বৈরী আবহাওয়ায় চিন্তিত রংপুরের কৃষক
সনজিৎ কুমার মহন্ত, রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুর অঞ্চলে ২০১৫-১৬ বোরো মৌসুমে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২০ লাখ ৯৭ হাজার ২৩৪ মেট্রিক টন। কৃষকেরা আলু সহ জমির অন্যান্য ফসল তুলে বোরো চারা রোপন শুরু করেছে। তবে এ অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় বোরো রোপন বিলম্বিত হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। কৃষকরা চিন্তিত এই বৈরী আবহাওয়া কতদিন চলবে তা নিয়ে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে রোপন শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ফেব্র“য়ারী মাস পর্যন্ত বলে কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে।
আঞ্চলিক রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী এবং রংপুরে ৫ লাখ ২ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রীড ১ লাখ ৫১ হাজার ৫১ হেক্টর, উফশী ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫১ হেক্টর এবং স্থানীয় হচ্ছে ২ হাজার ১২৭ হেক্টর। গত বছর ২০১৪-১৫ বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৭ হেক্টর। এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৩৭ হাজার ২৯২ হেক্টর জমি। যা গত বছরের এ সময় পর্যন্ত ৯ হাজার ১৭৪ হেক্টর বেশি ।
এ বছর জেলা ভিত্তিক জমির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে রংপুর জেলায় মোট জমি হচ্ছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৫ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড হচ্ছে ৪৪ হাজার ৫১৫ হেক্টর, উফশী ৮৮ হাজার ৯১০ হেক্টর। এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে মোট ৬ হাজার ৯শ হেক্টর। হাইব্রীড হচ্ছে ২ হাজার ২৫০ হেক্টর এবং উফশী হচ্ছে ৪ হাজার ৬৫০ হেক্টর। গাইবান্ধা জেলায় মোট জমি হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৬৭ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড হচ্ছে ৩০ হাজার ৫৫৯ হেক্টর, উফশী ৯৪ হাজার ৮১০ হেক্টর এবং স্থানীয় ৫শ ৯৮ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে মোট ১৬ হাজার ৯২৫ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড হচ্ছে ৪ হাজার ৩০৫ হেক্টর, উফশী হচ্ছে ১১ হাজার ৭২০ হেক্টর এবং স্থানীয় হচ্ছে ৯ শ হেক্টর। কুড়িগ্রাম জেলায় মোট জমি হচ্ছে ১ লাখ ৮ হাজার ৭০৪ হেক্টর। এরমধ্যে হাইব্রীড হচ্ছে ২৬ হাজার ৫৭৮ হেক্টর, উফশী ৮০ হাজার ৬০৪ হেক্টর এবং স্থানীয় ১ হাজার ৫২২ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে মোট ৭ হাজার ২৬১ হেক্টর জমি । এর মধ্যে হাইব্রীড হচ্ছে ১ হাজার ২৫১ হেক্টর, উফশী হচ্ছে ৪ হাজার ৬শ হেক্টর এবং স্থানীয় হচ্ছে ১ হাজার ৪২০ হেক্টর।
লালমনিরহাট জেলায় মোট জমি হচ্ছে ৫১ হাজার ৭৬৭ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড হচ্ছে ১৮ হাজার ৯৮৪ হেক্টর, উফশী ৩২ হাজার ৭৭৬ হেক্টর এবং স্থানীয় ৭ হেক্টর। অর্জিত জমির পরিমাণ হচ্ছে মোট ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড হচ্ছে ৪৫০ হেক্টর এবং উফশী হচ্ছে ৪ হাজার ৯শ হেক্টর। নীলফামারী জেলায় মোট জমি হচ্ছে ৮২ হাজার ৬৬৬ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড হচ্ছে ৩০ হাজার ৪১৫ হেক্টর এবং উফশী ৫২ হাজার ২৫১ হেক্টর । অর্জিত জমির পরিমামাণ হচ্ছে মোট ৮৫৬ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রডি হচ্ছে ৩৫১ হেক্টর এবং উফশী হচ্ছে ৫শ ৫ হেক্টর জমি।
রংপুর সদর উপজেলা দেওডোবা পাঠান পাড়া গ্রামের কৃষক মোক্তারুল ইসলাম বলেন, চলতি সপ্তাহে তিনি ৩ দোন (৭৪শতক) জমিতে বিরি-২৮ ধান রোপন করেছেন। গত বছর ১ দোন (২৪শতক) জমিতে ৪৫ মণ বিরি-২৮ ধান পেয়েছিলেন। প্রতি দোনে খরচ হয়েছিলো ৮ হাজার টাকা। কিন্তু তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন গতবার বোরো এবং আমন মৌসুমে ধানের দাম কম ছিলো এমনকি এ বছর আমন মৌসুমে কৃষকরা ধানের দাম পাননি। তিনি আরো বলেন, ধানের দামের নিম্নমুখি প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের কৃষকরা ধান আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে কয়েকদিন থেকে বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করায় তারা বীজতলা থেকে চারা না তুলে বরঞ্চ বীজতলা রক্ষায় স্থানীয় কৃষিকর্মকর্তাদের পরামর্শে কাজ করছেন।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ খোন্দকার মেসবাহুল ইসলাম বলেন, যেহেতু এ অঞ্চলে বোরো বীজ তলার জমি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৈরি আবহাওয়ায় কোন ক্ষতি হয়নি। তাই আশা করা হচ্ছে বৈরী আবহাওয়া ক্ষতি না করলে বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্য মাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে বোরো আবাদে অনেক সেচের প্রয়োজন হয়। তাই পানির সহজ প্রাপ্তির উপর আবাদ এবং চালের উৎপাদনের বিষয়টি নির্ভরশীল।

