২৫০০০ বছর পূর্বে ঘটেছিল করোনাভাইরাসের সংক্রমন!
এ এস এ ফারূকী, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে আজ থেকে প্রায় ২৫০০০ বছর আগে পূর্ব এশিয়ার পূর্বপুরুষদের মধ্যে করোনাভাইরাসের অনুরুপ এক ভাইরাসের মহামারী বিস্তার লাভ করেছিল। এ বিষয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় প্রায় ২০০০ মানুষের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে গবেষকরা ধারণা করছেন যে, উক্ত মহামারীর কারণে জেনেটিক স্ট্রাকচারের যে পরিবর্তন ঘটেছিল তা পরবর্তী ২০০০০ বছর পর্যন্ত বহাল রয়েছে । আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অফ ফিজিক্যাল অ্যান্থ্রোপলজিস্টদের এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে ডেভিড এনার্ড (ইউনিভার্সিটি অফ অ্যারিজোনার বিবর্তনীয় জিনতত্ত্ববিদ) এমন কথাই বলেছেন।
ধারণা করা হচ্ছে জেনেটিক পরিবর্তনের কারণেই পূর্ব এশিয়ার কিছু সংখ্যক মানুষ করোনা বা এই ধরনের ভাইরাসের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে।
এছাড়াও ধারণা করা হচ্ছে যে এই অনুসন্ধান প্রাচীন রোগের সাথে বর্তমান রোগের জিন-তাত্ত্বিক সম্পর্ক নির্ণয় এবং রোগের প্রতিষেধক তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
এনার্ডের টিম পাঁচটি মহাদেশের ২৬ টি নৃগোষ্ঠীর ডিএনএর প্রোফাইল নিয়ে বিশ্লেষণ করেন এবং তাদের এই অনুসন্ধানে প্রায় ৪২০ টির মত প্রোটিন স্যাম্পল পাওয়া যায় যা সরাসরি করোনাভাইরাসের সাথে সম্পর্কিত। যেগুলোর মধ্যে ৩৩২ টি সরাসরি সারস-কোভ-২ এর সাথে মিথস্ক্রিয়ায় অংশ নেয় যা কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী। এই মিথস্ক্রিয়ার ফলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে অথবা ভাইরাসের আক্রমনের পথ সুগমও হতে পারে। এই স্যাম্পলগুলো শুধুমাত্র পূর্ব এশিয়ার মানুষের মধ্যে পাওয়া গেছে যা ট্রেস করে প্রমানিত হয়েছে যে প্রায় বিশ হাজার বছর আগে বর্তমানের অনুরূপ এক মহামারী এই এলাকায় ঘটেছিল।
এই গবেষণার মাধ্যমে অনুমান করা হচ্ছে পূর্ব এশিয়ার মানুষের শরীর আগে থেকেই করোনা বা এ ধরনের ভাইরাসের সাথে পূর্বপরিচিত। হতে পারে এই কারনে পূর্ব এশিয়ার করোনাজনিত মৃত্যুহার ইউরোপ বা আমেরিকা থেকে অনেক কম। তবে এই জেনেটিক পরিবর্তনই যে এই মৃত্যুহার কমানোর মূল কারণ সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। অন্য কোন কারণ হতে পারে।
অনুসন্ধানকৃত জিনের ভ্যারিয়েন্টগুলো কিভাবে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরিতে কাজে লাগানো যায় তা জানতে হলে পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন জনগোষ্ঠীর উপর ব্যাপক জিন-তাত্ত্বিক গবেষণার প্রয়োজন। এনার্ডের অনুসন্ধানে আরো জানা যায় দক্ষিন এশিয়া এবং ইউরোপিয়ানদের মধ্যে বংশানুক্রমে আসা নিয়ানডার্থাল জিন ভ্যারিয়েন্ট এই এলাকায় গুরুতর কোভিড-১৯ সংক্রমনের কারন হতে পারে। অপরদিকে অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট রোগটির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্যা ডেইলি সাইন্স

