একজন ‘পেঁপে বাদশা’র গল্পকথা (ভিডিও)

পাবনা প্রতিনিধি:
পেঁপে আবাদ করে কোটিপতি হয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার শাহজাহান আলী। মা-বাবার দেওয়া এই নামে তাঁকে চেনে শুধু পরিচিতরাই। আর এলাকার মানুষের কাছে তিনি ‘পেঁপে বাদশা’ নামে পরিচিত। প্রচলিত ফসলের বাইরে পেঁপে আবাদ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

কঠোর পরিশ্রম করে ৩০ বছরের মাথায় দশমিক ৮৫ একরের খামার ৫০ একরের বিশাল এক কৃষি খামারে পরিণত করেছেন শাহজাহান আলী। এই স্বপ্নের খামারের নাম দিয়েছেন ‘মা-মনি কৃষি খামার’।
খামারে সফলতা পেলেও লেখাপড়ায় খুব একটা ক্ষতি হয়নি তাঁর। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কাছেও এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছেন তিনি।
‘মা-মনি কৃষি খামার’ পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখা যায়, গাছ ভরা সবুজ পেঁপের দৃশ্য। আলাপকালে পেঁপে বাদশা জানান, চলতি বছর তিনি মোট ৫০ বিঘা জমিতে পেঁপে আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় ৪০০টি পেঁপে গাছ আছে। প্রতিটি গাছে গড়ে দুই থেকে সোয়া দুই মণ করে পেঁপে হয়। বাজার দর মণপ্রতি ২৫০ টাকা হিসাবে এ বছর শুধু পেঁপে বিক্রি করেই কোটিপতি হবেন ‘পেঁপে বাদশা’ এমনটাই ধারণা তাঁর চেনাজানা মানুষদের।

জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়েনের প্রত্যন্ত গ্রাম বক্তারপুরের আবু জাফর প্রামাণিকের ছেলে শাহজাহান আলী কিশোর বয়স থেকে কৃষিকাজে মনোযোগী হন। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া দশমিক ৮৫ একর জমি আবাদের মধ্য দিয়ে তাঁর কৃষি জগতে আবির্ভাব। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি মনোযোগী হন নিজস্ব খামার গড়ার কাজে। পাশাপাশি লেখাপড়াও চলতে থাকে। প্রথম থেকেই প্রচলিত ধারার আবাদে না গিয়ে তিনি মনোযোগী হন ব্যতিক্রমী আবাদে। এতে সফলতাও আসতে থাকে।

আলাপকালে পেঁপে বাদশার কাছ থেকে কৃষিকাজ শেখা চাষি জাহিদুল ইসলাম জানান, সাম্প্রতিককালে সলিমপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার অনেকেই কৃষিবিষয়ে খ্যাতি লাভ করলেও তাঁরা সবাই কাজ শিখেছেন পেঁপে বাদশার কাছে। প্রতিদিন বাদশার খামার থেকে ট্রাকে করে পেঁপে চলে যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বাজার-হাটে। শুধু পেঁপেই নয়, পেঁপে বাদশার খামারে ব্যতিক্রমী ফসলের সমারোহের মধ্যে রয়েছে মাদ্রাজি ওল, রেড ক্যাবিজ, ব্রুকলি, স্যালুটি, এ্যাসপারাগাসসহ অনেক কিছু। এর বাইরে বাউকুল, আপেল কুল, পেয়ারা, গাজর এগুলো তো আছেই।

খুব অল্প পরিসরে শুরু করা পেঁপে বাদশার মা-মনি কৃষি খামারের সাফল্য এলাকার কৃষক ও শিক্ষিত বেকার যুবকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। এই খামারের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে স্থানীয় চাষিদের মধ্যে অনেকেই পেঁপের পাশাপাশি বড়ই, লিচু, গাজর, শিম, কপি ইত্যাদি আবাদ করে খ্যাতির পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হয়েছেন।

এর আগে পেঁপে চাষ করে সফলতার কৃতিত্বের জন্য রাষ্ট্রপতি ব্রোঞ্জ পদক এবং বঙ্গবন্ধু জাতীয় রোপ্য ও স্বর্ণ পদকে ভূষিত হয়েছেন ঈশ্বরদীর সফল চাষি আলহাজ শাহজাহান আলী পেঁপে বাদশা। সেই থেকে এলাকার মানুষেরা তাকে পেঁপে বাদশা হিসেবে চেনেন এবং জানেন। পেঁপে নয় ব্রোকলী, চাইনিজ ক্যাবেজ, লাল বাঁধাকপি, রঙিন লেটুস, সবুজ লেটুস ও লেটুস চাষ করে এবার সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন। বাণিজ্যিকভাবে এই বিদেশি সবজিগুলো চাষ করে যে লাভবান হওয়া যায় সেটাই প্রমাণ করেছেন আধুনিক এই কৃষক।

তার মালিকানাধীন মা-মণি কৃষি খামারে উৎপাদিত এই সবজিগুলো রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত দোকানে বিক্রি শুরু হয়েছে, দামও পাচ্ছেন অন্য সবজির চাইতে বেশ ভালো।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: