রংপুরে আম-লিচুর সাথে মধু চাষ
সনজিৎ কুমার মহন্ত, রংপুর প্রতিনিধি:
আম-লিচুর মুকুলে মুকুলে ছেঁয়ে গেছে রংপুরের বদরগঞ্জের ফলের বাগান। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ আর মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখরিত গোটা অঞ্চল। মুকুলের ভাঁজে ভাঁজে আছে কৃষকের স্বপ্ন। বিস্তৃর্ণ বাগান জুড়ে চোখ ধাঁধানো মুকুলের সমারোহ, নয়নাভিরাম চিরচেনা সেই অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্য যে কারোরই মনকে দোলা দেয়। এমতাবস্থায় আম-লিচু বাগানে যদি কৃষকরা বাড়তি আয়ের জন্য মৌ-চাষ করে মধু আহরন করেন একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন অন্যদিকে পুষ্টির চাহিদা মেটানোও সম্ভব।
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের কুমারপাড়া এলাকার আম-লিচু বাগান চাষি মাহফুজ ওয়াহিদ চয়নের সাথে তিনি জানান, সরিষার সময়ই শুধু মৌ চাষ হয়,আম-লিচু বাগানেও যে মৌ চাষ করা যায় এটা আগে কখনও মাথায় আসেনি । সাতক্ষীরা হতে আসা এক দল মৌয়ালের সাথে গত ৫দিন আগে হঠাৎ দেখা হলে তারা আমার আম-লিচু বাগানে মৌচাষের কথা বললে আমি রাজি হয়ে যাই। তখনই শুরু হয় আম-লিচু বাগানে মৌ চাষ। বাগান মালিক চয়ন আরও জানান, মূলতঃ আম-লিচু বাগানে মৌ চাষের কারনে পরাগায়ন বেশি হবে ফলনও বৃদ্ধি পাবে এটাই আমার লাভ।
সাতক্ষিরা থেকে আসা মৌয়াল মোকারম হোসেন জানান, এই লিচুবাগানে মৌমাছির বাক্স রয়েছে আড়াইশটি। সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে বাক্সগুলো থেকে মধু সংগ্রহ করা হবে। এই মধু সংগ্রহ অভিযান চলবে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। আশা করছি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১২মন মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। চলতি মৌসুমে এই বাগান থেকে ৫০মন মধু সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতি মন মধু বিক্রি করা হয় ৬-৭হাজার টাকায়। এই মধু দেশের বিভিন্ন কোম্পানির চাহিদা মিটিয়ে ভারতে রফতানি করা হয়।ভারতীয় মধু কোস্পানিগুলো সস্তা দামে মধু কিনে বিদেশে রফতানি করে। অথচ মধু কেনে আমাদের কাছ থেকে। তিনি আরও জানান;এই পেশার সঙ্গে যুব সমাজের একটি বড় অংশ জড়িত রয়েছে। সরকারি পৃষ্টপোষকতা না থাকায় সম্ভাবনাময় এই মধু চাষ শিল্পের তেমন কোন অগ্রসর হচ্ছে না। মধু চাষে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে এক দিকে যেমন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসত। তেমনি দুর হতো বেকারত্ব সমস্যা।
কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের সাথে তিনি জানান ; আম-লিচু ক্ষেতে মৌমাছি পরাগায়নে সহায়তা করে। মার্চের শুরু হতে আম-লিচুর মুকুল হতে মধু আহরন শুরু হয় । সারাদেশে চাষিদের যদি আম-লিচু বাগানে ফলের পাশাপাশি মধু চাষের হাতে কলমে প্রশিক্ষন দেয়া যায় তাহলে সকল কৃষকই অনেক লাভবান হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি জমিতে ১০৮টি কাঠের ফ্রেমে প্রতি সপ্তাহে চাষিরা ৩ মনের অধিক মধু সংগ্রহ করতে পারে।
কথা হয় উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায়ের সাথে তিনি জানান ; গত ১০ বছর আগেও বদরগঞ্জ উপজেলায় ফলের বাগান ছিল ১৫০হেঃ । বর্তমানে তা বেড়ে ৭০০হেঃ ছাঁড়িয়ে গেছে । আম লিচুর পাশাপাশি মৌ চাষ করে কৃষকরা একদিকে যেমন নিজের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে পারে অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে সহযোগিতা করতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, উপজেলার বহু আম ও লিচু বাগানে এখন মধু চাষ হচ্ছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক।

