রংপুরের রোগাক্রান্ত জমির রসুন নিয়ে বিপাকে কৃষক
সনজিৎ কুমার মহন্তঃ
কৃষি অফিসের তদারকির অভাব
এ বছর (২০১৫-১৬) মশলা জাতীয় ফসল রসুনের দাম ভালো থাকলেও রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার কৃষকেরা তাদের আক্রান্ত জমির রসুন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন । আক্রান্ত জমির রসুন গাছ পূর্নাঙ্গ হওয়ার আগে শুকিয়ে হলুদ বর্ণ ধারন করছে। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে রসুন গাছ গুলো তুলে ফেলছেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর বাজারে প্রতিমণ রসুন ৯৬০ টাকা থেকে ১ হাজার ৪০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়ন হারাগাছ সংলগ্ন চর ঠাকুর দাসের একাধিক জমির আবাদকৃত রসুন ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে কৃষক সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় কৃষক আজিজার রহমান বলেন, এ বছর বাংলা কার্তিক মাসে তিনি ২৪ শতক জমিতে দেশী জাতের রসুন আবাদ করেছেন। আর মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিন পরই চৈত্র মাসে তিনি জমি থেকে রসুন উত্তোলন করবেন। ২০ থেকে ২৪ মণ ফলন আশা করেছিলেন। কিন্তু তার আবাদকৃত রসুন রোগে আক্রান্তু হওয়ায় ফলন অনেক কমে যাবে বলে তিনি জানান। এখন পর্যন্ত কৃষি অফিসের কোন কর্মকর্তা তাদের জমিতে আসেননি বলে তিনি অভিযোগ করেন। রোগের নাম না জানলেও রোগটির লক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথম দিকে গাছটি শুকিয়ে হরুদ বর্ণ ধারন করে পরে মরে যায়। এ অবস্থায় গাছটি তুললে রসুনের শিকড়ের দিকের অংশ আলগা হয়ে খসে পড়ছে। এ পর্যন্ত রসুন আবাদে তার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।
তিনি গত বছর ১৭ শতক জমিতে রসুন আবাদ করে ১৯ মণ রসুন পেয়েছিলেন।
কৃষক শাহজামাল বলেন তিনি ১৯ শতক জমিতে রসুন আবাদ করেছেন। কিন্তু তার জমিতেও রোগ দেখা দিয়েছে। ফলে তিনি দ্রুত আক্রান্তু রসুন গাছ তুলে ফেলছেন। যাতে অন্য সুস্থ গাছ গুলোর ক্ষতি না হয়। কৃষক আজিয়ার বলেন, ৬ মাসের ফসল হলেও তার আবাদকৃত ১০ শতক রসুনের জমি রোগাক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে ৫ মাস বয়সেই রসুন উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি করেছেন। প্রতি মণ ২ হাজার টাকা দরে ৪ মণ রসুন বিক্রি করেছেন। ২০ বছর থেকে বিভিন্ন ফসল আবাদের সাথে সংপুক্ত কৃষক জহুরুল ইসলাম জানান, তার রসুনের জমির মধ্যে কিছু জমিতে রোগ দেখা দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, যে সকল বীজ ভালো ভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়নি সে সব বীজের রসুন গাছ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
একাধিক কৃষক জানান, সাধারণত দীর্ঘ দিন থেকে তারা নিজেরাই আবাদকৃত রসুন থেকে বীজ করে পুনরায় ওই বীজ আবাদ আবাদ করছেন। মৌসুমে প্রতি মণ রসুন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২শ টাকা থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা। বীজের রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ প্রকার ভেদে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। একাধিক বাজার এবং কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের জেলা মার্কেটিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাজারে প্রকারভেদে রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ২ হাজার ১৬০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ২৪০ টাকায়। যা গত বছর(২০১৫) মার্চ মাসের ১ম সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১২০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ২৮০ টাকায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে রংপুর জেলায় এ বছর (২০১৫-১৬) রসুন আবাদ হয়েছে ১ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক স.ম আশরাফ আলী বলেন, রসুনের রোগ সম্পর্কে কোন অভিযোগ তিনি পাননি। তবে আক্রান্ত এলাকায় অবশ্যই তিনি নিজে যাবেন এবং কৃষকদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ।

