আলু ক্ষেতে পচন রোগে হতাশায় তানোরের কৃষক
মিজানুর রহমান, তানোর সংবাদদাতা:
রাজশাহীর তানোরে আলু ক্ষেতে পচন রোগ আক্রমণে দিশাহীন হয়ে পড়েছেন চাষিরা। দিন দিন এ রোগের প্রভাব বেড়েই চলেছে এক মাঠ থেকে অন্য মাঠের আলু ক্ষেতগুলোতে। অনেকক্ষেত্রে কোনো ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করে আসছে না নিয়ন্ত্রণে। ফলে হতাশগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন উপজেলার আলু চাষিরা।
উপজেলার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার চাপড়া, কালনা, তালন্দ, পারিশো দূর্গাপুর, কাঁমারগা, আড়াদিঘী, টেটনা, জিওল, গাঁগরন্দ ও কালীগঞ্জের বেশ কিছু এলাকার আলু মাঠে এ পচন রোগ দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলা সদরের পৌর এলাকার চাপড়া ও কালনার দক্ষিণে আলুর জমিতে এ পচন রোগের আক্রমণ চোখে পড়ার মতো। এসব এলাকার আলুক্ষেতের আলু গাছের পাতা কালো হয়ে পড়েছে। কোনো কীটনাশক ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না চাষিরা। চলতি মাসে অসমায়ে দিনে রাতে বৃষ্টিতে আশাহত হয়ে পড়েছিল চাষিরা আর এবার আলুর গাছে পচন রোগে ধরেছে।
এছাড়াও জিওল, আড়াদিঘী ও ধানতৈড় গ্রামের আলুর শত শত একর জমিতে এ দশা। আলু চাষে ব্যাপক ব্যয়। লিজে জমিতে বিঘা প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা ও নিজস্ব জমিতে বিঘা প্রতি ২২ থেকে ২৭ হাজার টাকার মতো খরচ হয়।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় এবারে আলু চাষ হয়েছে ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে প্রথম থেকেই চাষিরা নানাবিধ সমস্যার মধ্যে পড়েছে। এছাড়াও প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির চাষি আমান হিমাগারের নি¤œমানের বীজ লাগিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। এ ধরনের বীজ দেয়ার কারণে শত শত কৃষক হয়েছেন সর্বশান্ত। ক্ষতি পূরণের দাবি চেয়ে আমান হিমাগার ঘেরাও ও কৃষি বিভাগসহ উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ বরাবর দেয়া হয় স্মারক লিপি।
এবার ধরেছে পচন রোগ। এ রোগ এক বার যে জমিতে দেখা দিবে ওই জমির আশপাশে সব জমিতে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়বে। আটকানোর কোনো পথ নেই। এছাড়াও কৃষকদের চাষ আবাদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শে মূল ভূমিকায় থাকে স্থানীয় কীটনাশক ব্যবসায়ী ও কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ।
প্রান্তিক আলু চাষিদের দাবি, ব্লক সুপারভাইজার ও স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্তাব্যাক্তিরা ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী চাষিরা যেখানে সেখানে তাদের অবস্থান। তবে নতুন উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম সাহেব মোবাইল ফোনে ও সরাসরি স্বাক্ষাতে যেকোন বিষয়ে প্রশ্ন করলে ভালো পরার্মশ দেন কিন্তু একা কৃষি অফিসারের পক্ষে পুরো উপজেলার সব দেখা সম্ভবপর নয় বলেও দাবী করেন কৃষকরা।
উপজেলার চাপড়া পূর্বপাড়ার আর্দশ কৃষক আতাউর সরকার আট বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছে। তিনি জানান, কোনো ক্রমেই পচন রোগ দূর করা যাচ্ছে না। একই এলাকায় চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করে পচন রোগে ভুগছেন মাওলানা মোসলেম উদ্দীন। তিনি বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহার করে কাজ হচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন যে, মাঝখান থেকে কীটনাশক ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন ব্যাপক লাভবান। এলাকার আলুর ক্ষেতগুলোতে ভয়াবহ আকার ধারণ করে আলুর মাঠগুলোর শত শত বিঘা জমিতে দেখা দিয়েছে আলুর গাছ খেকো পচন রোগ।
এদিকে উপজেলার জিওল গ্রামের ১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন ইমরান হোসাইন। ৪৬ বিঘা জমিতে ওমর আলী ও ৫০ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন মহাসিন। তাদেরসহ ওই মাঠে প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে পচন রোগ ছেয়ে গেছে। অথচ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, যেসব জায়গায় পচন রোগ ধরেছে সে এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে আলুর গাছ তুলনামূলক হারে ভালো অবস্থায় আছে।

