এক বছরে ২ কোটি প্রাণ বাঁচিয়েছে করোনা টিকা

মাসরুল আহসানঃ

সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পর থেকেই মানুষের দৃষ্টি ছিল এর টিকার দিকে। বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সবচেয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে টিকা আবিষ্কৃত হয় করোনা টিকা। আবার আবিস্কারের পর নানাবিধ গুজবের ভিড়ে টিকা নিয়ে কিছুটা সংশয়ও তৈরি হয়। সকল সংশয় ছেড়ে সফলভাবেই বিশ্বব্যাপী চলছে টিকা কার্যক্রম। টিকা প্রদান শুরু থেকে এক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন ডাটা প্রকাশ করেছে সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ক জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট’।

‘দ্য ল্যানসেট’ তার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলে কোভিড টিকা প্রদানের ফলে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২ কোটি বা ২০ মিলিয়ন মৃত্যু এড়ানো গেছে। রিপোর্ট অনুসারে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে প্রথম পরিপূর্ণ টিকা প্রদান করা হয় ৮ ডিসেম্বর ২০২০। এই সময় থেকে পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৫ টি দেশ বা অঞ্চলের কোভিড-১৯ সংক্রমণ, মৃত্যুহার ও মৃত্যু সম্ভাব্যতা নিয়ে একটি গাণিতিক মডেল দাঁড় করানো হয়।

টিকা উদ্ভাবনের পরপরই পৃথিবীতে টিকার বিতরণের অসাম্যতা দেখা যায়। এই অসাম্যতা দূর করতে জাতিসংঘ সবগুলো দেশকে কো-ভ্যাক্সের আওতায় নিয়ে আসে। তবে গবেষণা বলছে, কো-ভ্যাক্স কার্যক্রম বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিকল্পনা মাফিক কাজ হয়নি। যদি বিশ্বব্যাপী টিকার সাম্যতা নিশ্চিত করা যেত তবে আরও অনেক মৃত্যু এড়ানো যেত।

বিভিন্ন দেশের সরকারি রিপোর্ট থেকে করা অনুসন্ধানে দেখা যায় এক বছরে মৃত্যু এড়ানো গেছে প্রায় ১৪.৪ মিলিয়ন। তবে সরকারি হিসেবের বাইরেও গবেষণা চালিয়ে দেখা যায় প্রায় ১৯.৮ মিলিয়ন মৃত্যু এড়ানো গেছে। তবে এত দ্রুত টিকা উদ্ভাবন ও বিতরণের পরেও এ সময়ে সারা পৃথিবীতে ৬.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

গবেষণা মতে, এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছে প্রায় ৫৫.৯% মানুষ, দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৪৫.৫%, অন্যদিকে একটি বুস্টার ডোজ পেয়েছে ৪.৩% মানুষ।

গবেষণার এক অংশে বলা হয় গ্লোবাল এক্সেস তৈরিতে কো-ভ্যাক্স কার্যক্রম নেয়া হলেও এর সুফল পুরোপুরি ভোগ করা যায়নি। কো-ভ্যাক্স এর লক্ষ্য ছিল ২০% টিকা কাভারেজ নিশ্চিত করা। যেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত দেশগুলোতে টিকা পৌঁছানো যায়। কিন্তু তা হয়নি। আবার দ্বিধাবোধ থেকেও অনেকে টিকা নেয় নি।

‘দ্য ল্যানসেট’ এর প্রকাশিত ডাটা পুরো কোভিড মহামারির একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3