শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলছে ফেসবুক

সাবরিন জাহান:

বর্তমানে ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (প্রধানত ফেসবুক, টুইটার এবং হোয়াটসঅ্যাপ)ছাড়া রোজকার জীবন এখন কল্পনাতীত। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪.১ বিলিয়ন মানুষ এখন  ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, যা উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের জনসংখ্যার যথাক্রমে ৮৬.৬% এবং ৪৭%।

উল্লেখযোগ্য ব্যাপারটি হলো, এই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৭১%ই ১৫-২৪ বছর বয়সী। গত এক দশকে, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে  সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার আশ্চর্যজনকভাবে বেড়েছে। তার মধ্যে, ফেসবুক হলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম।

তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার তার ব্যবহারকারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব। বন্ধুদের এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেটের ব্যবহার ইতিবাচক হলেও গেমিং এবং জুয়া খেলার জন্য ইন্টারনেটের অত্যধিক ব্যবহার জীবনকে হতাশার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়,উপেক্ষিত হচ্ছে খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং পরিবাবরের সদস্যদের মধ্যে গড়ে উঠছে যোগাযোগহীনতার দেয়াল।

সম্প্রতি বাংলাদেশের দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়(শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) এর ১১৮৬ জন এবং বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় (আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ড্যাফডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি,ঈস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি,স্টেট ইউনিভার্সিটি,ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক,ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি) থেকে ১৪৭২ জন শিক্ষার্থীর উপর এ সংক্রান্ত একটি জরিপ করা হয়।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়,বাংলাদেশের ৭০% বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রত্যহ কমপক্ষে ৪-৬ ঘন্টা ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তাদের মধ্যে ২৭% গড়ে ৩ ঘন্টার বেশি ফেসবুক ব্যবহার করে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ৫০% শিক্ষার্থীই ফেসবুক ব্যবহারে করে ঘুমের ব্যাঘাতের কথা জানিয়েছে এবং তারা এটিকে সময়ের অপচয় বলেই ভাবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তদের বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গ ২.২১ গুণ বেশি।যার মধ্যে পিঠের ব্যথা, মাথাব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা, চোখের চাপ, মায়োপিয়া, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, শুক্রাণু/টেস্টিকুলার ড্যামেজ, অ্যাপোপটোসিস, সেলুলার ডিএনএ ক্ষতি, ক্যালসিয়ামের সমস্যা উল্লেখযোগ্য।

বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন) অনুসারে, ফেব্রুয়ারি ২০২০ এর শেষে বাংলাদেশে সক্রিয় ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা ৯৯.৯৮৪ মিলিয়নে পৌঁছেছে । সোশ্যাল মিডিয়ার অত্যধিক ব্যবহারের সাথে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা অনেক দেশে মূল্যায়িত হলেও বাংলাদেশে তা এখনও পর্যন্ত অবহেলিত এবং এই ব্যাপারটি নিয়ে সবার মধ্যেই নীরব ভূমিকা লক্ষ করা যাচ্ছে। বর্তমান গবেষণার মাধ্যমে সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফেসবুকের অতিরিক্ত ব্যবহারের সামাজিক-অর্থনৈতিক এবং স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সমস্যাগুলি মূল্যায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3