ইন্টার্ণ ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সিকৃবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
সেই ১৯৯৫ সালে ছিল পাঁচ হাজার টাকা, ২০১৬ সালেও ৫ হাজার! সেই সময়ে যা ছিল প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার বেতনের চেয়েও বেশি। এই বিশ বছরে সবার বেতন চারগুণ বাড়লেও এক পয়সা বাড়েনি ভেটেরিনারি ইন্টার্ণ ডাক্তারদের বেতন-ভাতা বরং বেড়েছে লাঞ্ছনা।

বেতন-ভাতা ১৬ হাজার টাকায় উন্নীত করার জন্য রবিবার সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স অনুষদের ১৯তম ব্যাচের উদ্যোগে অনুষদের সকল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

একাডেমিক চার বছর পড়াশোনার পর একবছর শিক্ষানবিশ ডাক্তার হিসেবে সারাদেশে প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে সেবা দেন সিকৃবির ডিভিএম গ্রাজুয়েটরা। ১৫-২০ দিন করে প্রায় চৌদ্দ-পনেরটি এলাকায় তাঁদের পাঠানো হয়।

১৯৯৫ সালে ৫০০০ টাকা ছিল যথেষ্ট কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষিতে এই নতুন জায়গাগুলোতে বাসস্থান, খাবারসহ যাতায়ত খরচের সংস্থান এই সামান্য অর্থ দিয়ে সংস্থান করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

মনজুর কাদের চৌধুরীর পরিচালনায় মানববন্ধন সমাবেশে দাবি তুলে ধরেন ১৯তম ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধি মুস্তাসিম ফেমাস ও অনুপ চৌধুরী। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ডঃ মাহবুব-ই-এলাহী বলেন- ‘প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার মূল বেতনের সমপরিমান ভাতা ইন্টার্ণ ডাক্তারদের দেয়া অতি জরুরী। এ সময় শিক্ষার্থীদের খরচ অনেকগুন বেড়ে যায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের প্রতি এ আহবান জানান।’

‘যতদিন যায় ততই গুনগত উন্নতি হয়। সবার বেতন বাড়ে কিন্তু আমাদের নিয়ে কর্তৃপক্ষ ভাবে না, অথচ এই কর্তৃপক্ষের সৃষ্টি আমাদেরকে নিয়ে ভাবার জন্য’ -বলছিলেন ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবির।

উল্লেখ্য যে, ১৯৯৫ সালে বাকৃবির প্রাণি চিকিৎসা ও পশুপালন বিষয়ক আলাদা সিলেবাস কাঠামো থেকে বেরিয়ে দুটি বিষয়কে সমন্বিত করে একই সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত করে সিলেট সরকারী ভেটেরিনারি কলেজ প্রতিষ্ঠা হয় যা পরবর্তীতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাতৃ অনুষদ ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স অনুষদ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় হলেও ডিভিএম শিক্ষার্থীদের কোন সু্যােগ সুবিধা বাড়েনি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। বরং গত দু-বছর আগে ভেটেরিনারি অনুষদের ভর্তি ফিও বাড়ানো হয় অযোক্তিকভাবে। শিক্ষার্থীদের দাবি শীঘ্রই আমলে নেয়া হবে বলে আশা করেন শিক্ষার্থীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: