বাকৃবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে কোন্দল, পাল্টাপাল্টি কমিটি!
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের ১৪২৮ বঙ্গাব্দের নতুন কমিটি নিয়ে কোন্দল তৈরি হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল নতুন কমিটি ঘোষণার পরে এর বিরোধিতা করে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছে সংগঠনটির একাংশ।
পূর্বের কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস মাহফুজুল বারিকে সভাপতি ও কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালামকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।
তবে কমিটি ঘোষণার পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করে সংগঠনটির একাংশ নিয়ে এক ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের ১৪২৭ বঙ্গাব্দ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গণতান্ত্রিক পন্থায় যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করতে না পারায় বিগত কয়েক বছর যাবত সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ পরিলক্ষিত হচ্ছে। মুষ্টিমেয় কিছু লোক কোটারি করে অসংখ্য কমিটিতে কাজ করে যাচ্ছে। তারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা ধরণের সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে এবং স্বেচ্ছাচারীতা চালিয়ে যাচ্ছে যা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের গঠণতন্ত্রের পরিপন্থী। উচ্চ মহলের মদদপুষ্ট হয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সুপরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের ঐক্য বিনষ্ট করছে।
তিনি আরো বলেন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের জন্য গত ২০ মার্চ গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ২১ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিষয় নির্বাচনী কমিটি প্রস্তাব করা হয়। পরে ২৮ মার্চ সাধারণ সভায় তা উপস্থাপিত হয়। সাধারণ সভায় (১৩ এপ্রিল) প্রস্তাবিত কমিটি উপস্থাপিত হলে তা সাধারণ সদস্যদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। সমালোচনা সত্ত্বেও সভাপতির অনুমতি ছাড়াই সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বিষয় নির্বাচনী কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম এ সালামকে দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ কমিটি ঘোষণা করান। এ সময় সভাপতি কথা বলতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক কথা বলার সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সাধারণ সম্পাদক কার্যনির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে দিয়ে সভার সমাপনী ঘোষণা করান।

১ম কমিটি
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ১৪২৭ বঙ্গাব্দ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, ‘সভাপতিকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি এমনটি সত্য নয়। উনি (সভাপতি) আসলে সভার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না। কিছু শিক্ষক অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হট্টোগোল শুরু করে দিলে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। পরে সিনিয়র শিক্ষকদের সম্মতিক্রমে ও নিদিষ্ট সময়ে সভা শেষ করার জন্য ওই পরিস্থিতিতে গঠনতন্ত্র মেনে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সভাপতিত্বে সভা পরিচালিত করা হয়।’
পরবর্তীতে ২ মে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করে সংগঠনটির একাংশ। এতে কৃষি অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ সাইদুর রহমানকে সভাপতি ও ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ আলমগীর হোসেনকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২য় কমিটি

