ফেসবুকে আসক্ত হয়ে টেক্সবুক ভুলে যাবেন না: জুনায়েদ আহমেদ পলক

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক:
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন, প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক দেশের মূল হলো শিক্ষা। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে অবশ্যই প্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞানকে প্রাধ্যান্য দিয়ে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজের উন্নয়নে তথা দেশের উন্নয়নে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবদানের কথা বলতে গেলে সঙ্গত কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কথা বলতে হয়। যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য তিনি একযোগে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেছিলেন। সমসাময়িক যুগে এমন সাহসী পদক্ষেপ নিতে অন্য কাউকে দেখা যায়নি। শিক্ষায় যখন নৈতিকতা বা মূল্যবোধের কথা আলোচনা করা হয় তখনো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কথা উল্লেখ করতে হয়। তিনি সর্বপ্রথম একটা শিক্ষা নীতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন।

শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওস্থ আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ম জাতীয় শিক্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য দেন। জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে হারানোর পর প্রায় ২৫ বছর দেশের শিক্ষার উন্নয়নে আর কেউ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকদের উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেন। একদিনে ২৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেছেন। পার্বত্য অঞ্চলে রেসিডেন্সিয়াল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষা ব্যাবস্থার উন্নয়নের জন্য তিনি নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ৩৫ বছরের নিচের বয়সের। এই বিশাল তারুণ্য শক্তিকে সঠিক কাজে লাগাতে পারলে সুখি সমৃদ্ধ দেশ গঠন করা যাবে। এ লক্ষে তরুণদের প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বৃহত্তর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তিকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। আরো দশ হাজার ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে আমেরিকা, ইউরোপ এবং জাপানে বিশ লাখ প্রোগ্রামার প্রয়োজন পড়বে। সেখানে আমাদের কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। দেশে বসেই এসব কাজ করা যাবে। দেশের মানুষকে প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তথ্য প্রযুক্তিতে অবদান রাখার জন্য তিনি জাতিসংঘের আইসিটি পুরষ্কার অর্জন করেছেন। তিনি আরো বলেন, ছাত্রছাত্রীরা যেন ফেসবুকে আসক্ত হয়ে টেক্সবুক ভুলে না যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। চারটি মূল পিলারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- ই-গভর্নেন্স, হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, কানেক্টিভিটি এবং ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ লিটারেসি এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল আলম বলেন, যোগাযোগ হলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের যে প্রতিটা জ্ঞান আমরা দিচ্ছি সেটাকে ছাত্ররা নিতে পারছে কি না অর্থাৎ আমাদের সাথে কমিউনিকেট করতে পারছে কিনা সে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশ লিটারেসি এসোসিয়েশন সেই কাজটিই করছে। এজন্য শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতে হবে।

শিক্ষক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এম.এম সফিউল্লাহ এবং গণসাক্ষরতা অভিযানে নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লিটারেসি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নুরুল ইসলাম এবং সম্মেলন কার্যক্রম উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক ড. এম. এহ্ছানুর রহমান।

উল্লেখ্য, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণের ভূমিকা, যথাযথ শিখন-শিক্ষণ পদ্ধতি অনুশীলন, আইসিটি’র ব্যবহার ও পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের নানানদিক তুলে ধরার একাডেমিক প্লাটফর্ম হিসেবে বাংলাদেশ লিটারেসি এসোসিয়েশন (ইন্টারন্যাশনাল লিটারেসি এসোসিয়েশনের বাংলাদেশ চাপ্টার) ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক সম্মেলন আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭-৮ অক্টোবর ‘শিক্ষায় নৈতিকতা ও পেশাগত উন্নয়ন’ শিরোনামে ৫ম জাতীয় শিক্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: