রাঙামাটিতে বিশুদ্ধ খাবার পানি, জ্বালানি তেলের সংকট
রাঙামাটি প্রতিনিধি:
বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় রাঙামাটিতে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব দেখা দিয়েছে। সোমবার থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় জ্বালানি তেলের চাহিদাও বেড়ে গেছে। এরইমধ্যে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পাহাড় ধস ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অস্বাভাবিকের হওয়ার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাঙামাটি শহরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে। ঠিকই এমনই অভিযোগ ক্রেতাদের। চাল, ডাল, মোম, ভোজ্য তেল, জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বেড়েছে অভ্যন্তরীণ গাড়ি ভাড়াও।
বনরুপায় বাজার করতে আসা কনক দেবনাথ জানান, ৫০ টাকার চালের দাম ৭৫ টাকা হয়ে গেছে, বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ টাকা। ১৫ টাকার আলু দেখছি ৩৫ টাকা হয়ে গেছে। এছাড়া সকল নিত্য পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে রাঙামাটির মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগবে।
রাঙামাটির সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএস মনিরুজ্জামান বলেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দুর্যোগ বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়েছে। নিত্যপণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩০০ মিটার রাস্তার অংশ ধসে পড়েছে। রাস্তা ঠিক করতে আরও তিন-চারদিন সময় লাগতে পারে। রাস্তা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই হয়ে বোটে করে মানুষ চলাচল করছে। অভ্যন্তরীণভাবে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল আছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ভাড়া বাড়িয়েছে চালকরা।
এদিকে সোমবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় শহরের পরিস্থিতি এখন পুরো অস্বাভাবিক। রাঙামাটির বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
নিম্নভাপের প্রভাবে গত সোমবার সকাল থেকে টানা বর্ষণে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে বিপর্যয়ের কারণে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তৃতীয় দিনের উদ্ধার কাজে নিখোঁজ সেনা সদস্য আজিজুর রহমান ও অন্য চার সেনা সদস্যসহ মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৮ জনে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সব দিকেই দেখা দিয়েছে ধস। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী জেলা খাগড়াছড়ির সাথে এখনো সড়ক যোগাযোগ বিঘ্ন রয়েছে।

