আলুর বাম্পার ফলনেও হতাশ বগুড়ার কৃষক
বগুড়া প্রতিনিধি:
জেলায় এবার লাল আলুর (পাকড়ি) বাম্পার ফলন হলেও এর দাম নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। এখানে খোলা বাজারে আলু কেজি প্রতি ১০ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে তা কমে ৭ থেকে ৮ টাকায় নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকদের একটি অংশ ক্ষেত থেকে আলু না তুলে অপেক্ষায় রয়েছেন দাম বাড়ার আশায়।
বগুড়ার শিবগঞ্জ, মোকামতলা, শেরপুর, শাজাহানপুর ও কাহালু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এবার এসব এলাকায় আলুর ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু ফলন ভালো হলেও এর দাম নিয়ে হতাশ কৃষক। ভর মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের বাজারে আলুর দাম নেই। খুচরা বাজারে যে আলুর কেজি ১২ টাকা, সেই আলু ক্ষেতে বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ টাকা দরে। বোরো ধান লাগানোর আগে খরচ পোষাতে ফসল হিসেবে আলু চাষ করেছিলেন এ অঞ্চলের কৃষক। ভালো ফলনের পর এখন উৎপাদন খরচ নিয়েই শঙ্কিত তারা।
মাটির গুণগত মানের কারণে উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলার চেয়ে বগুড়ায় আলুর ফলন হয় বেশি। সারা উত্তরাঞ্চল মিলে আলুর যা ফলন না হয়, তার প্রায় দ্বিগুণ ফলন হয় বগুড়ায়। বগুড়ার পাশের জয়পুরহাটেও আলুর ফলন ভালো। এ কারণে এই অঞ্চলে গড়ে উঠেছে অনেক হিমাগার। বগুড়া থেকে আলু কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান পাইকাররা। অনেকে আলু কিনে পাশেই হিমাগারে সেগুলো সংরক্ষণ করেন পরবর্তী সময় বেশি দামে বিক্রির জন্য। মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও আলু কিনে মজুদ করেন এসব হিমাগারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী এবার উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় তিন লাখ ১২ হাজার ৮৩ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে শুধু বগুড়ায় ৫৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ লাখ ৫৭ হাজার ১৯ মেট্রিক টন আলু। কিন্তু এ পরিমাণের প্রায় ৩০ শতাংশ আলু বেশি উৎপাদন হয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ আলু এর আগে কখনো উৎপাদন হয়নি। উত্তরের ১৬ জেলায় হিমাগারের সংখ্যা দেড় শতাধিক। এসবের ধারণক্ষমতা ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৮৭০ মেট্রিক টন। বাজারে দাম কম হওয়ায় হিমাগারের ধারণ ক্ষমতার পুরোটাই মজুদ করা হচ্ছে এবার।
এদিকে পাইকারি আলুর বাজার কত দিনের মধ্যে চাঙ্গা হতে পারে, তা নিয়ে কৃষি এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের কর্মকর্তারা স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। কৃষকরা জানান, এই সময়ে মূলত লাল আলু (পাকড়ি) প্রজাতির আলুর ফলন হয়। পাইকারি বাজারে ৮ টাকা কেজি দরে এই আলু বিক্রি হচ্ছে। যেখানে এক কেজি পাকড়ি প্রজাতির আলুর উৎপাদনে খরচ প্রায় ৭ টাকা। জেলার মোট চাষের ২০ শতাংশ জমিতে এ আলু চাষ হয়।
রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি কর্মকর্তা বজলুল রশিদ জানান, গাছ শুকিয়ে যাওয়ার পরে আলু না তুললেও অন্তত পনেরো দিন মাটিতে আলু ভাল থাকবে। ওই কয়েক দিনে বাজার কিছুটা চাঙ্গা হলেও হতে পারে।

