করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সাবরিন জাহানঃ

মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজটি বাদ দেয়া উচিত হবে না বলে সতর্ক করেছেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষকেরা। কারণ, দ্বিতীয় ডোজটি আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অধিক জোরালো করে তোলে যা ভাইরাসের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম, এমনটাই দাবি তাদের।

গবেষকরা ভ্যাকসিন গ্রহণকারী ব্যক্তিদের রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন। ভ্যাকসিন প্রদানের পর তারা ভ্যাকসিন দ্বারা প্রভাবিত শরীরের প্রতিরোধক কোষগুলির সংখ্যা, তাদের সক্রিয়তা, কোষসমূহের প্রকাশিত জিন এবং প্রোটিন বিপাকের ধরনের উপর পর্যবেক্ষন করেন।

গবেষণায় যা বলা হয়

২০২০ সালের ডিসেম্বরে স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের গবেষকরা ৫৬ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবককে ফাইজার ভ্যাকসিন প্রদান করেন এবং প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজের মধ্যবর্তী একাধিক বার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। তারা দেখেন, প্রথম ডোজটি অ্যান্টিবডির পরিমাণ বাড়ালেও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পর তা আরো ভালো কাজ করে এবং দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করার পর দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থায় আরো কিছু পরিবর্তন আসে যা শুধু প্রথম ডোজের পর অসমাপ্ত থেকে যায়।

গবেষকদলের প্রধান, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি এবং ইমিউনোলজির অধ্যাপক বালি পুলেন্দ্রন বলেছেন “দ্বিতীয় শটে শক্তিশালী উপকারী প্রভাব রয়েছে যা প্রথম শটের তুলনায় অনেক বেশি, এটি অ্যান্টিবডি বহুগুণ বৃদ্ধি করে, যা প্রথম ডোজ দেওয়ার পরে অনুপস্থিত ছিল।”

পুলেন্দ্রনের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক একটি ভ্যাকসিন গবেষণায় সনাক্ত করা হয়, মনোসাইট নামের কোষ ভাইরাস প্রতিরোধী জিন তৈরি করে এবং এ প্রক্রিয়ায় ভ্যাকসিন সহায়তা করে। এই বিশেষ মনোসাইটস গ্রুপটি, টিকা দেওয়ার আগে রক্তের ​​মাত্র ০.০১% গঠন করে। তবে দ্বিতীয় ভ্যাকসিন শট দেওয়ার পরে, তাদের সংখ্যা ১০০ গুন প্রসারিত করে সমস্ত রক্তকণিকার পুরো ১% হয়ে যায়। তা আরও তীব্রভাবে ভাইরাস প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। তারা বিভিন্ন ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে অনন্যভাবে সক্ষম বলে মনে হয়।

“পুলেন্দ্রন বলেছেন এই কোষগুলি কেবল কোভিড ১৯ নয় বরং অন্যান্য ভাইরাসের বিরুদ্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হতে পারে।”

তিনি বলেন, “বিশ্বের মনোযোগ এখন কোভিড -১৯ ভ্যাকসিনগুলির উপরেই নিবদ্ধ। এই প্রথমবারের মতো আরএনএ ভ্যাকসিনগুলি মানুষকে দেওয়া হয়েছে এবং তারা কী করে বা কীভাবে করে সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা সীমিত। ভ্যাকসিনের অসামান্য কার্যকারিতা সত্ত্বেও, আরএনএ ভ্যাকসিনগুলি ঠিক কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়।”

ভিন্ন ধরণের ভ্যাকসিন

বর্তমানে বাজারে প্রচলিত টিকাগুলোর মধ্যে একটি হলো ফাইজারের টিকা যা একটি আরএনএ ভ্যাকসিন।ফাইজার-বায়োএনটেক এবং মডার্না দুটি টিকাই আরএনএ ভ্যাকসিন যা ভাইরাসের জেনেটিক কোড ব্যবহার করে।

টিকাগুলো দেহের কোষকে শেখায় যে কিভাবে একটি “স্পাইক প্রোটিন” তৈরি করতে হবে। এই স্পাইক প্রোটিনটি কোভিড-১৯ ভাইরাসের উপরিভাগে থাকে।

অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন কিছুটা আলাদা। সাধারণ সর্দি লাগার যে ভাইরাস শিম্পাঞ্জিকে আক্রান্ত করতো বিজ্ঞানীরা সেটিকে কিছুটা রূপান্তরিত করে তার সাথে কোভিড-১৯ ভাইরাসের জেনেটিক কোডের কিছু অংশ জুড়ে দিয়েছেন।

সিনোফার্মের ভেরোসেল নামক ভ্যাক্সিন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ভ্যাক্সিন বানানোর প্রাচীনতম পদ্ধতির একটি, এখানে একটি নিষ্ক্রিয় করোনাভাইরাস কে ব্যবহার করা হয়েছে যাতে এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দিতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,