ডেল্টা ভেরিয়েন্টে বেড়েছে তরুণদের মৃত্যু হার

delta

নিউজ ডেস্কঃ সব ভাইরাসই সময়ের সঙ্গে স্বভাবতই বদলাতে থাকে, সার্স-কোভিড-২ এক্ষেত্রে কোন ব্যতিক্রম নয়। ২০১৯ সালের শেষের দিকে যখন এই ভাইরাসটি প্রথম চিহ্নিত হয়, তারপর এটির হাজার হাজার মিউটেশন হয়েছে। মিউটেশনের মাধ্যমে এভাবে যে পরিবর্তিত ভাইরাস তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ভ্যারিয়েন্ট।

বিশেষজ্ঞরা মূলত চারটি ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে চিন্তিত: আলফা (প্রথম ধরা পড়ে যুক্তরাজ্যে), বেটা (দক্ষিণ আফ্রিকা), গামা (ব্রাজিল) এবং ডেল্টা (ভারত)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই চারটি ভ্যারিয়েন্টকে উদ্বেগজনক বলে চিহ্নিত করেছে, কারণ এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য আরও বেশি হুমকি বলে মনে করা হয়।

বাংলাদেশে করোনার ভারতীয় ধরন ডেল্টায় তরুণদের মধ্যে মৃত্যুহার বেড়েছে। তথ্য বলছে, গেল দুই মাসে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার ছিল বেশি। সেই সঙ্গে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে সব বয়সীদের মধ্যেও।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজীর আহমেদ বলছেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিধিনিষেধ শিথিল করায় সংক্রমণ ও মৃত্যুহারে বিস্ফোরণ ঘটার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রতিদিনই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। প্রথম ধাক্কায় দেশে ষাটোর্ধ্বদের মৃত্যু হার বেশি থাকলেও এবার ভারতীয় ডেল্টা ধরন ছড়িয়ে পড়ায় মৃত্যুহার বেশি হচ্ছে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের। সেইসাথে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে সব বয়সীদের মধ্যেই।

শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন হোসেন। এর আগের দিন, ১৫ই জুলাই বৃহস্পতিবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান, রাঙ্গামাটি জেলার এপিবিএন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দুই মাসে ৩১-৪০ বছর বয়সীদের দৈনিক মৃত্যুর গড় হার বেড়েছে ৭৭ দশমিক পাচ ২ শতাংশ, ২১-৩০ বছরের বেড়েছে ৭৭.৪৩ শতাংশ, ৪১-৫০ বছর বয়সীদের বেড়েছে ৭১ দশমিক ৬ শতাংশ আর ৫১-৬০ বছর বয়সীদের মৃত্যু বেড়েছে ৬৫দশমিক দুই ৮ শতাংশ। একইসাথে ষাটোর্ধ্বদের মৃত্যু বেড়েছে ৬৩ শতাংশ। আর ১০ বছরের নিচের বয়সীদের দৈনিক মৃত্যু বেড়েছে ৯ শতাংশ।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদ বলছেন, আক্রান্ত বাড়লে মৃত্যু বাড়বেই। আর সেটা আনুপাতিক হারে সব বয়সের ওপরই প্রভাব ফেলবে। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন,’ডেল্টা ভেরিয়েন্টটা বয়স্ক মানুষদের সংক্রমণ করতে পারছে না। সুতরাং সে বিকল্প টার্গেট ঠিক করছে। পরবর্তিতে আমরা আরও এর পরিবর্তন দেখবো।’

তবে ঈদুল উপলক্ষ্যে বিধিনিষেধ শিথিল করার ফলাফল রীতিমত বিস্ফোরক হবে। অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ আরও বলেন,’বাংলাদেশে এই যাবত কালে করোনায় সবচেয়ে ভয়াবহতম অবস্থায় আমরা আছি। সেটা যে সামনে আমরাদেরকে কোন অবস্থায় পতিত করবে সেটা নিয়ে চিন্তিত।’

পরিস্থিতি যেমনই হোক সংক্রমণের হাত থেকে বাচতে নিজে সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই বলে মত এই বিশেষজ্ঞের।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,