গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কীট কাহন
নিউজ ডেস্কঃ
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কীট নিয়ে ওষুধ প্রশাসন ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ওষুধ প্রশাসন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কীট পরীক্ষা করানোর জন্য তৃতীয় পক্ষের কথা শোনা গেলেও আসল সমস্যা কোথায় তা প্রকাশ করলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
কন্ট্রাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (সিআরও) মাধ্যমে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনা শনাক্তের কিট পরীক্ষা করতে যত টাকা লাগবে, তা দেয়ার প্রস্তাব করেছে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন। এমিনেন্স কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি সিআরও প্রতিষ্ঠানও বিনা পয়সায় কিট পরীক্ষা করে দেয়ার প্রস্তাব করেছে। তবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বলছে, মধ্যস্বত্বভোগী সিআরও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা কিট পরীক্ষা করবে না। কেবল সরকারি প্রতিষ্ঠানে কিট পরীক্ষা করাবে। যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠানে তারা কিট পরীক্ষা করবে, তাই সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের অর্থ এবং এমিনেস কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিনা পয়সায় পরীক্ষার সহযোগিতা কাজে লাগছে না।
তবে তাদের এগিয়ে আসার এ মানসিকতার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।এদিকে, বুধবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের উদ্ভাবিত করোনা শনাক্তের কিটের সক্ষমতা পরীক্ষা করতে চায় সিডিসি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছে।
তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মধ্যস্বত্বভোগী সিআরও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কারণেই কী কিট পরীক্ষায় বিলম্ব?
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে আটটি সিআরও প্রতিষ্ঠান আছে। তারা সবাই বেসরকারি। সিআরও করে এমন আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হলো আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। এরা সবাই হলো মিডল ম্যান বা মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠান। তারা পরীক্ষা করতে বড় অঙ্কের অর্থ নেয়। মধ্যস্বত্বভোগী এসব প্রতিষ্ঠান দিয়ে কিট পরীক্ষা করতে বলছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।‘কেবল বেসরকারি সংস্থা দিয়ে কিট পরীক্ষা করব কেন? আমাদের সরকারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এত বড় সক্ষমতা আছে, তারাও করতে চাচ্ছে। তাদের দেয়া হচ্ছে না কেন?
তাছাড়া সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), আর্মি প্যাথলজি বা শিশু হাসপাতাল করতে পারে। সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানের কিট পরীক্ষার সক্ষমতা আছে। আমরা সরকারের এসব প্রতিষ্ঠান দিয়েই করাতে চাই। কিন্তু ওষুধ প্রশাসন তা দিচ্ছে না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করছে ওষুধ প্রশাসন।’ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর যুক্তি, ‘সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো কিট পরীক্ষা করলে তাদের সক্ষমতা, কার্যক্ষমতা বাড়বে। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দেশের নাম হবে।
ওইসব সিআরও মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠান আমাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে উঠতে দিচ্ছে না। এসব কারণে আমরা সরকারি প্রতিষ্ঠানে করতে চেয়েছি।’ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন “আমি বিএসএমএমইউকেও চিঠি লিখেছি, ওষুধ প্রশাসনকেও। কোনো জায়গায় যেতে আমাদের আপত্তি নাই। তবে আমি সিআরও-র মাধ্যমে যাব না।
”মধ্যস্বত্বভোগী এসব প্রতিষ্ঠানের সমস্যা কোথায় তা তুলে ধরে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘যত বেশি মধ্যস্বত্বভোগী বা মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে, তত বেশি অকারণে জটিলতা বাড়ে, জিনিসের দাম বাড়ে। আমরা সিআরও পদ্ধতির বিরুদ্ধে। এটা তৃতীয় বিশ্বের স্বার্থবিরোধী। যেমন- কৃষক ধান উৎপাদন করে। আর ফড়িয়ারা ঢাকায় এনে তা বেশি দামে বিক্রি করে। যে ব্যবহারকারী, সেও ক্ষতিগ্রস্ত এবং যে উৎপাদন করছে, সেও ক্ষতিগ্রস্ত। লাভবান হলো মধ্যস্বত্বভোগী। সিআরও হলো একটা মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠান। তারা বিভিন্নজনকে খুশি করে বিভিন্নভাবে। শেষপর্যায়ে খরচটা তো জনগণের ওপরই যায়।’

