ঘুরে এলাম সমুদ্রের দেশ কক্সবাজার
মো.আব্দুল ওয়াহাব, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়:
মন চায় পাখা মেলে উড়তে, নিজের বাধাধরা গন্ডি থেকে বেরিয়ে প্রাকৃতিক প্রশান্তির মাঝে নিজেকে মেলে ধরতে। কিন্তু সেমিষ্টার সিস্টেমে সময় বের করা বড়ই দুষ্কর। সারাদিন ক্লাস, প্রেকটিক্যাল, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝেই যদি হঠাৎ করে একটা ঘুরাঘুরির ব্যাবস্থা হয়ে যায় , তাহলে কার না ভাল লাগে। আর তা যদি হয় সমুদ্রের দেশ, স্বপ্নের সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। ক্লাস টেস্টের প্রেসারে সবাই যেন ক্লান্ত হয়ে উঠেছে। এই ক্লান্তির অবসাদ কে ধুয়ে ফেলার জন্য সমুদ্রের নীল জল যেন আমাদের ডাকছিল। আর আমরাও সেই ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম পশুপালন অনুষদের লেভেল-১ সেমিষ্টার-২ এর শিক্ষার্থীরা। জ্যু এন্ড ওয়াইল্ড লাইফ ম্যানেজমেন্ট কোর্সের আন্ডারে স্টাডি ট্যুরের আয়োজন করেছিল পশু বিজ্ঞান বিভাগ।
পশুপালন অনুষদের লেভেল-১ সেমিষ্টার-২ এর শিক্ষার্থী ইমরান, সাদিয়া ফারিন, পবিত্র, জাহিদ তাদের ট্যুরের কাহিনী বর্ণনা করছিল এভাবেই। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যলয়ের পশুপালন অনুষদের লেভেল-১ সেমিষ্টার-২ এর শিক্ষার্থীরা গিয়েছিলাম পর্যটন নগরী কক্সবাজার।
বিশ্ববিদ্যালয় লাইফের প্রথম ট্যুর। ভাবতেই যেন মনের মধ্যে একটি শিহরণ খেলে যাচ্ছে। ট্যুরের বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই গ্রুপমেটদের সাথে কত প্ল্যান। সেখানে গিয়ে কি কি করব, কি নিয়ে যাব। আরও কত কি। ট্যুরের আগের রাত্রে যেন ঘুম আসছিলনা। অবশেষে সেই কাঙ্খিত সময়ের দেখা পেলাম। এবারে রওনা দেওয়ার পালা।
দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অমরা সবাই ফ্যাকাল্টির সামনে উপস্থিত হলাম। বিকেল ৫টায় বাস ছাড়ার কথা থাকলেও তিন ঘন্টা লেট হল। এই তিনটি ঘন্টা যে কেমন অস্থিরতার মাঝে কেটেছে বলে বুঝাতে পারব না। সারাক্ষন মানসিক তাড়া, কখন পৌঁছাব সেই সপ্নের নীল জলের দেশে।অবশেষে রাত ৮টায় ক্যাম্পাস থেকে বাস ছাড়ল সকলের বহুল কাঙ্খিত কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে।
বন্ধুরা সব এক জায়গায়, নাচ গান না হলে কি চলে। বাস ছাড়ার পর থেকেই শুরু হল নাচ, গান, কৌতুক। রাত গভীর হচ্ছে, কারও চোখে নেই ঘুমের আভাস, সবার চোখের ঘুম যেন নীলজলে খেলা করছিল। রাত ২টার সময় বাস গিয়ে থামল কুমিল্লার এক হাইওয়ে হোটেলে। সেখানে নাস্তা করে অবার রওনা দিলাম । সকাল ৬ টায় পৌঁছলাম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, চট্টগ্রাম। নতুন সকাল, নতুন শহর, অর সাফারি পার্কের নতুন নতুন প্রাণী গুলার সাথে নিশি জাগ্রত নিজেকেও যেন প্রাণী প্রাণী লাগছিল। যাই হোক সাফারী পার্কের প্রাণী গুলার সাথে সাক্ষাৎ শেষে রওনা দিলাম কক্সবাজারের দিকে। দুপুর ১টার দিকে পৌঁছলাম কক্সবাজার। নির্ধারিত হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে একটু বিশ্রামের পর বের হলাম পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকতের বুকে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ গুলা একের পর এক আছড়ে পড়ছে পায়ের কাছে। কিছুক্ষনের মাঝেই সমুদ্রের সাথেএক অদৃশ্য সখ্যতা গড়ে উঠল সবার। সন্ধ্যায় বার্মিজ মার্কেট ঘুরাঘুরি ও রাতের খাবার শেষ সখ্যতার টানে আবারও ছুটে গেলাম রাতের সমুদ্রের কাছে।
রাতে নামমাত্র একটু ঘুমিয়ে সকালেই বেরিয়ে পড়লাম সমুদ্রের নীল জলের সাথে নিজেকে মেলে ধরতে। আমাদের প্রায় কারোরই এর আগে সমুদ্র সৈকত দেখার অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই সবাই মিলে খুব মজা করলাম। তারপর রওনাদিলাম ইনানি সমুদ্র সৈকতের দিকে। কক্সবাজারের রেস্টুরেন্টের সামুদ্রিক মাছ, হিমছড়ির ৩শ’ ফুট উঁচু পাহাড়, ইনানী সমুদ্র সৈকত থেকে সূর্যাস্ত উপভোগ করা ছিল মনে রাখার মত।
হিমছড়ির পাহাড়, পাহাড়ের গায়ে লেগে থাকা সবুজ, সমুদ্রের নীল জলরাশি, সব মিলিয়ে সৃষ্টিকর্তার তৈরি স্বর্গের একটি খন্ড যেন ছিটকে পড়েছে এই কক্সবাজারের মাটিতে।
ইচ্ছা না থাকলেও, অনাবিল প্রশান্তির এইভূখন্ড থেকে এবারে ফিরার পালা। রাত ৮ টার দিকে রওনা দিলাম সেই চিরসবুজ ক্যাম্পাসের দিকে। সত্যি এই ট্যুরে অতিবাহিত সময় গুলা কোন দিনও ভুলার নয়। সময় গুলা আজীবন বাধা থাকবে স্মৃতির মনি কোঠায়।


