করোনা চিকিৎসায় উপযোগী করা হচ্ছে বাকৃবি হেল্থ কেয়ার সেন্টারকে

বাকৃবি প্রতিনিধি:

দেশের বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে চিকিৎসা সেবা দিতে এবং সরকারের উপর চাপ কমাতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) হেল্থ কেয়ার সেন্টারকে করোনা চিকিৎসায় উপযোগী করতে উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে করোনায় ব্যবহৃত মানসম্মত ঔষধপত্র, থার্মাল স্ক্যানার, অটোমেটিক মেস নেবুলাইজার, পালস-অক্সিমিটার, অত্যাধুনিক অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী পিপিই) ক্রয় সহ প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। মজুদ আছে সামান্য কিছু অক্সিজেন সিলিন্ডারও। তবে বাজারে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে আরও কিছু অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ও ফ্লো-মিটার কেনার প্রয়োজন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় হেল্থ কেয়ার সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ ফয়েজ আহমদ।

হেল্থ কেয়ার সেন্টারে ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আইসোলেশন রুমে প্যাশেন্ট বেড সহ অনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র ক্রয় করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে করোনায় আক্রান্ত জঠিল রোগী ব্যতীত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের রোগীর সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে বলে জানান ডাঃ ফয়েজ। তবে চিকিৎসক সংকট থাকায় পরিপূর্ণ সেবা কতটুকু নিশ্চিত করা যাবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ সুচিকিৎসা পেতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপতালে নব্য নির্মিত বহুতল ভবনটিতে ২০০ টি নতুন শয্যা রয়েছে, সেখানে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত শয্যাগুলো যাতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কেউ প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারেন সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় হেল্থ কেয়ার সেন্টার সুত্রে জানা গেছে।

বাকৃবি উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হেল্থ কেয়ার সেন্টারকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সকলেই যাতে সুচিকিৎসা পান এজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া প্লাজমা থেরাপীর জন্য যেসব যন্ত্রপাতি দরকার তা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে”। করোনা রোগীর জন্য আলাদা একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।”

প্লাজমা সংক্রান্ত বিষয়ে ফিশারীজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. হারুনুর রশীদ বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হচ্ছে, তাদের ব্লাড ট্রান্সফিউশনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে। শুধু মাত্র প্লাজমা থেরাপি মেশিন পাওয়া গেলে করোনায় আক্রান্তদের প্লাজমা চিকিৎসা চালু করা যাবে। এছাড়া করোনায় বাকৃবি’র কেউ আক্রান্ত হলে তার দ্রুত সুচিকিৎসা ও সহযোগিতার পাশাপাশি কন্টাক ট্রেসিং বা উৎস খুঁজে বের করা এবং আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা সম্ভাব্য সকলকে দ্রুত টেস্টের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাকৃবি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ টাক্সফোর্স এর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ জসিমউদ্দিন খান বলেন, “করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে ইতিমধ্যে কিছু প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি এবং যে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।”

বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. ফরিদা ইয়াসমীন বারি বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তাগিদ দিচ্ছি এবং মাননীয় উপাচার্য সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেষ্ট হাউজের কয়েকটি কক্ষকে আপাতত জরুরীভিত্তিতে আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে প্রস্তত রাখতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া হেল্থকেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক ও টেকনোলজিষ্টদের করোনা চিকিৎসা সেবায় উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের কথাও বলা হয়েছে ।”

বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব গাছ অ্যাজমা সমস্যা বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা সৃষ্টি করে তা কেটে ফেলার অনুরোধ করেন বাকৃবিতে অধ্যায়নরত অনেক শিক্ষার্থী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিতেরও অনুরোধ জানান তারা ।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই করোনা টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রদান করে আসছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাবে ফেইস শিল্ড তৈরি করে বিনামূল্যে চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীসহ করোনায় সম্মুখযোদ্ধাদের সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

  •  
  •  
  •  
  •