অব্যবস্থাপনায় ভরা ছিল বাকৃবির ৮ম সমাবর্তন 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দীর্ঘ ৭ বছর পর গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম সমাবর্তন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমাবর্তনটি ছিল স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষার বিষয়, কিন্তু চরম অব্যস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে সমাবর্তনকে ঘিরে।

সঠিক সময়ে সার্টিফিকেট না পাওয়ায় অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে সার্টিফিকেট প্রদানের সময় ছিল ১২ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৪টা থেকে ৷ কিন্তু যথাসময়ে সার্টিফিকেট শিক্ষার্থীদের মাঝে দিতে না পারায় অনেক চাকুরীজীবি ও দূর দূরান্ত  থেকে আসা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সময়মত ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে পারেননি ৷ কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ২০১৩-১৪ সেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী সবুজবাংলাদেশ24.কম কে বলেন, ”সময়মত সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়ায় আমার বিকাল ৫ টার বাসের অগ্রিম টিকেট বাতিল করতে হল। আগামীকাল সময়মত অফিসে পৌছুতে পারব কিনা জানিনা।”

এদিকে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে সার্টিফিকেট প্রদানে নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সার্টিফিকেটগুলো সেশন এবং রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার অনুযায়ী ঠিকমত গোছানো ছিল না বিধায় সার্টিফিকেট পেতে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে কনভোকীদের। এভাবে অনেক কনভোকী সার্টিফিকেট না পেয়ে দুঃখ ও ক্ষোভ নিয়েই নিজ কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। এছাড়া একজনের সার্টিফিকেট আরেকজনকে দেওয়া, রেজিস্ট্রেশন করেও সনদ বিতরণ লিস্টে নাম না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।

সার্টিফিকেটে সন ও নামের ভুলের পাশাপাশি ইংরেজীতে এক বিভাগ আর বাংলাতে অন্য বিভাগ লেখা সম্বলিত সার্টিফিকেট বিতরণ চরম সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফেইসবুকে অনেকেই কমেন্ট করেছেন ‘কালকের সমাবর্তন পুরোটাই ছিল অব্যবস্থাপনায় ভরা”

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলার অভাব, ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সি অনুসারে বসার ব্যবস্থা না থাকা, সবার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা না থাকা, বক্তব্যের সময় বক্তাকে সাংবাদিকদের ঘিরে রাখা, স্টেজে বাড়তি মানুষের চলাফেরা, কনভোকিদের হইহোল্লর এবং পুরো সময় ধরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো এই সমাবর্তনের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করেছে বলে অনেকেই মনে করেন।

এবারের সমাবর্তনের কস্টিউম ব্যাগে কনভোকীদের জন্য ছিল না কোনো উপহারসামগ্রী। অনেকের ব্যাগে ছিল না স্মরনিকা। ২০১১-১২ সেশনের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সবুজবাংলাদেশ24.কমকে বলেন, ”এতদিন পর ক্যাম্পাসে আসলাম, ভেবেছিলাম কনভোকেশন ও ক্যাম্পাসের স্মৃতি হিসেবে কস্টিউম ব্যাগে কিছু উপহার পাব যেটা ক্যাম্পাসের স্মৃতি হিসেবে নিয়ে যাব। কিন্তু ভাগ্যে সেটি জুটেনি, পাইনি কোন উপহার পাইনি কোন স্মরণিকা।”

বঙ্গবন্ধু চত্বরে সমাবর্তনের জন্য মাত্র একটি ফটোকর্নার (পেনা) থাকায়  ফটোসেশনে অনেককেই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

খাবার বিতরণেও কিছু অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে খাবার বিতরণ না করা, দীর্ঘক্ষণ লাইনে কষ্ট করে দাড়িয়ে খাবার নেওয়াসহ অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে কনভোকীদের। প্রতিটি বুথে দুপুর ২ টা থেকে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করা হলেও স্বল্পসংখ্যক বুথে প্রায় ৬ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর খাবার বিতরণের জন্য অনেক শিক্ষার্থী শেষবেলায় খাবারের প্যাকেটটি পেয়েছেন।

স্মরনিকায়ও ভুলের কমতি ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের নামের তালিকায় জেষ্ঠ্যতার ক্রম এবং নামের অনুপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। অষ্টম সমাবর্তন উপলক্ষে গঠিত কমিটিতে দেশের বাহিরে অবস্থানকারী শিক্ষকের নাম ও রয়েছে। এছাড়া একই ব্যক্তিকে একাধিক কমিটিতে রাখতে দেখা গেছে। ।

অষ্টম এই সমাবর্তনের শুরু থেকেই সময়সূচীতে AM/PM বিভ্রাট, রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিসহ নানান অব্যবস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনা ও পর্যালোচনা ।

  •  
  •  
  •  
  •