন্তানদের স্কুলে আসা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন।

