মৎস্য খাত দেশে স্বর্ণালি অধ্যায় সৃষ্টি করছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
নিউজ ডেস্কঃ ‘বেশি বেশি মাছ চাষ করি, বেকারত্ব দূর করি’ প্রতিপাদ্যে ২৮ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন করা হবে।
এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, মৎস্য খাত বাংলাদেশে স্বর্ণালি অধ্যায় সৃষ্টি করছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা হচ্ছে- মাছে-ভাতে বাঙালির চিরন্তন বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশের মৎস্য খাতকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বিকশিত করছেন এ ধারা অব্যাহত রেখে মৎস্য সম্পদে বিশ্বে আমরা অনন্য-অসাধারণ জায়গায় পৌঁছে যাব। এ লক্ষ্যে মৎস্য খাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে এবারের মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন হতে যাচ্ছে। আমরা মাছে-ভাতে বাঙালির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জায়গায় শুধু পরিপূর্ণতাই আনবো না, বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
তিনি জানান, রোববার জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং সংসদ লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। ৩১ আগস্ট বঙ্গভবনের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।
তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে বিদেশ থেকে আমাদের অনেক প্রবাসী ভাইয়েরা বেকার হয়ে দেশে ফিরছেন। স্বল্প আয়ের চাকরি বা ব্যবসা যারা করতেন তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। করোনায় যারা বেকার হয়েছেন তাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাছচাষের মাধ্যমে বেকারত্ব কমছে, আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ছে ও উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে। মাছ রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আমরা দেশে আনতে সক্ষম হচ্ছি। পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে আমাদের মৎস্য খাতে উৎপাদন বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মৎস্য খাতে একটা আমূল পরিবর্তন এসেছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ, সরকারপ্রধানের সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতা। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে ইলিশের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে, স্বাদ-গন্ধ ফিরে এসেছে, পরিমাণ বেড়েছে। জাটকানিধন বন্ধ করার সুফল আমাদের সামনে দৃশ্যমান। দেশের মানুষের কাছে যে মাছগুলো দুর্লভ ছিল, সেগুলো ফিরে এসেছে। বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমরা ফিরিয়ে এনেছি এবং সেটা সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছি। মৎস্যজাত পণ্য তৈরির খাতকেও সরকার উৎসাহিত করছে। দেশের বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় অঞ্চল তথা হাওর অঞ্চল, পাবর্ত্য অঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চলে আমরা ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প নিচ্ছি। মাছকে নিরাপদ রাখার জন্য আমরা অভয়াশ্রম করছি। নদীতে যাতে মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় ও মাছ বেড়ে উঠতে পারে সেজন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।’
মন্ত্রী যোগ করেন, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছে ৪৫ লাখ তিন হাজার মেট্রিক টন। মৎস্য উৎপাদনে দেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃত। বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ তৃতীয়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষ করা মাছ উৎপাদনে পঞ্চম, ইলিশ উৎপাদনে প্রথম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে চতুর্থ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী চাষ করা মৎস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার ধীরগতিসম্পন্ন হলেও গত এক দশকে আমাদের মৎস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির ধারা ৯.১ শতাংশ, যা বিশ্বের মূল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মৎস্য খাদ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান আছে কি-না তা পরীক্ষার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার করেছি। মাছ রপ্তানির জন্য পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে, যাতে বিদেশে পাঠানো মাছের চালান দেশে ফেরত না আসে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। মৎস্য সম্পদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সব জায়গায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এসময় মন্ত্রী আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির পথে আমরা কেউ যেন ক্ষতিকর ভূমিকায় অবতীর্ণ না হই। বিষাক্ত কোনো খাবার দিয়ে যেন মাছ না বাড়াই ও অপরিকল্পিতভাবে মাছচাষ না করি।’
মৎস্য খাতে যারা অবদান রাখছেন, ভালো ভূমিকা রাখছেন তাদের উৎসাহিত করতে ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে এ বছর বিভিন্ন খাতে মৎস্য পদক দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

