‘এ বছরই বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন চূড়ান্ত হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ‘বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন’ চলতি বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন প্রতিমন্ত্রী।

বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন বিষয়ে জানতে চাইলে মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, এ বছরের মধ্যে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে। এটির খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে রয়েছে। ভেটিং শেষ হলেও মন্ত্রিসভায় উঠবে। আশা করি এ বছরেই পাসের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে মোবাইল অ্যাপস তৈরি করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার এই অ্যাপস তৈরি করছে। বঙ্গমাতার জন্মদিনে অ্যাপসটি চালু করে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। নির্যাতনের শিকার নারীরা তাৎক্ষণিক এই অ্যপসদের মাধ্যমে প্রতিকার পাবেন।

তিনি আরো বলেন, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কিংবা হয়েছে এমন পরিস্থিতিতে অ্যাপস স্পর্শ করতে হবে। আর অ্যাপসে স্পর্শ করলেই সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলের ঠিকানাসহ বিপদ সংকেতের সংক্ষিপ্ত বার্তা পৌঁছে যাবে তার পরিবারের সদস্য, সংশ্লিষ্ট থানা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পনাইন সেন্টার (১০৯২১) এবং পুলিশ কন্ট্রোল রুমে।

এই অ্যাপস সয়ংক্রিয়ভাবে আলাপচারিতা সংরক্ষণ করবে। নির্দিষ্ট সময় পরপর ছবিও তুলবে এবং মোবাইলে সংরক্ষিত থাকবে। আর সয়ংক্রিয়ভাবে ন্যাশনাল হেল্পনাইন সেন্টারের সার্ভারে প্রেরিত হবে। নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার সম্পর্কিত তথ্য বাংলা ও ইংরেজিতে এই অ্যাপসে দেওয়া থাকবে বলেও জানান চুমকি।

দেশের কর্মজীবী মায়ের শিশুদের জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ডে-কেয়ার সেন্টার নীতিমালা তৈরির ঘোষণাও দেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিশুদের দিবাকালীন সেবা প্রদানের জন্য বেসরকারি পর্যায়ে ডে-কেয়ার সেন্টার করার সুযোগ রেখে নীতিমালা করা হবে। নতুন নীতিমালার আওতায় লাইসেন্স নিয়ে বেসরকারি পর্যায়ে ডে-কেয়ার সেন্টার করা হবে। কর্মজীবি মায়েদের বিশেষ সুবিধা কথা চিন্তা করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, শিষ্টাচার শিক্ষা, সুষম খাবার দেওয়া, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জ্ঞানসহ শিক্ষা ও খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি।

মেহের আফরোজ চুমকি জানান, সরকারিভাবে বর্তমানে ঢাকায় মধ্যবিত্তদের জন্য ৬টি, নিম্নবিত্তদের জন্য ৮টি, বিভাগীয় শহরে ৫টি, জেলা শহরে ১৩টি ডে-কেয়ার সেন্টার আছে। আর প্রকল্পের আওায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য ১১ এবং জাতীয় মহিলা সংস্থায় ১টি ডে কেয়ার সেন্টার রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নারী উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রয়াস জয়িতা এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া কর্মরত গার্মেন্টস নারী শ্রমিকদের আবাসনে হোস্টেল নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের আর্থিক সহায়তা, পথ শিশুদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীন আহমেদ চৌধুরী, পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •