নিজস্ব রকেটে মহাকাশ জয় রিচার্ড ব্রানসনের

সাবরিন জাহান:

নিজের তৈরি রকেটে মহাশূন্যের পথে পাড়ি দিয়ে নতুন মহাকাশ যুগের সূচনা করলেন ব্রিটিশ বিলিওনেয়ার ব্যবসায়ী এবং অভিযাত্রী রিচার্ড ব্র্যানসন। সম্প্রতি তিনি নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ভার্জিন গ্যালাকটিকের রকেট যানে চড়ে মহাকাশ ভ্রমন শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের নিউমেক্সিকোতে অবতরণ করেছে।

ইউনিটি-২২ নামের এই মহাকাশযানটি এক ঘন্টায় ৩ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে উড়ে যায়।রকেটটি ভূমি থেকে ২লাখ ৮২ হাজার ফিট বা ৮৫ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছায়।

নিউ মেক্সিকো মরুভূমি থেকে মহাকাশে রওয়ানা হয় ভার্জিন গ্যালাক্টিক কোম্পানির রকেট। রকেট যানের দুই পাইলট, ডেভ ম্যাকেই ও মাইকেল মাসুচ্চি এবং তিনজন মিশন স্পেশালিস্ট বেথ মোজেস, কলিন বেনেট এবং সিরিশা ব্র্যান্ডলা,এই ৫ জন সহচরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খোদ কোম্পানির কর্তা রিচার্ড ব্র্যানসন। টিমে অন্যতম হলেন সংস্থার গবেষণা কার্যক্রমের সহ-সভাপতি সিরিশা বান্দলা। কল্পনা চাওলার পর ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মহিলা।

স্বপ্নবিলাসী রিচার্ড ব্র্যানসন ফ্লাইটের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,ছোটবেলা থেকেই তিনি এ মুহুর্তের স্বপ্ন দেখেছেন। পুরো বিষয়টি ছিল যাদুকরী।কয়েক মিনিট ধরে রকেটের ছয় যাত্রী ভরশূন্যতার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

ভার্জিন গ্যালাকটিকের তরফে এটি চতু্র্থতম মহাকাশ সফর। মহাশূন্যে অভিযানের এই পথটি রিচার্ড ব্র্যানসনের জন্য কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। ২০০৪ সাল থেকেই তিনি মহাশূন্যে বাণিজ্যিক ভ্রমণ চালু করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন।২০০৭ সালেই ভ্রমণ চালু করার ইচ্ছে থাকলেও রকেটে প্রাণঘাতী এক বিস্ফোরণের পর উদ্যোগটি মাঝপথে থেমে যায়।

এই মাসের ২০ তারিখ জেফ বেজোসও স্পেসে টুর দিয়ে আসবেন বলে জানান।তা হবে নিজ কোম্পানির ব্লু অরিজিনের শেপার্ড রকেটের মাধ্যমে। ব্লু অরিজিন আর ভার্জিন গ্যালাক্টিকের মহাকাশ যান দুটির পার্থক্য রয়েছে। দুইটার ল্যান্ডিংও দুই রকম। ব্লু অরিজিনেরটা রকেটের মতো,ল্যান্ড করতে প্যারাসুট লাগবে।আর ভার্জিন গ্যালাক্টিকেরটা জেট ল্যান্ডিং এর মতো।তবে সব কিছু ছাড়িয়ে রিচার্ড ব্রান্সনই প্রথম হতে পেরেছেন এবং ঐতিহাসিক ফ্লাইট হিসেবে এটি ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আর ৫ বছরের মধ্যেই শুরু হয়ে যেতে চলেছে মহাকাশ পর্যটন।আগামী বছর থেকেই রিচার্ড ব্র্যানসন মহাকাশ পর্যটনের জন্য টিকেট বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা করেছেন। ভার্জিন গ্যালাক্টিকের একটি টিকিটের দাম ২.৫ লক্ষ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে অগ্রিম ২০০টির অধিক টিকিট বিক্রিও হয়ে গিয়েছে। ব্র্যানসন জানান, এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের সুবাদে মহাকাশে পর্যটনের নতুন এক যুগের সূচনা হতে চলেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3