বাকৃবিতে আবাসিক হলের সিট দখল নিয়ে দলের কর্মীকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ

বাকৃবি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আবাসিক হলের সিট দখল নিয়ে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিটেয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈশা খাঁ হলে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আবাসিক ঈশা খাঁ হলের পশ্চিম ভবনের ১০৯ নম্বর রুম দীর্ঘ দিনের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান। হাসান ভেটেরিনারি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রথম থেকেই সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। সম্প্রতি ওই রুমে জুনিয়র কর্মী তোলা হবে বলে কক্ষটি খালি করার জন্য বলে শাখা ছাত্রলীগ ও ওই হলের নেতাকর্মীরা। পরে খালি করতে বাধ্য করা হলে হাসান তার পরিচিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেতার দ্বারা মোবাইলে রুম যেন খালি না করা হয় বলানো হয় হলের নেতাদের। এতে হলের নেতাকর্মীরা ক্ষীপ্ত হয়ে হাসানকে ২০৯ নম্বর রুমে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল কবির পায়েল, জুলফিকার আলী খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আলম সরকার এলিন, ক্রীড়া সম্পাদক দীপ উজ্জল কর, আপ্যায়ন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান অপু, উপ বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক রূপক চন্দ্র দাস, আতিকুল হক ও মাজেদ।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হাসানকে মারধোর করলে সে দৌড়ে পালিয়ে আসে। পরে তার বন্ধুরা তাকে আহত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ারে নিয়ে আসে। পরে প্রক্টর এসে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে পাঠিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, বারবার প্রভোস্টকে ফোন দেওয়ার পরও তিনি ধরেননি।

এদিকে সহ-সভাপতি এনামুল কবির পায়েল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাসনের মানসিক সমস্যা রয়েছে। সে নেশা করে এবং বিভিন্ন জুয়ার আসরে তার যাতায়েত রয়েছে। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী শেষ মোড়ে অনেকের সঙ্গে বিপিএল নিয়ে জুয়া ধরে হেরে অনেক টাকা পাওনা হয়েছে। তারা আমাদের জানালে হলের ছোট ভাই হিসাবে রুমে ডেকে বুঝিয়েছি। কিন্তু সে না বুঝে উল্টা আমাদের মারতে আসে। এসময় ছোট ভাইরা তাকে প্রতিহত করলে সে সামান্য আহত হয়। এতে আমাদের একজন আহত হয়েছে।

ভুক্তভোগী মাহমুদুল হাসানকে বার বার ফোন দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাকৃবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. রুবেল বলেন, হাসান কোনও দিনই ছাত্রলীগ কর্মী ছিল না। সে জুয়ায় লাখ লাখ টাকা হারার পর হলের নেতারা তাকে ভালো হওয়ার জন্য বুঝিয়েছে।

এ বিষয়ে ঈশা খাঁ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, কেউ আমার সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করেনি। আমার সঙ্গে এসে কথা বললে পরে ব্যবস্থা নিব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান খোকন বলেন, হলের ছাত্র সংক্রন্ত বিষয় কোনও রাজনৈতিক ইস্যু নয়। এটি প্রভোস্ট দেখবেন। আগে তার সঙ্গে কথা বলো। পরে আমি এখন ব্যস্ত বলে তিনি ফোন রেখে দেন।

  •  
  •  
  •  
  •