২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: কি ঘটেছিল সেই ভয়াল শনিবারে

নিউজ ডেস্কঃ দিনটি ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কার‌্যালয়ের সামনে ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী’ এক সমাবেশের আয়োজন করেছিল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ।

সমাবেশে একটি খোলা ট্রাকে (ঢাকা মেট্টো-ট-১১-৩০৯৮) বানানো হয়েছিল উন্মুক্ত মঞ্চ। বিকেল ৫টায় সমাবেশস্থলে আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বিকেল ৫টা ২২মিনিটে বক্তৃতা শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ উচ্চারণ করে তিনি তার হাতে থাকা একটি কাগজ ভাঁজ করতে করতে এগুচ্ছিলেন মঞ্চ থেকে নামার সিঁড়ির দিকে। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে একটি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটে।

এই গ্রেনেডটি মঞ্চের পাশে রাস্তার ওপর নিক্ষিপ্ত হয়। এরপর একে একে আরও ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আয়োজিত সেই সমাবেশেই একের পর এক গ্রেনেডের বিস্ফোরণে এবং স্প্লিন্টারের আঘাতে মঞ্চের নিচে রাস্তার ওপরে বসা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমানসহ অসংখ্য মানুষ লুটিয়ে পড়েন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে মঞ্চে উপস্থিত ঢাকার তৎকালীন মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফ এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে এক মানবঢাল তৈরি করেন এবং তাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন।

সেদিন ঘটনাস্থলেই ১৬ জন নিহত এবং চার শতাধিক আহত হন। পরে মারা যান আইভি রহমানও। মেয়র হানিফের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় অস্ত্রোপচার করার কথা থাকলেও গ্রেনেডের স্প্লিন্টার শরীরে থাকায় তা আর করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সব মিলিয়ে ন্যক্কারজনক এ হামলায় ২৪ জনের প্রাণহানি হয়।

সময়ের পরিক্রমায় এ ঘটনা নিয়ে দুইটি মামলা চলমান থাকে। একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের মামলা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১৮ সালে আদালত ২১ আগস্ট দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে জীবিত মোট ৪৯ আসামির মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং বাকি ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

২১ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ কলঙ্কময় একটি দিন। দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নেতৃত্বশূন্য করার জঘন্য অপচেষ্টার দিন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: