ভিনদেশী মালটার চাষ করে সফলতা (ভিডিও)

পিরোজপুর সংবাদদাতা:
বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত ‘মালটা’ এখন দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পিরোজপুরে উৎপন্ন হচ্ছে। আর এ মালটা আকারেও বড়, খেতেও বেশ মিষ্টি। আর এ মালটা চাষে সফলতা দেখিয়েছেন পিরোজপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের শিক্ষিত চাষি অমলেশ রায়।

প্রায় ১৫ বছর ধরে কৃষিকাজে নিয়োজিত দুর্গাপুর গ্রামের চাষি অমলেশ রায় দুই বছর আগে ৪০০ মালটা গাছ রোপণের মধ্য দিয়ে পিরোজপুর অঞ্চলে মালটা চাষের সূচনা করেন। এ বছর সেই গাছে ফল দিতে শুরু করেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বাগানের ছোট ছোট গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে হালকা হলুদ ও সবুজ রঙের মালটা। গাছের এক একটি থোকায় ৫-৬টি বা তারও বেশি মালটা ঝুলছে। আধাপাকা এ ফল খেতে বেশ মিষ্টি। পুরোপুরি পাকা মালটা আরও মিষ্টি হবে বলে জানানেল চাষি অমলেশ। তিনি আরও জানান, প্রথম বছরেই ফলের আকার বেশ বড় হয়েছে এবং ফলনও ভালো। তবে এ বছরই নয়, আগামী বছর থেকে উৎপন্ন মালটা বাজারজাত করা হবে বলে তিনি আশাবাদী।

দুর্গাপুর গ্রামের মৃত অনন্ত কুমার রায়ের ছেলে অমলেশ রায় পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ১৯৯০ সালে ডিগ্রি পাস করে বরিশাল বিএম কলেজে মাস্টার্স এবং একই বছর বরিশাল ল কলেজে আইন বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে আর লেখাপড়া শেষ করতে পারেননি। অনেক চেষ্টা করে ভালো চাকরি না পেয়ে এলাকায় এসে শুরু করেন কৃজিকাজ।

অমলেশ বলেন, ধান চাষের পাশাপাশি প্রথমে কয়েক বছর নিজেদের প্রায় ৫ বিঘা জমিতে লাউ, কুমড়া, শিম, ঢেঁড়স, শসাসহ বিভিন্ন শাকসবজির চাষাবাদ করি। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপন্ন এসব শাকসবজি বিক্রি করে কয়েক বছরের মধ্যে বেশ লাভবান হই। এতে কৃষিকাজে আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। কৃষি বিভাগও নানা সহায়তা দিতে থাকে। এলাকায় একজন সফল কৃষক হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠি। কৃষিকাজ করে সফল হওয়ায় উপজেলা কৃষি অফিস, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান লাভ করায় ক্রেস্ট ও ১৫ হাজার টাকা পুরস্কার পাই।

অমলেশ জানান, ২০০৯ সালে শাকসবজির চাষ বাদ দিয়ে জমিতে কুল চাষ করতে চেয়েছিলাম। পরে রাজবাড়ী কলেজের প্রভাষক শ্যামল কুমার মণ্ডল বলেন কমলা চাষ করতে। নার্সারিতে কমলার চারা কিনতে গেলে স্বরূপকাঠীর নার্সারি মালিক আবদুল জলিল শেখ মালটা চাষের পরামর্শ দেন। তার নার্সারি থেকে পাকিস্তানি, ইন্ডিয়ান ও ভেড়াকাটা জাতের ৪০০ মালটা চারা এনে বাগান তৈরি করি। অমলেশ রায় আরও জানান, মালটার পাশাপাশি ২০১০ সালে আম, লিচু, আমড়া, সফেদা, আমলকীসহ নারিকেলের বাগানও করা হয়েছে। কোনো দুর্যোগ না হলে আগামী দু’বছরের মধ্যে তার মালটার বাগান থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশাবাদী।

তিনি জানান, তার মালাটা বাগান দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে। তারা মালটা চাষ করার পরামর্শ ও নানা খোঁজখবর নিচ্ছে। দুর্গাপুরসহ আশপাশের গ্রামের অনেকের কাছেই শিক্ষিত কৃষক অমলেশ যেন একটি দৃষ্টান্ত।

পিরোজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবদুল আমীন জানান, দুর্গাপুর গ্রামের অমলেশ রায় মালটা চাষ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।জানামতে, দক্ষিণাঞ্চলে এটাই বড় মালটা বাগান। রোপণের দুই বছরের মাথায় ফল আসাতে আমিও বিস্মিত। তার বাগানের ফলের আকারও বেশ বড় আর খেতে বেশ মিষ্টি। তিনি জানান, অমলেশের সফলতায় এ অঞ্চলে মালটা চাষ ব্যাপকতা লাভ করবে।

বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে…

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: