বাড়ির ছাদে গড়ে তুলুন সবুজ আঙিনা

ফিচার ডেস্ক:
আমরা যেমন বলি মানুষের বন্ধু বই। ঠিক তেমনই বলা যেতে পারে গাছও মানুষের বন্ধু। আর বাড়িতে বাগান মানুষের রুচির প্রকাশ ঘটায়…

ব্যান্ড দল মহীনের ঘোড়াগুলোর একটা গান আছে_ ‘পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে স্যাটেলাইট আর কেবলের হাতে, ড্রইংরুমে রাখা বোকা বাক্সতে বন্দি।’ দিন দিন আসলেই এই পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে। বিষাক্ত ধোঁয়ার ফলে বরফ গলে পড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে নতুন নতুন ভূমি প্লাবিত হচ্ছে। এদিকে জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য চলছে দালান নির্মাণ। আজকাল শহরে মাটির সন্ধান পাওয়াই দুষ্কর। আর সেখানে বাগান পাওয়া অসম্ভব, যা আমাদের জন্য বিশাল হুমকিস্বরূপ।

কিন্তু তাই বলে কি প্রকৃতিপ্রেমীরা বসে থাকবেন? যারা গাছকে ভালোবাসেন, প্রকৃতিকে ভালোবাসেন তারা এর বিকল্প বের করবেনই। আর সে বিকল্প হচ্ছে ছাদে বাগান। আজকাল অনেক বাসার ছাদেই বাগান আছে। যার যতটুকু ছাদ তিনি ততটুকুই বাগান করছেন।

সে বাগানে কী নেই! ফলের গাছ থেকে শুরু করে, ফুল, সবজির গাছ পর্যন্ত আছে। একদিকে যেমন প্রকৃতিতে গাছের সংখ্যা বাড়ছে ঠিক তেমনই বাগানের মালিক তার পরিবারের জন্য পাচ্ছেন তাজা ফল, শাক-সবজি। যাতে কোনো ভেজাল নেই।

এমনই এক বাগান আছে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া সাদেকিনের। সে তার বাসার ছাদে ছোট্ট পরিসরে চার বছর ধরে বাগান পরিচর্যা করে আসছে। তার বাগানে পেয়ারা, বরই, আমগাছ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফুলের গাছও সে পরিচর্যা করে থাকে।

আমরা যেমন বলি মানুষের বন্ধু বই। ঠিক তেমনই বলা যেতে পারে গাছও মানুষের বন্ধু। গাছ না থাকলে আমরা বেঁচে থাকতে পারতাম না। আর বাড়িতে বাগান মানুষের রুচির প্রকাশ ঘটায়। ছাদে বাগান করতে হলে অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হবে। প্রথমে দরকার একটি সুচিন্তিত নকশা। যদি নিজে নিজে করতে চান, তাহলে প্রথমে ছাদের আয়তন ভাগ করে নিন। কোন অংশে কোন গাছ লাগাবেন, সেটি ঠিক করুন। কোন অংশে সবজি, কোন অংশে ফুল বা অন্যান্য গাছ লাগাবেন তার ভিত্তিতেও ভাগ করতে পারেন। কোন অংশে বসার ব্যবস্থা করবেন, সেটি ছাউনিযুক্ত হবে না খোলামেলা, হাঁটাচলার পথ কেমন থাকবে_ এসব বিষয় মাথায় রাখুন। গাছের ছায়া পড়বে এমন জায়গায় বসার স্থান রাখতে পারেন।

গাছ লাগাতে প্রথমেই দরকার হবে মাটি। মাটি দেওয়ার আগে ছাদের ধারণক্ষমতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকলে ভালো। একটা বাগানের জন্য যে পরিমাণ মাটি লাগবে, তার ওজন নেহাত কম নয়। বৃষ্টির পানি তো আছেই। তা ছাড়া পরিচর্যার জন্যও নিয়মিত গাছে পানি দিতে হবে। ফলে ভেজা মাটির ওজন কিন্তু আরও বেড়ে যাবে। তাই ছাদের ধারণক্ষমতা জানা থাকলে বাড়ির কোনো ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না। বাড়ির ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে কোন ধরনের গাছ লাগাবেন। ধারণক্ষমতা বেশি হলে প্রায় সব রকম গাছই লাগানো যাবে। অল্প মাটিতে ছোট গুল্মজাতীয় গাছের বাগান করাও সম্ভব।

যত্ন-আত্তি:
শুধু গাছ লাগালেই তো হবে না, এর সঠিক পরিচর্যাও দরকার। গাছের পরিচর্যায় আপনার অবসর যেমন কাটবে, তেমনি মনও থাকবে সতেজ।

*ছাদের গাছের যত্নের মূল বিষয় হচ্ছে পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও পরিমিত পানি।

*শীত ও গ্রীষ্মে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মাটির আর্দ্রতা দেখে পানি দিতে হবে।

*সাধারণত ছাদের গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। পাখি ও বাদুড়ের উৎপাত বেশি হয়। বাদুড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য ফল বা সবজির ওপর পানি দিতে পারেন।

*বছরে অন্তত একবার পুরনো মাটি বদলিয়ে জৈব সারসহ নতুন মাটি দিতে হবে।

*মাঝে মধ্যে রোগাক্রান্ত, বড় হয়ে যাওয়া ডালপালা, পাতা সাবধানে কেটে দিতে হবে। এতে গাছপালা রোগমুক্ত থাকবে।

*ফুল ও সবজিতে প্রয়োজনমতো সার দিতে হবে। তবে আম ও পেয়ারার মতো ফলের ক্ষেত্রে বছরে অন্তত দু’বার পরিমাণ মতো সার দিতে হবে। একবার বর্ষার আগে, আরেকবার বর্ষার পরে হলে ভালো হয়_

*সার প্রয়োগের সময় মাটির আর্দ্রতা দেখে নিতে হবে।

*ছাদের বাগানে মিশ্র সার, গুটি ইউরিয়া, খৈল ইত্যাদি ব্যবহার করা ভালো।

*অবস্থা বুঝে গাছের গোড়ায় সপ্তাহে একবার চুনের পানি ব্যবহার করতে পারেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ঘোষণা দিয়েছেন, যে বাড়ির ছাদে বাগান থাকবে সে বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স দশ শতাংশ কম নেওয়া হবে। নগরপিতা যখন এমন সুযোগ দিচ্ছেন, তখন আপনি ছাদে বাগান করতে দেরি করছেন কেন? সবুজে সবুজে ভরে উঠুক শহরের প্রতিটি দালান।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: