খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাবুনগরীর দেখা হওয়ার ব্যাপারে যা বললো হেফাজত

khaleda

নিউজ ডেস্কঃ শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে যাওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছিলেন সংগঠনটির তৎকালীন মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির তৎকালীন প্রচার সম্পাদক মুফতি ফখরুল ইসলাম।

মুফতি ফখরুল বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে’র সেই সহিংসতায় তৎকালীন বিএনপি ও জাময়াতের একাধিক শীর্ষ নেতা অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন। সহিংসতায় অংশ নিয়েছিলেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাও।

এরপর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হয়। তবে প্রকাশিত এই সংবাদকে ‘মিথ্যাচার’ বলে উল্লেখ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। বুধবার (২১ এপ্রিল) এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা তাজুল ইসলামের (পীর সাহেব ফিরোজশাহ) পক্ষে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়।

প্রতিবাদলিপিতে মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন, হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বকে কলঙ্কিত করতে মুফতি ফখরুল ইসলামের কাছ থেকে পুলিশ মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। এই স্বীকারোক্তি একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় শীর্ষ আলেমের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়। দেশবাসী এমন মিথ্যা স্বীকারোক্তি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে’।
তিনি বলেন, ‘হেফাজত আমিরের কাছ থেকে আমি জেনেছি- ২০১৩ সালে রিমান্ডে পুলিশকে বলেছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাবুনগরীর কোনোদিন সামনাসামনি দেখা পর্যন্ত হয়নি। অথচ মুঈনুদ্দীন রুহি ও ফখরুল ইসলাম এ বিষয়ে মিথ্যাচার করেছেন। তারা এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারবে না’।

মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘রমজান মাসে আলেম-ওলামার ওপর পুরনো মিথ্যা মামলা সচল করে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। গুটিকয়েক নীতি-আদর্শচ্যুত সাবেক নেতাকে এতে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ ২০১৩ সাল বেশিদিন আগের ঘটনা নয়। এখনও ইন্টারনেটে সার্চ দিলে সহজেই জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তখনকার সংবাদ খুঁজে পাওয়া যাবে, সে সময় কোন নেতার কি ভূমিকা ছিল’।

প্রতিবাদলিপিতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আলেম-ওলামাদের ওপর দমন-পীড়ন, মিথ্যা মামলা এবং অপবাদ বন্ধের দাবি জানান মাওলানা তাজুল ইসলাম।

  •  
  •  
  •  
  •