ফুল চাষের পথিকৃৎ শের আলীর ফুলের রাজ্য (ভিডিও)
যশোর প্রতিনিধি:
পৈতৃক সূত্রে পাওয়া নার্সারি ব্যবসা ধরে রেখেছিলেন তিনি। অল্প কিছু জমি ছিল। তাতে ধান-পাট চাষ করতেন। সংসার চলত কোনো রকমে। ১৯৮৩ সালের কথা। তখন রজনীগন্ধাসহ প্রায় সব ধরনের ফুলই ভারত থেকে আমদানি করা হতো।
কিন্তু দেশেই যদি এসব ফুলের চাষ করা যায়, তাহলে তো বাইরে থেকে আমদানি করতে হতো না। নার্সারি ব্যবসায় অভিজ্ঞ শের আলীর মাথায় ঢুকে ফুল চাষের ভূত। এক বিঘা জমিতে রজনীগন্ধার চাষ শুরু করেন। এটিই বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের প্রথম ঘটনা। অনেকেই ঠাট্টা করলেন। দমলেন না তিনি। ঠাট্টার জবাব দিলেন তিন মাসের মধ্যেই। বিক্রি করলেন দুই লাখ টাকার ফুল।
এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শের আলীকে। এখন ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষ করছেন। এর মধ্যে ছয় বিঘায় চাষ করছেন ইউরোপের অনিন্দ্য সুন্দর ফুল জারবেরা। ফুল চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে ইতিমধ্যে ১৮টি দেশ ঘুরেছেন। ওইসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন নিজের ক্ষেতে। সব খরচ বাদ দিয়ে ১০ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করে বছরে তার লাভ হচ্ছে ২০ লাখ টাকারও বেশি। ছেলেকে পাঠিয়েছেন আমেরিকায়।
ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা গ্রামের মাঠে কথা হয় শের আলীর সঙ্গে। জারবেরা ক্ষেত পরিচর্যা করছিলেন কোটিপতি বনে যাওয়া ৬০ বছরের এই কৃষক। বললেন, যখন ফুল চাষ শুরু করি, অনেকেই ঠাট্টা করেছিল। তিন মাস পর যখন দুই লাখ টাকার ফুল বিক্রি করি, তারাই এসেছিল ফুল চাষ শিখতে। তাদের সবাইকে ফুলবীজ দিয়েছি বিনামূল্যে। জীবনে কখনো বীজ বিক্রি করিনি। আমার দেখাদেখি এখন ঝিকরগাছা উপজেলায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে পাঁচ হাজারেরও বেশি কৃষক দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুলের চাষ করছেন। এলাকার মানুষ ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে। জীবনে এরচেয়ে বেশি কিছু আর চাওয়ার নেই। যতদিন বেঁচে আছি, ফুলের মাঝেই বাঁচতে চাই।
অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেই ফুল চাষ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এসব প্রতিকূলতা নিরসনে সরকার এগিয়ে আসলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। সরকার যদি এগিয়ে আসে, তাহলে ফুল রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

