১১ বছরেও ক্ষতিপূরণ মিলেনি টেংরাটিলার বাসিন্দাদের
ডেস্ক নিউজ:
সিলেটের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ১১ বছর পূর্ণ হতে চললেও আজও ক্ষতিপূরণ পাননি ক্ষতিগ্রস্ত টেংরাটিলার বাসিন্দারা। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এ বিস্ফোরণের ঘটনার প্রায় এক যুগ পরও সেই ক্ষত চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছে টেংরাটিলার মানুষ।
২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৩টার দিকে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে প্রথম দুর্ঘটনা ঘটে। গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন কূপের রিগ ভেঙে আগুন ২০০ থেকে ৩০০ ফুট ওঠানামা করছিল আগুন। পরে এক মাসেরও বেশি সময় জ্বলার পর আপনা-আপনি নিভে যায় আগুন।
একই বছরের ২৩ জুন রাত ২টায় দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কূপ এলাকার তিন কিলোমিটার দূরেও ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। প্রথম দফায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠলে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুই দফা অগ্নিকাণ্ডে গ্যাসফিল্ডের বিপুলপরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় ৫ দশমিক ৮৯ থেকে কমপক্ষে ৫২ বিলিয়ন কিউসেক রিজার্ভ গ্যাস। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের টেংরাটিলা, আজবপুর, গিরিশনগর, কৈয়াজুরি, টেংরাবাজার এবং শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ি, গাছগাছালি ও হাওরের ফসলি জমি।
টেংরাটিলার আশপাশের গ্রামের ফাটল দিয়ে গ্যাস উদগীরণ শুরু হয়, যা আজও অব্যাহত আছে। এর প্রভাবে এলাকার জীব-বৈচিত্র্য ক্রমেই বিনষ্ট হচ্ছে এবং বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন।
টেংরাটিলা দাবি আদায় সংগ্রাম পরিষদ সিলেটের সভাপতি নুরুল আমিন বলেন, ‘১১ বছর আগে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দু’দফা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খননকারী প্রতিষ্ঠান কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো যে ক্ষতি করেছে তা কোনোদিন পূরণ হবে না। টেংরাটিলায় এখনও যত্রতত্র গ্যাসের বুদবুদ উঠছে। বর্ষার মৌসুমে তা দৃশ্যমান হয় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে’।
তিনি জানান, বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে গ্যাসের উৎকট গন্ধে মানুষ শ্বাস নিতে পারছেন না। এতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়ে পড়েছে। গ্যাস উদগীরণের ফলে নানা প্রজাতির গাছ মরে যাচ্ছে। অনতিবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনরায় গ্যাস কূপ খনন শুরু করার দাবি করেন তিনি। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি আরও জানান, এই অগ্নিকাণ্ডে টেংরাটিলা, আজবপুর, খইয়াজুড়ি, শান্তিপুর ও গিরিশ নগরের ৬১৬টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত বলে সরকারিভাবে চিহ্নিত করা হলেও এই পরিবারগুলো কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো অগ্নিকাণ্ডের পর সিঙ্গাপুর থেকে বীমার টাকা আদায় করে নিয়ে তারা পর্যায়ক্রমে টেংরাটিলা থেকে চলে যায়।
নুরুল আমিন বলেন, ‘টেংরাটিলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার বিশিষ্টজনেরা’।
জানা গেছে, গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার অপরিকল্পিতভাবে বাড়ির উঠানে ও পুকুরে ছোট ছোট প্লাস্টিকের পাইপ পুঁতে রেখে রান্নার চুলোয় গ্যাস ব্যবহার করে থাকে।
গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড পরিদর্শনে আসে ১১ সদস্যের বিদেশি একটি প্রতিনিধিদল। টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড বিস্ফোরণের পর আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে নাইকোর দায়ের করা মামলা মোকাবিলার জন্য পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সর নিয়োজিত কাউন্সেলিং প্রতিষ্ঠানের ১১ সদস্যের ওই দল টেংরাটিলা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
প্রায় এক সপ্তাহ এলাকায় অবস্থান করে তারা টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ ও স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। সে সময় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ভূ-তত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: ইত্তেফাক

