দিনাজপুরের বিরলে ক্ষেতজুড়ে সিটি মরিচের আবাদ
দিনাজপুর প্রতিনিধি:
মরিচের জন্য বিখ্যাত বিরল উপজেলার জগৎপুর গ্রাম। যত দূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। মাঠে মাঠে সবুজের ক্ষেতগুলো থোকা থোকা কাঁচা মরিচে ভরপুর। এগুলোর স্থানীয় নাম সিটি মরিচ। শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, এর ঝালের খ্যাতিও রয়েছে।
স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে সিটি মরিচ পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, রংপুরসহ উত্তরের সকল জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এবার বিরলের সিটি মরিচ ও চার প্রকারের বেগুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে।
বাঙালির খাবারে মরিচের প্রভাব ব্যাপক। তবে মরিচে ঝাল না থাকলে এর প্রভাবের মূল্য থাকে না। অবশ্য সকল ধরনের মরিচের ঝাল একই রকম হয় না। আর এই কারণে ঝালের উপর নির্ভর করে একেক রকম নাম মরিচের। আর এ রকম এক ঝাল সমৃদ্ধ মরিচের নামই বিরলের সিটি মরিচ। যার নাম বললেই বোঝা যায় এর গুরুত্ব।
সিটি মরিচের চাষ বিষয়ে কৃষকরা জানান, বীজ সংরক্ষণের জন্য ক্ষেতের পাকা মরিচ (টোপা) সংরক্ষণ করা হয়। টোপা রোদে শুকিয়ে ড্রামের মধ্যে রেখে বীজ সংরক্ষণ করা হয়। বপনের মৌসুমে প্রতি কেজি বীজ ৪ থেকে ৫শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
আশ্বিন মাসের দিকে সংরক্ষিত বীজগুলো বীজতলায় বপন করা হয়। ১ মাস পর বীজতলার চারা তুলে মূল জমিতে রোপন করা হয়। নিবিড় পরিচর্যার পর পৌষ মাসের ১৫ দিনের মধ্যে মরিচ তুলতে পারে কৃষকরা। প্রতি মৌসুমে ফলন্ত মরিচের ক্ষেত থেকে ৩ বার মরিচ সংগ্রহ করা যায়। শতক প্রতি ১ মণেরও অধিক মরিচ পাওয়া যায়।
জগৎপুর গ্রামের মরিচ চাষী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর আমি ২ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি চাষ করতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি এবার আমি ৭০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবো।’
কৃষক আসাদ আলীসহ অন্য কৃষকরা জানান, সিটি মরিচ চাষে এবার রোগ-বালাই তেমন একটা না হলেও প্রচণ্ড শীতের কারণে গোঁড়া পঁচা রোগ হয়েছিল। তারপরেও ফলন ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পাওয়া যাবে।
বিরল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ আশরাফুল আলম জানান, বিরলের সিটি মরিচের (স্থানীয় জাত) ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ মরিচ চাষ লাভজনক ও এর উৎপাদন বেশি। তাই এটাকে সম্প্রসারণ করতে এবং দেশের অন্য অঞ্চলে পরিচিত করতেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় স্থান পেয়েছে।
তিনি আরো জানান, সিটি মরিচের শুধু ঝালই বেশি নয়, এর বৈশিষ্ট্যও রয়েছে অনেক। এটি লম্বায় ৬-৭ ইঞ্চি হয়। ৩ থেকে ৪ বার ফসল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি শতকে ১ দশমিক ২৫ মণের অধিক ফলন পাওয়া যায়। হেক্টর প্রতি ১২ টনের অধিক ফলন পাওয়া যায়।

