শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি নেই দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে

মো. আব্দুর রহমান:
সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকলেও ছুটি থাকে না বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। এক সপ্তাহের সেমিস্টার সমাপণী ছুটি থাকলেও বিভিন্ন লেভেলের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এর ক্লাস-পরীক্ষা চলমান থাকে। ফলে পরীক্ষা না থাকায় শিক্ষার্থীরা ছুটি পেলেও শিক্ষকদের ছুটি মেলে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষকরা এসময়টিতে ব্যস্ত থাকেন পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফলাফল তৈরিতে। ফলে বছরের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যখন শীতকালীন, গ্রীষ্মকালীন ও সেমিস্টার সমাপণী ছুটি উপভোগ করতে থাকেন তখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকেন একাডেমিক কাজে। উপরন্তু স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবং ফলাফল তৈরীতে অটোমেশন পদ্ধতি না থাকায় সেমিস্টার সমাপন্তে বিভাগগুলোতে কাজের অত্যাধিক চাপ পোহাতে হয় শিক্ষকদের।

আবার কিছু কৃষি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকলেও সেমিস্টার পরীক্ষা চলমান থাকে। ফলে শিক্ষকদের ছুটি ভোগ করার উপায় থাকে না।

জানা গেছে, এবছর গ্রীষ্মকালীন ছুটি হিসেবে (রমযানের ছুটি সহ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৪১ দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৬১ দিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ১৩ দিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ২৪ দিন, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ দিন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৬ দিন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ৩২ দিন ছুটি ছিল।

এছাড়া শীতকালীন ও বড়দিনের জন্য প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭-১০দিন ছুটি ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২দিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ১২দিন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ৭দিন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ৮দিন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১০দিনের ছুটি পেয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বড়দিনের ছুটিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও নাই শীতকালীন ছুটি।

আবার, সেমিস্টার সিস্টেমের কারণে অনেকসময় এক সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়ে যায়। এতে সারাবছর ক্লাস-পরীক্ষার মধ্যে থাকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ফলে বিনোদনের অভাবে তাদের মনের প্রফূল্লতা আসে না। ফলশ্রুতিকে সামাজিক ও একাডেমিক কাজে পুরোপুরি নিজেদের বিকশিত করতে পারে না।

(Visited 2,171 times, 2 visits today)