রংপুরে শুকিয়ে যাওয়া নদীর চরে সবজি আর সবজি!

সনজিৎ কুমার মহন্ত, রংপুর প্রতিনিধি:
তারাগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনেশ্বরী, খারুভাজ, চিকলী নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন খনন না করায় এক সময়ের খরস্রোতা এসব নদীই এখন পানি শূণ্য হয়ে পড়েছে। নদীর বুকে এখন ফসলের মাঠ। কৃষকরা সেখানে আলু, গম, কুমড়া, বাদাম, বাঁধাকপি-ফুলকপি, পিয়াস, মরিচ, রসুণ, টমেটোসহ বিভিন্ন রকমের ফসল চাষ করছেন।

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার উপড় দিয়ে প্রবাহিত যমুনেশ্বরী, চিকলী, খারুভাজ ও সরবাংলা নদী গুলোতো পলি পড়ে গিয়ে নদী গুলো তাদের নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। নদী গুলো সরকারী ব্যবস্থাপনায় খনন করার অভাবে নদীর তল দেশে এখন অবৈধ দখলদারীদের আবাদী ভুমিতে পরিনত হয়েছে।

ওই সব নদী খনন করা হলে কৃষকরা ফিরে পেতো গোলাভরা ধান ও নানান প্রজাতীর দেশীয় মাছ। এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশবাদীরা। তারা বলেন, নদী গুলো ভরাট হয়ে গিয়ে পানি শুন্যতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে সুযোগ সন্ধানী কিছু ব্যক্তি অবৈধ ভাবে নদী দখল করে নিয়ে চাষবাদ শুরু করেছে। এভাবে নদী গুলো দখল হয়ে যাওয়ায় একদিকে কৃষকরা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে দিন-দিন হারিয়ে যাচ্ছে নানান প্রজাতির দেশীয় মাছ। তাই সরকারী ভাবে ওই সব নদী গুলো খনন করা হলে দেশী মাছের বংশ বৃদ্ধির সাথে সাথে নদীর তীরবর্তী হাজার হাজার হেক্টও জমি সেচ ব্যবস্থার আওতায় ফিরে আসবে, আর তাতে সোনার ফসল ফিলবে। কৃষকরা ফিরে পাবে বাঙ্গালীর চির-চিরায়িত ঐতিহ্য গোলাভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ।

নদী এলাকার লোকজন জানান, গত কয়েক যুগ ধরে এ উপজেলার উপর বয়ে যাওয়া নদী গুলো খনন করার অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়ায় ওই সব নদীতে আগের দিনের মত এখন আর চোখে পড়েনা পাল তোলা নৌকা ও উথাল-পাতাল ঢেউ। সেই সাথে চেনা অচেনা মাঝি সেইদিকেই দৃষ্টির সীমানা জুড়ে শুধু ধূ-ধূ করছে বালুচর।

আর এই সুযোগে নদীর চর এলাকার কিছু অসাধু দখলদাররা নদীগুলোর তলদেশ দখল চাষবাদের খেলায় মেতে উঠেছে। তারা রাতা-রাতি বনে যাচ্ছে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। আর খেয়া ঘাটের মাঝিরা এখন নৌকা বাইচ ভুলে গিয়ে ক্ষুধাকে ঢাকছে পেটের গহীনে অতীতের কথা স্মরন করে। বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা পলির সাথে পার ধসে মাটিতে ভরাট হয়ে গেছে অনেক নদী। দেখে বোঝা দায় এটি নদী ছিল। সেই নদী গুলোতে ছিল উতাল পাতাল টেউ, ছিল ছল-ছলে পানি। তখন বয়ে যাচ্ছছিল নদীর বুকে পাল তোলা নৌকা। সেই সবেই এখন স্মৃতি। নদীর বুকে এখন শুধুই ফসলের পর ফসল।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: