দিনাজপুরে ইট ভাটার প্রভাবে বোরো ফসল বিনষ্ট; দিশেহারা কৃষক
দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকার উঠতি বোরো ফসল বিনষ্ট হয়েছে। ফসলের পাশাপাশি ওই এলাকার গাছ-পালাও ঝলসে গেছে। সোনার ফসল হারিয়ে দিশেহারা অসংখ্য কৃষক। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও এলাকাবাসী’র অভিযোগ, একটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এ পরিস্থির । এনিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ওই ইট ভাটার। বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার সকাল ১১ টায় চরম ক্ষোভে দিনাজপুর-বিরল সড়ক অবরোধ করে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও এলাকাবাসী। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা কৃষকদের সাথে কথা বলে আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় কৃষকেরা।
বিরল উপজেলার তেতুঁলতোলা মকলেসপুর এলাকার প্রায় শতাধিক কৃষকের বিস্তৃর্ণ উঠতি বোরো ফসলেই বিনষ্ট হয়নি,ঝলসে গেছে আশপাশএলাকার গাছ-পালাও।সোনার ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এখানকার অসংখ্য বর্গা চাষী। তারা এ জন্য স্থানীয় একটি ইট ভাটাকে দায়ী করেছেন। বলেছেন,ওই ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোয়ায় তাদের কষ্টার্জিত বোরো ফসল নষ্ট হয়েছে।
স্থানীয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলছে,কোন প্রকৃতি দূর্যোগ বা রোগ-বালাইয়ে নষ্ট হয়নি ওই উঠতি ফসল।এজন্য তারা অন্যকিছুকেই দায়ী করছেন।
অভিযুক্ত ইটভাটা কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কৃষকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বলছেন, এটা প্রকতির দূর্যোগ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ,বি,এম, রওশন কবীর জানান,এ ঘটনার পর এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও এলাকাবাসী’র অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা এ জন্য এআরএস এন্টারপ্রাইজ নামে স্থানীয় একটি ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এনিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে তারা ।
শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ দল।পরিদর্শরকালে দলের প্রধান রংপুর অঞ্চলের ব্রি’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.মো.আবু বকর সিদ্দিক সরকার ঘটনাস্থলে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও এলাকাবাসী’র তোপের মুখে পড়েন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,প্রকৃতি’র দূর্যোগ নয়,নয় কোন রোগ-বালাই। ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোয়ায় বিনষ্ট হয়েছে কৃষকের স্বপ্ন উঠতি বোরো ধান। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে আশপাশের গাছ-পালায়। এমতোবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের ক্ষতিপূরণ দাবী করেছেন এলাকাবাসী।

