শোক দিবসে জন্মদিন পালন করবেন না খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্কঃ গত ছয় বছর ধরেই ১৫ই আগস্টে জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই বছরগুলোতে তাঁর জন্মদিনে শুধু মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে খালেদা জিয়ার আরোগ্য, দীর্ঘায়ু ও মুক্তি কামনা এবং করোনাসহ অন্যান্য রোগে মৃত্যুবরণকারী দেশবাসী ও দলের নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফেরাত ও অসুস্থদের আশু সুস্থতা কামনায় আগামী ১৬ আগস্ট, সোমবার দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনের অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপি কেন্দ্রীয় দফতরের চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

এ বিষয়ে সুধীসমাজে বিএনপিপন্থী বলে পরিচিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দাবি করেছেন, তিনি অনুরোধ করার পর ১৫ আগস্টে কেক কাটা বন্ধ করেন খালেদা জিয়া। গত

তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিন পালন না করার জন্য আমি খালেদা জিয়াকে না করেছিলাম। আমি বললাম যে দেখেন, ১৫ আগস্ট জন্ম-মৃত্যু থাকবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর দিনে পাবলিকলি আপনি এটা পালন কইরেন না।’

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের দিনে জন্মদিন পালনের বিরুদ্ধে বরাবরই বেশ সোচ্চার ছিলেন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের আগে ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট ‘ফিরোজা’য় খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। ওই সময় তিনি ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন না করার জন্য খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেন বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে গত বুধবার কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার ওই অনুরোধের পর খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আমিও এমন মহান একজন নেতার মৃত্যুর দিনে জন্মদিন পালন করতে চাই না। কিন্তু দলের নেতাকর্মীদের চাপে এটা করতে হয়েছে।’

উল্লেখ্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে সপরিবারে নিহত হয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন না করার জন্য বিএনপির প্রতি বরাবরই আবেদন জানিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ। এর পরও ২২ বছর ১৫ আগস্ট কেক কেটে জন্মদিন পালন করেছেন খালেদা জিয়া।

২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এক দিন পিছিয়ে গুলশান কার্যালয়ে কেক কাটা হয়। ওই বছর অতি উৎসাহী নেতাদের তৎপরতা অবশ্য কিছুটা কম দেখা যায়।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: , ,