আখেরি মোনাজাত দিয়ে শেষ হলো গাইবান্ধার মিনি ইজতেমা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
আখেরী মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে গাইবান্ধার সদর উপজেলার তুলসীঘাট কাশিনাথ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিন দিনব্যাপী অঞ্চলিক মিনি বিশ্ব ইজতেমা শেষ হয়েছে। এসময় আগত লাখো মুসল্লির আমিন, আমিন ধ্বনিতে ইজতেমাস্থলসহ গোটা তুলসীঘাট এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে।
শনিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়। এছাড়া ধর্মপ্রাণ লাখো মুসল্লিরা চোঁখের পানি ঝড়িয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এদিকে, আখেরি মোনাজাতে শরীক হওয়ার জন্য শনিবার ভোর থেকেই গাইবান্ধা জেলা ছাড়াও উত্তরাঞ্চলসহ দুর-দুরান্ত থেকে বিভিন্ন যানবাহনে ইজতেমাস্থলে আসেন মুসল্লিরা। ইজতেমার মূলস্থলে স্থান সংকুলন না হওয়ায় কাশিনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ, আশপাশের ফাঁকা জায়গা, হেলিপ্যাড, বাড়ীর ছাদ, গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী পাকা সড়ক, তুলসীঘাট-সাদুল্যাপুর পাকা সড়কসহ বিভিন্নস্থানে দাঁড়িয়ে মোনাজাতে অংশ নেয় মুসল্লিরা।
এরআগে, জেলা তাবলিগ জামায়াতের আয়োজনে বৃহস্পতিবার ফজর থেকে আম বয়ানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। তিনদিন ধরে তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা আশরাফ হোসেন, মাওলানা হোসাইন জাকির, ইঞ্জিনিয়ার ইউনুস শিকদারসহ অন্যান্য তাবলিগ জামায়াতের মুরব্বীরা বয়ান পেশ করেন।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান জানান, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইজতেমা শেষ হয়েছে। ইজতেমায় মুসল্লিদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার পুলিশের একাধিক টিম, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও গ্রাম পুলিশের সদস্য নিয়োজিত ছিল। এছাড়া নিরাপত্তা ও মুসল্লিদের সার্বিক তত্তাবধানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ তাবলিগ জামায়াতের প্রায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করে।
জেলা ইজতেমা আয়োজক কমিটির পক্ষে খুরশিদ বিন আতা খশরু জানান, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় গাইবান্ধাসহ দেশের ৩২টি জেলায় পর্যায়ক্রমে এ রকম মিনি বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। গাইবান্ধায় দ্বিতীয় বারেরমতো ইজতেমায় জেলার তাবলিগ জামায়াতের ৯০টি দাওয়াতি জামাত ও একটি বিদেশি জামাত উপস্থিত ছিলেন।

