ডায়রিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা প্রয়োজন

অংগন সমদ্দার

পানির মত বার বার পাতলা পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া বলে। সাধারণত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৩ বার বা তার বেশি বার পাতলা পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া বলে ডায়রিয়া বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে: মূলত বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত জীবাণু যেমনঃ সালমোনেলা, শিগেলা, ই কলাই, ভিব্রিও কলেরি, রোটা ভাইরাস, এস্ট্রো ভাইরাস, এডেনোভাইরাস, জিয়ারডিয়া, ক্রিপটোসপরিডিয়াম সংক্রামিত হলে ডায়রিয়া হয়। অর্থাৎ, দূষিত পানি পান কিংবা দূষিত খাবার বা পঁচা-বাশি খাবার খেলে ডায়রিয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে বা ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলেও এবং ভ্রমণের সময় অস্বাস্থ্য পরিবেশ হতে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে ডায়রিয়া হতে পারে।

ডায়রিয়া প্রতিরোধে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই, যেহেতু এটি পানিবাহিত জীবানুর মাধ্যমে ছড়ায়, তাই জীবাণুমুক্ত পানি পান এবং বাসি-পঁচা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকলে সহজেই আমরা এ রোগটি থেকে দূরে থাকতে পারি।

বর্তমানে, গরমকালে পিপাসা মেটাতে অনেকেই রাস্তার পাশে শরবত, আখের রস, লাচ্ছিসহ নানা ধরনের তরল খাবার আমরা গ্রহণ করেন, যেগুলো তৈরি করা হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও অনিরাপদ পানি দিয়ে। এছাড়াও অনেকেই ফুটপাতে খোলা স্থানে বা রেস্তোরাঁয় বাসি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খান। এগুলো ডায়রিয়া হওয়ার অন্যতম কারণ ।

সাধারণত প্রতিবছর, গ্রীষ্মে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহে চূড়ান্ত হারে ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় কিন্ত এবছর গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার আগেই ডায়েরিয়ার প্রকোপ দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশে (আইসিডিডিআরবি) ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে। আইসিডিডিআরবি সূত্র জানাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের ৬০ বছরের ইতিহাসে এত রোগীর চাপ তারা দেখেননি। ঘণ্টায় সেখানে ৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

এ অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য রাজধানীসহ সারাদেশের জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে। এ সময় পানি ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে বিশুদ্ধ করে পান করতে হবে। পায়খানা করার পর ও খাওয়ার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। খাবার তৈরি করা ও পরিবেশন করার আগেও হাত ধুয়ে নিতে হবে। ব্যবহার্য থালা-বাসন, চামচ-বাটি ইত্যাদিও ভালো করে ধোয়া এবং এসব কাজে নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে হবে। বাসি-পচা খাবার, এবং বাইরের খোলা খাবার, ফুসকা, চটপটি, শরবত বা ফলের রস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। খাবার বিক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে। বিভিন্ন স্থানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা জরুরি। মানুষ যেন সহজে বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

এভাবে, বিশুদ্ধ পানি পান এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সহজেই আমরা এ রোগ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারবো।

ডায়রিয়া একটি জাতীয় সমস্যা। এটি প্রতিরোধে সকলকে সচেতন করতে হবে। সরকারী ও বেসরকারী উদ্যেগে বিভিন্ন সচেতনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মিডিয়াগুলো এক্ষেত্রে বড় ভুমিকা রাখতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •