চট্টগ্রামের ৪৪২ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পেয়েও ১ম তালিকায় ঠাঁই মেলেনি

নিউজ ডেস্কঃ

এসএসসিতে সর্বোচ্চ জিপিএ (জিপিএ-৫) পেয়েও একাদশে ভর্তির প্রথম পর্যায়ে মনোনীতদের তালিকায় ঠাঁই মেলেনি চট্টগ্রামের ৪৪২ জন শিক্ষার্থীর। কোন কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন পেতে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে তাদের। ওই দিন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি।

এর আগে ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২য় দফায় পুনরায় আবেদন করতে হবে এসব শিক্ষার্থীকে। তবে ২য় দফায় আবেদনকালে তাদের আর আবেদন ফি দিতে হবে না। অর্থাৎ কলেজের পছন্দক্রম পরিবর্তন, নতুন কলেজ যুক্তকরণ বা কোন কলেজ বাদ দেয়ার মাধ্যমে আগের (প্রথম দফায় করা) আবেদনটি আপডেট বা সংশোধন করলেই চলবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েও সারাদেশে ৯ হাজার ২১৫ জন শিক্ষার্থী প্রথম তালিকায় কোন কলেজ পায়নি। এর মধ্যে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৩ হাজার ৮০০ জন জিপিএ-৫ ধারী রয়েছে। আর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এ সংখ্যা ৪৪২ জন। সর্বোচ্চ দশটি কলেজ পছন্দক্রম দিয়ে আবেদনের সুযোগ থাকলেও এসব শিক্ষার্থী আবেদনে কম সংখ্যক কলেজ পছন্দ দেয়ায় এমনটি ঘটেছে বলে মনে করেন ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক বলেন, সর্বোচ্চ দশটি কলেজে আবেদনের সুযোগ থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের ক্ষেত্রে ৫/৬ টির বেশি কলেজ দেয়নি। তাদের ধারণা ছিল জিপিএ-৫ পাওয়ায় ৫/৬টি কলেজে আবেদন করলেই হবে। আর বেশি করার দরকার নেই। কিন্তু যেসব কলেজে তারা আবেদন করেছে সেসব কলেজে তাদের তুলনায় বেশি নম্বর প্রাপ্ত আবেদনকারীর সংখ্যা হয়তো বেশি ছিল। যার কারণে আবেদন করা ওই ৫/৬টি কলেজে তাদের সুযোগ হয়নি। কিন্তু সর্বোচ্চ সংখ্যক (দশটি) কলেজে আবেদন করলে এ সমস্যা হতো না।

আবেদন চলাকালীন সর্বোচ্চ সংখ্যক কলেজ পছন্দ দিয়ে আবেদন করতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের প্রতি আমরাও বারবার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু অনেকেই তা করেনি। অতি আত্মবিশ্বাসের কারণেও অনেকে ৫/৬ টির বেশি কলেজ পছন্দ দেয়নি। যার কারণে সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী হয়েও তারা প্রথম পর্যায়ের ফলাফলে ভর্তির জন্য কোন কলেজে মনোনীত হয়নি।

এরপরও এসব শিক্ষার্থীর কলেজ পাওয়া নিয়ে সমস্যা নেই জানিয়ে কলেজ পরিদর্শক বলেন, সবমিলিয়ে কলেজগুলোর মোট আসন সংখ্যার তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা কম। যার কারণে সামগ্রিকভাবে চট্টগ্রামে আসন সংকট হবে না। যদিও কাক্সিক্ষত কলেজ হয়তো পাওয়া যাবেনা। তবে সব শিক্ষার্থীই কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। যারা প্রথম তালিকায় মনোনয়ন পায়নি, তাদের পরবর্তী তালিকায় মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান কলেজ পরিদর্শক।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট রাতে প্রকাশিত প্রথম পর্যায়ের ফলাফলে চট্টগ্রামের কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। আর ৫ হাজার ৩৪ জন শির্ক্ষাথী ভর্তির জন্য প্রথম তালিকায় কোন কলেজ পায়নি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ ধারী ৪৪২ জন শিক্ষার্থীও রয়েছে।

হিসেবে চট্টগ্রামের কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য আবেদনকারী শির্ক্ষাথীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৩৩ জন (ভর্তির জন্য মনোনীত ১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৯ জন এবং কলেজ না পাওয়া ৫ হাজার ৩৪ জন)। যদিও মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯২৩ জন শিক্ষার্থী চট্টগ্রামের কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করে বলে এর আগে জানিয়েছিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি।

শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, মোট আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯২৩ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৩৩ জন আবেদনকারী চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড থেকে এসএসসি পাস করা। বাকি ৯ হাজার ৯০ জন আবেদনকারী কারিগরি, মাদ্রাসাসহ অন্যান্য বোর্ড থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ।
সবমিলিয়ে চট্টগ্রামের কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য ১ লাখ ২৩ হাজার ৯২৩ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে।

মোট আবেদনাকারীর ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৩৩ জন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে (চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ) ১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য মনোনীত হলেও ৫ হাজার ৩৪ জন শিক্ষার্থী কলেজ পায়নি। আর মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ অন্যান্য বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৯০ জন আবেদনকারীসহ প্রথম তালিকায় কলেজ না পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ হাজার ১২৪ জনে।

প্রথম তালিকায় ঠাঁই না পাওয়া এসব শিক্ষার্থীকে আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনরায় আবেদন করতে হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক বলেন, এসব শির্ক্ষাথীকে ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট (www.xiclassadmission.gov.bd) -এ গিয়ে পুরানো আবেদনে কলেজ পছন্দক্রম পরিবর্তন করতে হবে। অর্থাৎ আগের পছন্দ করা কলেজগুলো পরিবর্তন করে নতুন করে পছন্দক্রম দিতে হবে। তবে এসব শিক্ষার্থীর আর আবেদন ফি দিতে হবে না বলেও জানান তিনি।

এদিকে, প্রথম মেধা তালিকায় মনোনীত হয়েও ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মনোনয়ন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে জানিয়ে কলেজ পরিদর্শক বলেন, প্রথম তালিকায় মনোনীতদের ২০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে ৩০ আগস্টের মধ্যে অবশ্যই ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে। নয়তো তার মনোনয়ন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। তখন ওই শিক্ষার্থীদেরও পুনরায় আবেদন করতে হবে। তাদের আবেদন ফিও আবার দিতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: