আজ বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস
নিজস্ব প্রতিনিধি:
আজ বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০১৬। শিশু অধিকার সুরক্ষা ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম প্রতিরোধের লক্ষ্যে ২০০২ সাল থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিবছর দিবসটি পালন করে আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম সংস্থা (আইএলও)।
‘এন্ড চাইল্ড লেবার ইন সাপ্লাই চেইন-ইটস এভরিওয়ানস বিজনেস’ বা ‘উৎপাদন থেকে পণ্য ভোগ, শিশু শ্রম বন্ধ হোক’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮০টি দেশ এ দিবসটি পালন করছে।
আইএলও’র সর্বশেষ এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রায় ১৬ কোটি ৮০ লাখ শিশু নানাভাবে শ্রম বিক্রি করছে। তাদের অর্ধেক প্রায় সাড়ে ৮ কোটি শিশু নানারকম ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত।
‘জাতীয় শিশু শ্রম জরিপ ২০১৩’ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৩৪ লাখ ৫০ হাজার শিশু কোনো না কোনো শ্রমে নিয়োজিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত এ জরিপে দেখা যায়, এর মধ্যে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশুই বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত।
শিশু শ্রম নিরসনে বাংলাদেশ সরকার ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম নির্ধারণ করে ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম বন্ধের অঙ্গীকার করেছে। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শ্রমজীবী শিশুদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পেশা থেকে সাধারণ শ্রমে নিযুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেওয়া এক বাণীতে বলেন, সরকার শিশুদের অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে আমরা জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও নিরসন বিষয়ক আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থন করেছি। শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের সুরক্ষার জন্য দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নীতির বাস্তবায়ন গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের প্রত্যাহার করে তাদেরকে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা বলয় কর্মসূচি হতদরিদ্র মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এছাড়া শিশুদের উন্নয়ন ও কল্যাণে ‘সবার জন্য শিক্ষা’র আওতায় সকল শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ উপবৃত্তি প্রদান এবং দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও শিশুদের কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণীপেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।
শিশুশ্রম বন্ধে বাংলাদেশে কাজ করছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বেসরকারি সংস্থা। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিসেফ, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম, বাংলাদেশ শ্রম ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আইন ও শালিস কেন্দ্র, ওয়ার্ল্ড ভিশন, সিএসআইডি, অপরাজেয় বাংলাদেশ, তরঙ্গ, শাপলানীড়, ইডুকো, কোয়ালিশন ফর আরবান পুওর, ডন ফোরাম, তেরেদেশ নেদারল্যান্ড।
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ১৩ টি শিশু অধিকার সংগঠনের নেটওয়ার্ক ‘এ্যালায়েন্স এগেইন্সট চাইল্ড লেবার-এসিএল’ আজ ছায়ানট মিলনায়তনে আলোচনা সভা এবং শ্রমজীবী শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
এছাড়াও রাজধানীর সমাজসেবা অধিদফতর মিলনায়তনে অপরাজেয় বাংলাদেশ শ্রমজীবী শিশুদের অংশ গ্রহণে এক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। এ চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় দেড়’শ শ্রমজীবী শিশু অংশ নেবে। এছাড়া ও শ্রমজীবী শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও রয়েছে।

