মিষ্টি কুমড়া আবাদে ঝুঁকছেন কৃষকরা

নিউজ ডেস্কঃ

মরিচ, বেগুন ও হলুদখেতের মধ্যে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এক খরচেই চার ধরনের সবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন রাজবাড়ীর কৃষকরা মিষ্টি কুমড়া আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুরসহ আশপাশের ইউনিয়নে উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠানো হচ্ছে।

প্রতিদিন ফরিদপুরের মধুখালী ও রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর, বাঘাট, খামার মাগুড়া, ভাঙ্গাহাতি, মোহন, খালকুলা এলাকার কৃষকরা নলিয়া জামালপুর বাজারে প্রায় ৫ থেকে ৬শ মণ মিষ্টি কুমড়া আড়তদারদের কাছে বিক্রি করেন। পরে ব্যাবসায়ীরা আড়তদারদের কাছ থেকে প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া (বড়) ২০ থেকে ২৫ ও (ছোট) ১০ থেকে ২০ দরে পাইকারি দরে কিনে নিয়ে বেশি লাভের আশায় পাঠাচ্ছেন দেশের বিভিন্নস্থানে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া জামালপুর বাজারের বিভিন্নস্থানে ট্রাক, ভ্যান ও বস্তা ভর্তি মিষ্টি কুমড়ার ছাড়াছড়ি। কৃষকরা ভ্যান করে কুমড়া এনে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করছেন। পরক্ষণে সেই কুমড়া আড়তদাররা পাইকারি দরে বিক্রি করছেন ব্যাপারীদের কাছে। আর ব্যাপারীরা সেই কুমড়া দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠানোর জন্য ট্রাক ভর্তি করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফদর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের খরিপ মৌসুমে ২৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছিল। আর এ বছর রবি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১৬০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে মিষ্টি কুমড়া।

কৃষকরা জানান, মিষ্টি কুমড়া চাষ করে কখনো লস হয়নি। কারণ মিষ্টি কুমড়া চাষের সঙ্গে একই খরচে ওই খেতে হলুদ, বেগুন ও মরিচ চাষ করছেন। তবে এবার অতি বৃষ্টির কারণে গত বছরের তুলনায় কুমড়ার ফলন একটু কম হয়েছে। তারপরও দামটা এবার ভালোই পাচ্ছেন।

তারা আরও জানান, সব মিলিয়ে এক পাখি জমিতে কুমড়া আবাদে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। খরচ বাদ দিয়ে ভালোই লাভ হয়।

নলিয়া জামালপুর বাজারের আড়তদার বিপ্লব দত্ত বলেন, প্রতিদিন তিনিসহ বাজারের অন্যান্য আড়তদাররা জামালপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে আসা কৃষকদের কাছ থেকে কুমড়া কিনেন। পড়ে সেই কুমড়া দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসা ব্যাপারীদের কাছে সীমিত লাভে পাইকারি দরে বিক্রি করেন। প্রতিদিন এ বাজারে ৫ থেকে ৬শ মণ কুমড়া বেচা-কেনা হয়। রাজবাড়ীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুমড়া এ বাজারে পাওয়া যায়। তাই দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ব্যাপারীরা এ বাজারেই আসে।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাঈম আস সাকিব জানান, রাজবাড়ীতে মিষ্টি কুমড়ার ফলন ভালো হওয়ায় দিনি দিন কুমড়ার আবাদ বাড়ছে। গত বছর প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে কুমড়ার আবাদ হয়েছিল। এ বছরের খরিপ মৌসুমে ১৬০ হেক্টর জমিতে কুমড়ার আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন এবং লাভবান হচ্ছেন। বিষমুক্ত সবজি হিসেবে মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন করতে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •