বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়েগুলো কেন ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিংয়ে পিছিয়ে  

নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়েগুলো কেন ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিংয়ে পিছিয়ে তা নিয়ে সম্প্রতি  ফেসবুকে পেইজে  এক পোস্টে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর কামরুল হাসান মামুন। তিনি বলেন,  ব্রাজিলের  ১ নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় Universidade de São Paulo! এর QS ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং হলো ৮৫! আর্জেন্টিনার Universidad de Buenos Aires এর QS ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং হলো ৯৫! ভারতের ১ নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় Indian Institute of Technology Bombay! এর QS ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং হলো ১৪৯! পাকিস্তানের Quaid-i-Azam University! এর QS ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং হলো ৩১৫! ভিয়েতনামের ১ নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় Duy Tan University! এর QS ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং হলো ৫১৪! বাংলাদেশের ১ নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় Dhaka University! এর QS ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং হলো ৬৯১-৭০০!

ব্রাজিলের সেই ১ নন্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বরাদ্দ গত বছর  ছিল  ১৬ হাজার ৭ শত ৯০ কোটি টাকা। আর্জেন্টিনার Universidad de Buenos Aires এর বাজেট হলো ৭ হাজার ৬ শত কোটি টাকা। অর্থাৎ এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যথাক্রমে ১৬ এবং ৭ গুনের চেয়েও বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ১ নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ জন্মের পেছনে বিশাল ভূমিকা রেখেছে। অথচ রাষ্ট্র এই বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহেলা করে যাচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানবেতর জীবন যাপন করে।

অনেক শিক্ষক একটু বেটার লাইফ স্টাইলের জন্য একাধিক পার্ট টাইম কাজ করেন। এর ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা শিক্ষকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সার্ভিস পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। কম বেতন পাওয়ার জন্য যারা পার্ট টাইম কিছু না করে তাদের অধিকাংশই রাজনীতি করেন। তাতেও শিক্ষার্থীরা ভালো সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হন।

অন্যদিকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যা সত্বেও তাদের ১ নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মান বজায় রাখতে পেরেছে। তাদের শিক্ষকরা আমাদের দেশের শিক্ষকদের চেয়ে দ্বিগুনের বেশি বেতন পায়। ভারতের কথা না বলাই ভালো কারণ ওরা বিশ্ব মানের। কিন্তু ভিয়েতনামের এগিয়ে যাওয়া দেখেও আমাদের ঘুম ভাঙে না এইটা মেনে নেওয়া যায় না। আর ১০-১৫ বছর পর ভিয়েতনামও আমাদের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে চলে যাবে।

দেশের উন্নয়ন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের মানের সমানুপাতিক। উদাহরণ  সিঙ্গাপুর, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং বাংলাদেশ। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের উন্নয়নকে কেয়ার না করে দেশ উন্নয়নের কথা বলে তারা উন্নয়নের সূত্রই জানেনা।

  •  
  •  
  •  
  •