রাজবাড়ীতে আগাম সবজি চাষে লাভবান কৃষক

রাজবাড়ী সংবাদদাতা:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে পরীক্ষামূলকভাবে কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে বিষমুক্ত আগাম কপি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন এই অঞ্চলের কৃষক।

বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের দিলালপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ চাষ হচ্ছে বিষমুক্ত আগাম কপি। শুধু দিলালপুর গ্রামেই নয়, বিষমুক্ত আগাম সবজি চাষ করছেন একই উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি, চরগুয়াদাহ এবং জামালপুর ইউনিয়নের নটাপাড়া গ্রামের অনেক কৃষক।

বিষমুক্ত সবজি চাষ করে এই অঞ্চলের কৃষক এখন স্বপ্ন বুনছেন। কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে বিষমুক্ত অগ্রিম সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পল্লী বন্ধুর পরিচালক রুহুল আমিন বুলু।

নবাবপুর ইউনিয়নের দিলালপুর গ্রামের কৃষক অচিন্ত কুমার মোদক বলেন, পল্লী বন্ধুর সংস্থার পরিচালক রুহুল আমিন বুলুর পরামর্শে আমরা কেঁচো কম্পোস্ট ব্যবহার করে বিষমুক্ত অগ্রিম সবজি চাষ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এবারে শীতের মৌসুম শুরুর আগেই ৩০ শতাংশ জমিতে ফুলকপির অগ্রিম আবাদ শুরু করি। এখনো বাজারে ফুলকপির আমদানি না হলেও এরই মধ্যে কপি বিক্রি করতে শুরু করেছি।

তিনি বলেন, প্রতিবিঘা জমিতে বিষমুক্ত কপি চাষ করতে ১৭-১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্য হিসেবে এখান থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। পরীক্ষামূলকভাবে কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে ফুলকপির এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে আমরা অনেক লাভবান হচ্ছি।

নটাপাড়ার কৃষক স্বপন জানান, কীটনাশক সার ব্যবহার করে সবজি উৎপাদনে খরচ বেশি হতো। সেক্ষেত্রে কেঁচো কম্পোস্ট ব্যবহার করে খরচ কমেছে এবং উৎপাদন বেড়েছে। ফলে আমরা লাভবান হচ্ছি।

বিষমুক্ত অগ্রিম সবজি চাষের উদ্যোক্তা পল্লী বন্ধু সংস্থার পরিচালক রুহুল আমিন বুলু জানান, প্রায় ১ বছর ধরে তিনি কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছেন। আর কৃষকদের এ সার ব্যবহার করতে দিনের দিন নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে এই অঞ্চলের কৃষকেরা কীটনাশকের পরিবর্তে কেঁচো কম্পোস্ট সারের ব্যবহার ব্যাপকহারে শুরু করেছে। ফলে দিন দিন কৃষকের কাছে এ সারের চাহিদা বাড়ছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, চলতি বছরে বালিয়াকান্দি উপজেলাতে ২৫ একর জমিতে আগাম ফুলকপি ও পাতাকপির চাষ হয়েছে এবং আশার কথা হলো কৃষকরা কীটনাশক সারের পরিবর্তে জৈব কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। এতে এই অঞ্চলে ভবিষ্যতে বিষমুক্ত সবজি চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: