বাইডেনের ঈদের দাওয়াত বর্জন করল মুসলিম নেতারা
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সম্প্রতি ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জো বাইডেন ইসরাইলের হামলাকে তাদের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এদিকে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রোববার (১৬ মে) একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন জো বাইডেন। অনুষ্ঠানটিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মুসলমানদের অধিকার সংগঠনগুলোর নেতৃস্থানীয়দের। তবে ফিলিস্তিন ইস্যুতে মার্কিন সরকারের অবস্থান ও ভূমিকার প্রতিবাদ হিসেবে সংগঠনগুলো ওই অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মুসলিম অ্যাডভোকেসি গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, সহিংসতা বাড়াতে ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছে বাইডেন প্রশাসন।
এক বিবৃতিতে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ বলেন, গাজায় নিরপরাধ নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর ইসরায়েলি বর্ণবাদী সরকার নির্বিচারে বোমা বর্ষণে যখন বাইডেন প্রশাসন সরাসরি সহায়তা, সমর্থন ও ন্যায্যতা দিচ্ছে, তখন তাদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে আমরা স্বস্তি বোধ করছি না।
তিনি বলেন, এই অন্যায় বন্ধে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের রাজনৈতিক ও নৈতিক কর্তৃত্ব রয়েছে। আমরা তাকে ভুক্তভোগীদের পক্ষে দাঁড়াতে আহ্বান জানাচ্ছি।
মিশিগানের কংগ্রেসম্যান রশিদা তালিব বলেন, ইসরাইল গণমাধ্যমকে টার্গেট করছে কিন্তু বিশ্ব তাদের যুদ্ধাপরাধ দেখতে পারছে না। ডেমোক্র্যাট নেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অনতিবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানানো। তারা নেতানিয়াহু সরকারের সমর্থনকারী হতে পারে না।
মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, ইসরাইলের পরিকল্পিত ফিলিস্তিন উচ্ছেদ অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ হচ্ছে। তাছাড়া, সর্বোপরি বাইডেন প্রশাসনের মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
শনিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে বাইডেন বলেন, হামাসের রকেট হামলার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর ও নগরে রকেট হামলার নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধে নেতানিয়াহুকে চাপ দিতে বাইডেন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রতিবছর ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯২ জনে, যার মধ্যে ৫৮টি শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন এক হাজার ২০০ জনের বেশি।

