‘ক্ষুধা মুক্ত সার্ক অঞ্চল’ গঠনে এক সাথে কাজ করতে হবে-কৃষি মন্ত্রী
ড. নিয়াজ পাশা:
যথাযথ ভাবগম্ভীর উৎসাহ, উদ্দীপণা এবং আনন্দঘণ পরিবেশে সার্ক এর (SAARC) ৩১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী এবং ’আন্তজার্তিক মৃত্তিকা বর্ষ -২০১৫’ ( SAARC Charter Day & International Year of Soils-2015) পালিত হয়েছে ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চোধুরী ’ক্ষুধা মুক্ত সার্ক অঞ্চল’ গঠনে এক সাথে কাজ করার আহবাণ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কৃষি বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মী, কৃষক সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসমপূর্ণ। দারিদ্রতা দূরীকরণে কৃষি হচ্ছে অন্যতম হাতিয়ার।মন্ত্রী সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের বিভিন্ন কাজের ভূয়সী প্রসংশা করে নতুন নতুন গবেষণা, ধ্যাণ-ধারণা, সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ঊপর গুরুত্বারোপ করেন।স্মার্ট এগ্রিকালচার, জিও ইনফনমেশান, মহিষের জাত সম্প্রসারণ, ল্যান্ড ডিগ্রেশান, সেরিকালচার, জেনটিক রিসোস সংরক্ষণে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের উদ্যোগের কথা এ প্রসঙ্গে বলেন ।মন্ত্রী প্রফেসর এস এম সোয়ামীনাথনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তাঁর আগমনে এবং অভিজ্ঞতা প্রসূত দিক নির্দেশণা মূলক বক্তব্য আমাদের কৃষি বিজ্ঞানকে উজ্জিবিত করবে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (BARC) মিলনায়তন, ফার্ম গেইট, ঢাকায় এ অনুষ্ঠানে বিএআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড আবুল কালাম আযাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কৃষি মন্ত্রী মাতিয়া চেীধুরী ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ এবং Ges SAARC & BIMSTEC এর মহাপরিচালক এস এম আনিসুল হক সম্মাণিত অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের পরিচালক ড এস এম বখতিয়ার। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল বর্তমান বিশ্ব কৃষি বিজ্ঞানে জীবিত কিংবদন্তি, ভারতীয় সবুজ বিপ্লব এর জনক Professor M S Swaminathan, “Achieving Zero Hunger Targets in SAARC Countries”. বিষয়ে মূল প্রবন্ধ। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা FAO এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি Mike Robson “Achieving SDG in Bangladesh’ বিষয়ে পেপার উপস্থাপণ করেন।
প্রফেসর এস এম স্বোমীনাথন “Achieving Zero Hunger Targets in SAARC Countries বিষয়ক মূল প্রবন্ধে ’ক্ষুধা মুক্ত সার্ক অঞ্চল’গঠণে বিভিন্ন উপায়, উপকরণ, তত্ত্ব-তথ্য, উপাত্ত, করণীয়, নীতি নৈতিকথা বিষয়ে বিষদ আলোকপাত করেন।
তিনি বলেন, আমাদের কৃষির জীব বৈচিত্র, ওষধী গাছ পালা, শস্যজাত উদ্ভিদ সংরক্ষণ করতে হবে। লবণাক্ত এলাকা এবং সমুদ্রে ফার্মিং এবং পাহাড়ী, খরা প্রবণ এলাকার এর সম্ভাবণার কথা বলেন ।সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধিতে (Genetic Shield against Sea Level Rise) ম্যানগ্রোভ বনায়ন তৈরীর কথা বলেন।সবুজ বিপ্লবের জন্য দরকার প্রযুক্তি, সেবা, সরকারি নীতিমালা এবং কৃষকদের উৎসাহ প্রদাণ । গ্রীণ রেভুলেশান হতে এভার গ্রীণ রেভুলেশাণের দিকে যেতে হবে। ’ক্ষুধার তিনটি রুপ হচ্ছে-CALORIE DEPRIVATION, PROTEIN DEFICIENCY, MICRONUTRIENT DEFICIENCY সমস্বিত কৃষির মাথ্যমে এ অভাব থেকে রেহাই পাওয়ার বিভিন্ন উপায় নিয়েও তিনি বিষদ আলোচণা করেন। তিনি বাংলাদেশের কৃষি বিজ্ঞানীদের জিংক এবং আয়রন সমৃদ্ধ ধান এবং গোল্ডেন রাইস’উদ্ভাবণের কথা উল্লেখ করেন। আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ’ক্ষুধা মুক্ত সার্ক অঞ্চল অর্জন সম্ভব বলে Professor M S Swaminathan বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরে প্রধান অতিথি কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চোধুরী ’আস্তজাতিক মৃত্তিকা বর্ষ-২০১৫’ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিয়োগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করবেন । অংশ গ্রহণকারিদের রচনা গুলো নিয়ে ‘Soil and Soul’ এবং আরো তিনটি পুস্তকের মোড়ক উন্মোচণ করা হয়।
একই দিনে (৮ ডিসেম্বর’১৫) সকাল বেলায় একই স্থানে International Year of Soils-2015 উদযাপন উপলক্ষ্যে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার, ঢাকা SAARC Agriculture Centre, SAC) এর উদ্যোগে এবং MoA, MoF, BARC, BARI, BRRI, BINA, SRDI FAO, CIRDAP, CIMMIT, IRRI’র সহযোগিতায় দুই দিন ব্যাপী এ সব কর্মসূচী উদযাপিত হয়েছে। অনুষ্ঠানসমূহে উপরে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানের কয়েক শতাধিক বিজ্ঞানী অংশ গ্রহণ করেন।
৯ ডিসেম্বর Professor M S Swaminathan বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞারীদের সাথে মতবিনিময় করেন।
এ উপলক্ষ্যে বার্ক ক্যাম্পাসকে বিচিত্র রঙ বেরঙের বেলুন, ফেস্টুন, ব্যানারে সাজানো এবং আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয় । সকালে ’সার্ক ফ্লাগ স্ট্যান্ড’ এ সার্ক এবং সদস্য দেশ সমূহের পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতিকা পায়রা উড়িয়ে দুদিন ব্যাপী কর্মসূচীর উদ্ভোধন করা হয়।

