বাড়ছে লকডাউন, নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকারের

lock

নিউজ ডেস্কঃ

করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় বাড়তে পারে লকডাউন। চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে করোনায় গত একদিনে ২৩০ জন মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের উচ্চ মহলে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে লকডাউনের শর্ত শিথিল করা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে কিনা?

তবে চলমান লকডাউন ১৪ জুলাই মধ্যরাতের পরেও থাকছে। তবে এবার তা কতদিনের জন্য বাড়ানো হবে- এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে সরকার। সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হতে পারে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সামনে কোরবানির ঈদ, বসবে পশুর হাট। মানুষ কোরবানির পশু কিনতে বাজারে যাবে। তাই এ সময়ে লকডাউন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়মেই এটি বড় ধরনের চাপ। কোন কৌশলে মানুষকে লকডাউনের মধ্যে ঈদুল আজহা উদযাপন করানো যায় এবং তার আগে বেশি সংখ্যক মানুষকে ঘরে রেখে সামান্য কিছু মানুষকে দিয়ে কোরবানির পশু কেনানো যায়, সে বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

অপরদিকে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের তৃতীয় সপ্তাহ খুবই জরুরি। গত দুই সপ্তাহের লকডাউনের অর্জন নির্ভর করছে তৃতীয় সপ্তাহের কার্যক্রমের ওপর। সব দিক দিয়েই ১৪ তারিখের পর থেকে পরবর্তী সাত দিন অর্থাৎ কোরবানির দিন ২১ জুলাই পর্যন্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকার এবার আরও কঠিন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভেবেচিন্তে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দিতে চায় বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কিছুই বলা ঠিক হবে না। ১৪ জুলাইয়ের পরও সরকারি বিধিনিষেধ (লকডাউন) থাকছে কিনা সেটি বিদ্যমান পরিস্থিতি কঠিনভাবে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে যাই হোক, এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা জারি করা হবে ১৩ জুলাই (মঙ্গলবার)।

তিনি বলেন, বর্তমানে করোনার যে সংক্রমণ পরিস্থিতি, সেটি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের বিষয়টির প্রতি সরকারের গুরুত্ব বেশি। যেকোনও কিছুর বিনিময়ে হোক জারি করা বিধিনিষেধ মানাতেই হবে। এই মহামারি থেকে বাঁচতে এর কোনও বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সংক্রমণ এবার এমনভাবে ছড়িয়েছে, সেটি খুবই আশঙ্কাজনক। যদি আমরা এ সংক্রমণ কমাতে চাই, তাহলে বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিধিনিষেধ মানার প্রক্রিয়া কিন্তু অব্যাহত রাখতে হবে।

ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, যেহেতু সামনে কোরবানির ঈদ এবং হাট আছে, এ দুটিকে একত্রিত করে সংক্রমণ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেটিই এখন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সেটিই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। সরকারের পক্ষ থেকে পশুর হাটগুলোকে কতটা সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা যায় সে বিষয়টি নিয়ে শলাপরামর্শ করা হচ্ছে।

পশুর হাটে যাতে কম ক্রেতা আসেন এবং তারা যেন স্বাস্থ্যবিধি মানেন- এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে কৌশল খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এটি নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণ ঠেকানো কিছুটা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

এদিকে লকডাউনের মেয়াদ যে ১৪ জুলাইয়ের পরেও বাড়ছে তার ইঙ্গিত দিয়ে বন্ধ ঘোষণা করা সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত ভার্চুয়ালি পদ্ধতিতে পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে রবিবার (১১ জুলাই) দুপুরে আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এই আদেশের মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে যে ১৪ জুলাই সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত আপাতত খুলছে না।

সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: