৪ বছর ঘুরে মুক্তিযোদ্ধার সনদ জোটেনি ঝিনাইদহের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু জাফর ফিরোজের
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
”তিনি ২০১২ সাল হতে এই দিয়ে ৪ বার আবেদন করেছেন। ৪ বছরে ২০ বার সচিবালয়ে গেছেন। বর্তমান সচিব সহ ৫ জন যুগ্ন সচিবের সাথে কথা হয়েছে। প্রথম দিকে কথা বাত্রায় একটু আন্তরিক সবাই বলে আপনার মত একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার জন্য আমারা সব কিছুর করব, কিন্তু আস্তে আস্তে সুর পাল্টে যায়। এই ৪ বছরের অভিজ্ঞাতায় আমার ধারনা জন্মেছে মুক্তিযোদ্ধা সচিবালয় আমার মত একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে সাহায্যের ব্যপারে আগ্রহী নয়, তারা অনেক বেশি আগ্রহী কি ভাবে আরও একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে সনদ দেওয়া যায়” এ ভাবেই নিজের তিক্ত অভিগতা কথা জানালেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ছোট্ট কামার কুন্ডুগ্রামের মৃত আবু বকরের ছেলে আবু জাফর (ফিরোজ)।
তিনি আরও জানান, ১৯৭১ সালে ভারতের বিহার রাজ্যের চাকুলিয়া থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ট্রেনিং শেষ করে ৮ নং সেক্টরে একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসাবে যুদ্ধ করেন। ইনি ২০১৫ সালে ঝিনাইদহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাহী সদস্যও নির্বাচিত হন। ইন্ডিয়ান তালিকা ও মুক্তিবাত্রায় তার নাম রয়েছে। সেখানে তিনি ফরম পূরণ করেছিলেন ইংরেজিতে। তবে মুক্তিবাত্রায় নাম ২ ভাবে লিপিবন্ধ হয়েছে এক খানে ফিরোজ আর একখানে ফিরোজ আহামেদ । পিতার নাম এক খানে আবু বক্কর অন্য এক খানে আবু বাকের হয়েছে।
তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে নিহত হলে তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। যার কারনে বাধ্য হয় দেশ ছাড়তে ১৯৭৮ সালে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে একটি ব্রিটিশ জাহাজে চাকুরী নেয়। তারপর এ জাহাজ থেকে ও জাহাজে করে নানা দেশ বিদেশ ঘুরে অবশেষে ১৯৮১ সালে আমেরিকার নরফোক বন্দরে এসে পৌঁছান।
তারপর জাহাজ থেকে পালিয়ে চলে যান ইমিগ্রান্টের স্বপ্নের শহর নিউইয়াকে। তিনি ১৯৮৮ সালে শেষের দিকে গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর আবার আমেরিকায় পড়াশুনা শুরু করে ১৯৯২/৯৩ সালের ন্যাশনাল ডিনস লিস্টে জাইগা করে নেন এবং ১৯৯৬ সালে আমেরিকার ফরেন সার্ভিস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন।এই কৃতিত্বের জন্য আমেরিকার ততকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন মার্কিন সিনেটে অনুমোদন করে ফরেন সার্ভিসের মনোনয়ন দেন। যার কারনে বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণকারী প্রথম ব্যাক্তি আমেরিকার ডিপে¬ম্যাট হিসাবে সার্ভিসে যোগ দিয়ে কুয়েত, জেনাভা, তিউনিশিয়া সহ নানা দেশে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন শেষে ২০১১ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
এখন তিনি বেশির ভাগ সময় দেশেই কাটান। ২০১৫ সালে ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন। তাহাছাড়া তিনি মুক্তিযোদ্ধা কালীন ৮ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর মনজুর আহমেদ ও বানপুর ক্যম্প্রের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মোস্তাফিজুর রহমানের (পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনির প্রধান) অত্যন্ত সুপরিচিত ছিলেন।
এই জীবন সংগ্রামী মুক্তিযোদ্ধা আরও বলেন, আমার মত একজন সুপরিচিত মুক্তিযোদ্ধাকে যদি দিনের পর দিন এই ভাবে ঘুরান হয় তাহলে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের কি অবস্থা ? প্রকৃত পক্ষে এই মুক্তিযোদ্ধা সচিবালয় কার জন্য ?

