টমেটো চাষে ভাগ্য বদল সাজেদার
জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের বর্গা নেওয়া জমিতে টমেটো চাষ করে ভাগ্য বদলে ফেলেছেন সাজেদা বেগম (৩৫)। চলতি মৌসুমে টমেটো বিক্রি করে খরচ বাদে চার লক্ষাধিক টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যে সাজেদা বেগম সফলতা অর্জন করে এলাকবাসিকে তাক লাগিয়ে দেন। শুধু টমেটো চাষ নয় চরাঞ্চলের বালুময় জমিতে বিভিন্ন সবজির চাষ করে এখন তিনি স্বচ্ছন্দভাবে সংসার চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বর্গা নিয়েছেন ৮ একর জমি। স্থায়ীভাবে থাকার জন্য ক্রয় করেছেন বসতভিটে। এছাড়া সবজি বিক্রির টাকায় এক মেয়ে ও দুই ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে লেখাপড়া চালাচ্ছেন। এরমধ্যে বড় মেয়ে স্নাতক, মেঝ ছেলে দশম শ্রেণি ও ছোট ছেলে সপ্ত শেণিতে পড়ালেখা করছেন। সাজেদা বেগম ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ডাকাতিয়ার চরের দিনমজুর আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী। স্বামী ও তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে তার সংসার।
সাজেদা বেগম জানান, স্বামী দিনমজুর হওয়ায় পাঁচ সদস্যর সংসার চলত না। অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করেছি তার খোঁজ কেউ রাখেনি। বাধ্য হয়ে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেই। স্বামীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে ২০১০ সালে গাইবান্ধার গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের লাইভলীহুড মাইক্রোফাইনান্স কর্মসূচীতে সদস্য হয়ে সঞ্চয় শুরু করি।
পাশাপাশি হাতে কলমে কৃষির উপর প্রশিক্ষণ নেই। পরে লাভলীহুড় মাইক্রোফাইনান্স কর্মসূচি থেকে সবজি চাষের জন্য ১০ হাজার টাকা ঋণ নেই। ১০ হাজার টাকা দিয়ে ২০ শতক জমিতে স্বল্প পরিসরে কপি ও টমেটো চাষ শুরু করি। সেই কপি ও টমেটো বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হন তিনি।
এরপর সাজেদা বেগমকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ক্রমান্বয়ে সবজি চাষের জমির পরিধি বাড়াতে থাকেন। মৌসুম ভিত্তিক জমি বন্দক (বর্গা) নিয়ে বর্তমানে ৮ একর জমিতে কপি ও টমেটো চাষ করেছেন। বর্তমানে প্রতিদিন জমি থেকে ৫০ মণ টমেটো উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদিত টমেটো গাইবান্ধা শহরের কাঁচামালের আঁড়তসহ ঢাকায় বাজারজাত করছেন।
তিনি আরও জানান, ৮ একর জমিতে কপি ও টমেটো চাষে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষাধিক টাকা। এ পর্যন্ত কপি ও টমেটো বিক্রি করেছেন সাড়ে ৭ লক্ষাধিক টাকা। জমিতে থাকা টমেটো বিক্রি করে এখনও ৪ লক্ষাধিক টাকা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন। তবে গত বছর টমেটো বিক্রি করে খরচ বাদে লাভের টাকায় স্থায়ী ভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে ১৫ শতকজমি ক্রয় করেন তিনি। ক্রয় করা জমিতে ৩০ হাত লম্বা চৌচালা টিনের ঘর র্নিমাণ করেন।
সাজেদা বেগমের স্বামী আবুল কালাম আজাদ জানান, কৃষি বিষয়ে কোন ধারনা ছিল না। এনজিও থেকে প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন বীজ ভান্ডারের পরার্মশ নিয়ে ২০ শতক জমি থেকে বর্তমানে ৮ একর জমিতে সবজি চাষ করছি। স্ত্রী সন্তান নিয়ে এখন ভালোই চলছে সংসার। তাছাড়া এলাকার অনেক বেকার যুবক নারী-পুরুষ সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মন্ডল বলেন, ‘চরের জমিতে বসবাস ও চরের জমিতে টমেটো চাষ করে সাজেদা বেগম আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। সবজি চাষ করে জমি বর্গা, বসবাসের জন্য জমি ক্রয় ও সন্তানদের লেখাপড়া চালাচ্ছেন সাজেদা। সাজেদার সফলতা এলাকা অনুকরণীয়’।
ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাহাজুল ইসলাম জানান, কৃষি ক্ষেত্রে সাজেদা বেগমের ভূমিকা আমাকে মুগ্ধ করেছে। পাশপাশি সাজেদা বেগম চরের জমিতে টমেটো উৎপাদন করে চরের কৃষকদের তাক লাগিয়েছেন। সাজেদার সবজি চাষে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

