নওগাঁয় লেদাপোকার আক্রমণে হতাশায় কৃষক

নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় আলু,গম ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের গাছে ব্যাপকহারে লেদাপোকা ও ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে আলুসহ হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হতে চলেছে। এ থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন ছত্রাকনাশক ঔষধ ব্যবহার করেই চলেছে কৃষক। এতে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এবার উপজেলার প্রতিটি মাঠে আলুর ব্যাপক চাষ হলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লেদা পোকার আক্রমনে আলুর পাতার সবুজ রং ধূসর হয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা তাদের কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে পারবে কিনা এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

আত্রাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে বলেন, এবারের স্মরণকালের বন্যার ক্ষতির কারণে এই উপজেলায় রোপ-আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও দ্রুত বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় মাঠে মাঠে রবিশস্যের উপযুগি জমিতে বন্যার ক্ষতি কৃষকরা পুষিয়ে নিতে আলু চাষে কোমর বেঁধে নেমেছে। চলতি রবিশস্য মৌসুমে কোন প্রকার প্রাকৃতিক দূর্যোগ হানা না দেওয়ায় এবং আলু চাষের পরিবেশ অনুকূলে থাকায় আলুর পাশাপাশি সরিষা, গম ও ভোট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।

গ্রামীণ জনপদের কৃষকরা এই আলু যথা সময়ে ঘরে তুলতে পারলে এবং বিক্রয় মূল্য ভাল পেলে বন্যার কারণে রোপা-আমন ধানের ক্ষতি পুষিয়ে ইরি-বোরো ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।

উপজেলার পকুরপাড়া গ্রামের কায়েজ উদ্দিন মোল্লা জানান, অগ্রাহায়ন মাসের প্রথমে আলু লাগানো হয়েছে।এরই মধ্যে গাছও বড় হচ্ছে।লেদা পোকা রাতের বেলা মাটির নিচ থেকে উঠে গাছ কেটে ফেলে এবং আলুতে ছোট ছোট ছিদ্র করে দেয়।দিনের বেলা এই পোকা মাটির নিচে চলে যায়। এ লেদা পোকার আক্রমনে আমাদের মাঠের ফসল নষ্ট হতে চলেছে। আমরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

বজ্রপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ মন্ডল বলেন, আমি এবার ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি।এরই মধ্যে লেদা পোকা অধিকাংশ গাছ কেটে দেয়ায় গাছ মরে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, আলুর গাছে তিন তিন বার ছত্রাকনাশক ঔষধ স্প্রে করেও কোন কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড.এম এ আজিজ বলেন, লেদা পোকা ও ভাইরাসের আক্রমন থেকে আলুর গাছ রক্ষা করতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি এবং কৃষকদের লাইসেন্সকৃত দোকান থেকে কীটনাশক ঔষধ ক্রয় করে যথাযথভাবে স্প্রে করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশাকরি প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার উপজেলায় আলুর ফলন গত বারের চেয়ে বৃদ্ধি পাবে।

  •  
  •  
  •  
  •