বাংলাদেশে কৃষি শিক্ষা এবং সুযোগ-সুবিধা

হালিমা তুজ্জ সাদিয়া:  

কৃষিই কৃষ্টি! কৃষিই সমৃদ্ধি! কৃষিকে ঘিরেই মানুষের সভ্যতার জাগরণ শুরু। ‘কৃষি’ পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আদিতম বিষয়গুলোর অন্যতম একটি। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সংশ্লিষ্টতায় কৃষির বিকল্প নেই। কৃষিই পৃথিবীর মূূল চালিকা শক্তি। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিনোদনের অধিকাংশ উপাদান আসে এই কৃষি থেকেই।

 

কৃষি কি?

ফসল উৎপাদন, পশুপাখি পালন, মাছ চাষ এবং বনায়নের জন্য মাটির জৈবিক ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনাই হলো কৃষি।

কৃষিক্ষেত্র এমন একটি ক্রিয়াকলাপ যা মাটির সমন্বয় করে ফসলের বিকাশ ও সংগ্রহের পাশাপাশি বন ও জঙ্গলের শোষণ, পশুর প্রজনন ও বিকাশের সাথে সম্পর্কিত। কৃষি প্রতিটি জাতির প্রাথমিক সেক্টরের অন্যতম একটি কার্যক্রম, যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ কেননা এর উপরেই নির্ভর করছে মানুষের জীবন এবং জীবিকা।

 

কৃষির ইতিহাস:

কৃষিকাজ মানবজাতির আদিতম পেশা। এই কৃষিকার্য প্রচলনের ইতিহাস হাজার বছরেরও পুরোনো। মানুষ জীবন ধারনের জন্য শস্য উৎপাদন করেছে, গৃহপালিত পশু পালন করে নিজেদেরকে টিকিয়ে রেখেছে। কৃষি কাজের ইতিহাস বলতে শস্য উৎপাদন, পশুপালন এবং এদের প্রসার লাভের বিষয়টিকে বোঝানো হয়। কৃষিকাজ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে শুরু হয়েছিলো। প্রাচীন এবং আধুনিক বিশ্বের প্রায় এগারোটি স্থানকে কৃষি কাজের উৎপত্তি স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ২০,০০০ অব্দ থেকে মানুষ বন্যশস্য খেয়ে এসেছে। খ্রিস্টপূর্ব ৯০০০ অব্দের এই সময় কালে শস্য হিসেবে- গম, যব, মটরশুঁটি, ডাল, তিক্ত ছোলা, ছোলা, তিষি এসব চাষ করা হতো। খ্রিস্টপূর্ব ১১৫০০ থেকে ৬২০০ এই সময়কালে সর্বপ্রথম চীনে ধান উৎপাদন শুরু হয়। তার পরবর্তীতে শিম, সয়াবিন ইত্যাদি উৎপাদন শুরু হয়। নিউ গিনিতে প্রায় ৭০০০ বছর আগে প্রথম আখ চাষ করা শুরু হয়। দক্ষিণ আমেরিকায় চাষ করা হতো শিম এবং কোকা। কোকা এক ধরনের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ যার পাতায় থাকে কোকেন যা শক্তিশালী মাদকদ্রব্য তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। এই কোকা উদ্ভিদটি বর্তমানে পেরু, কলম্বিয়া, বিলিবিয়ায় অন্যতম প্রধান অর্থকারী ফসল হিসেবে পরিচিত। খ্রিস্টপূর্ব ৮০০০-৫০০০ সময়কালে দক্ষিণ আমেরিকায় প্রথম আলু চাষ শুরু করা হয়। ৫০০০ বছর আগে আফ্রিকায় জোয়ার চাষ করা শুরু হয়েছিলো। তুলা চাষ শুরু হয়েছিলো পেরুতে, ভুট্রা আমেরিকায় যা প্রায় ৪০০০ বছর আগে। তারপর আস্তে আস্তে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন ফলের গাছ, ফসল এসব বিস্তার লাভ করে। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ থেকে ৪০০০ এই সময়কালের মধ্যে মিশরীয়রাই সবপ্রথম বৃহৎ পরিসরে কৃষি কাজের চর্চা শুরু করে। কৃষিকাজে জলবায়ু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বরফযুগের পর জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান দীর্ঘসময়ের জন্য শুষ্ক হয়ে গিয়েছিলো যার ফলে অনেক উদ্ভিদ মারা যায়। যেসব উদ্ভিদ মারা গিয়েছিলো সেগুলোর বীজ মাটিতে তখন সুপ্তাবস্থায় ছিলো আর সেখান থেকেই পরবর্তীতে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নতুনভাবে উদ্ভিদ বেড়ে উঠতো এবং শস্য পাওয়া যেতো। যেখানেই শস্য পাওয়া যেতো সেখানেই পশু শিকারীরা একত্রিত হয়ে গ্রাম বা সমাজ গঠন করতো। এভাবেই কৃষিকার্য বিস্তার লাভ করেছিলো সারা পৃথিবীতে।

এশিয়ার ছোট্ট একটি দেশ- বাংলাদেশ। দারিদ্রতা, ঘনবসতি এবং নানা প্রতিকূলতার ভেতরেও এদেশের সম্ভাবনা ও টিকে থাকার মূল জায়গাটি হচ্ছে ভূমি ও কৃষক সম্প্রদায়। নদীমাতৃক ও কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে এই ভূমির রয়েছে আলাদা এক গুরুত্ব। ব্রিটিশ শাসককুল বাংলাকে ভেবে এসেছে এক শস্যভাণ্ডার হিসেবে। স্বাধীনতার সময়কালে ৭ কোটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থার ভেতরে থেকে যতটুকু সম্ভব খাদ্য নিরাপত্তা দিয়ে এসেছে যা চাহিদার তুলনায় স্বল্পই ছিলো। ১৯৭১ সালে সদ্য স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশটিতে উৎপাদিত হয় ১ কোটি টন খাদ্যশস্য যা ৭ কোটি মানুষের খাদ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে। আজ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে এসে তার চেয়ে কম জমিতে- সে সময়ের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৬-১৭ কোটি মানুষ সেই খাদ্যশস্যের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে। আর এই টিকে থাকাটিই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। বাংলাদেশের এই সাফল্যের পিছনে- প্রধান ভূমিকা পালন করছে কৃষক, কৃষিবিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা। তাদের জন্যই আজ এদেশ অনেকটাই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার তথ্য মতে, সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ ধান উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, পাট উৎপাদনে দ্বিতীয়, ফসলের জাত উৎপাদনে প্রথম, আম উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পরিমানে ফাইবার এক্সপোর্ট করে। বর্তমানে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান পনেরো দশমিক তেত্রিশ ভাগ এবং কৃষি খাতে এদেশে কর্মসংস্থান প্রায় আটচল্লিশ দশমিক এক শতাংশ দখল করে আছে।

এই কৃষির সমৃদ্ধি, কৃষির উন্নয়ন এবং কৃষির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ধরে রাখতে মুখ্য অবদান রাখছে কৃষক এবং কৃষিবিদ’রা। এই কৃষিবিদ তৈরীর কারখানা বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কৃষি বিষয়। বাংলাদেশে কৃষিবিদ হতে হলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়া করে উচ্চতর গ্রেড নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় কঠিন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অবতীর্ণ হতে হয়।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কৃষি ডিগ্রীব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন এগ্রিকালচার (B.Sc. in Ag (Hons.)) প্রদান করা হয়।

 

যে প্রতিষ্ঠানসমূহে এই ডিগ্রি প্রদান করা হয়:

১.বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি),
২.সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি),
৩.বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরকৃবি),
৪.শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি),
৫.খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (খুকৃবি),
৬.হাজী মুহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি),
৭.পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি),
৮. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি),
৯.বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(বশেমুরপ্রবি),
১০.নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(নোবিপ্রবি),
১১. ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজি (IUBAT),
১২.এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চাপাইনবাবগঞ্জ।

এছাড়াও কৃষি বিষয়ে বাংলাদেশের প্রায় ১৫টি এটিআইতে (এগ্রিকালচার ট্রেইনিং ইন্সটিটিউট) ডিপ্লোমা-ইন-এগ্রিকালচার (৪ বছর মেয়াদী)কোর্সটি পড়ানো হয়। তাছাড়া বেসরকারিভাবে ১৬০ টির মতো প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা-ইন-এগ্রিকালচার (৪ বছর মেয়াদী) কোসটি পড়ানো হয়।

১।এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনিষ্টিটিউট (ATI), শেরে বাংলা নগর, ঢাকা।
২।এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনিষ্টিটিউট (ATI), তাজহাট রংপুর।
৩।এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনিষ্টিটিউট (ATI), রহমতপুর, বরিশাল।
৪।এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনিষ্টিটিউট (ATI), খাদিমনগর, সিলেট।
৫।এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনিষ্টিটিউট (ATI), শেরপুর।
৬।এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনিষ্টিটিউট (ATI), দৌলতপুর, খুলনা।
৭।এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনিষ্টিটিউট (ATI), হমনা, কুমিল্লা
৮।এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনিষ্টিটিউট (ATI), ঈশ্বরদী, পাবনা
৯।এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনিষ্টিটিউট (ATI), রাঙ্গামাটি।
১০।এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনিষ্টিটিউট (ATI), গাজীপুর।

বাংলাদেশের বেসরকারি কোর্স এর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম:-

১।আবুল বাশার কৃষি কলেজ, ঢাকা।
২।তমালতলা কৃষি ও কারিগরি কলেজ,বাগাতি পাড়া, নাটোর।
৩।এম.এস.জোহা কৃষি কলেজ,হারদী,আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা।
৪।খান জাহান আলী কৃষি কলেজ,ডুমুরিয়া, খুলনা।
৫।ব্রেইলী ব্রীজ এগ্রিকালচার এন্ড পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউট,মীরবাগ,কাউনিয়া রংপুর।”

 

একজন কৃষিবিদ হতে হলে তাকে অধ্যয়ন করতে হয়-
কৃষিতত্ত্ব, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, কীটতত্ত্ব, উদ্যানতত্ত্ব, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব, ফসল উদ্ভিদবিজ্ঞান, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন, কৃষি সম্প্রসারণ, কৃষি রসায়ন, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান, বায়োটেকনোলজি, পরিবেশবিজ্ঞান, সিড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট, কৃষি বনায়ন, পরিসংখ্যান, গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান, কৃষি অর্থনীতি, ফার্ম পাওয়ার ম্যাকানিক্স, ল্যাংগুয়েজসহ ইত্যাদি বিষয়াদি।

ডিপার্টমেন্ট ভিত্তিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে একটু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় এছাড়া অন্যান্য অনুষদের আরো কিছু কোর্স পড়তে হয়।

কেন পড়বো কৃষি?

কৃষি একটি প্রাচীনতম এবং সমৃদ্ধিময় পেশা যা সারাবিশ্বে সমাদৃত। বিশ্বব্যাপী অপেক্ষাকৃত বেশী মেধাবী’রাই এই পেশায় জ্ঞান অর্জন এবং বিজ্ঞান সমন্বয়িক সেবা দিয়ে থাকে। তাছাড়া বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশে কৃষিবিদদের সরকারি-বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্র কোন অংশেই কম নেই।

শিক্ষকতা: শিক্ষকতা অন্যন্ত সম্মানীয় একটি পেশা। বাবা মায়ের পরে কোনো সন্তানকে সবচেয়ে যে বেশি ভালোবাসেন সে হলো তার শিক্ষক। কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করে উচ্চ মেধার স্বাক্ষরতায় একজন কৃষিবিদ- বিশ্ববিদ্যালয় নামক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন কলেজে- সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষকতা করতে পারবে।

বিসিএস: কৃষিতে স্নাতক (সম্মান) শেষ করে বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (বিসিএস) চাকরি করার সুযোগ তো আছেই। কৃষি ক্যাডারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়নে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও সরকারি কলেজের লেকচারার পদ সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষিবিদ নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কৃষিবিদদের কর্মক্ষেত্র আরও বৃদ্ধি করেছে সরকার।

অন্যান্য সরকারি কর্মক্ষেত্র:

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন অধিদপ্তর, কৃষি তথ্য সার্ভিস, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল সহ এরকম আরো অনেক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে কাজ করার সুযোগ।

এছাড়াও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠাণ রয়েছে, যেখানে কৃষিবিদ রা নিজের মেধার পরিচয় দিয়ে দেশের জন্য কাজ করছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো-

১.বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
২.বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইন্সিটিউট
৩.বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
৪.বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট
৫.বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট
৬. বাংলাদেশ তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউট,
৭.বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট
৮. বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউ
৯. বাংলাদেশ গম এবং ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউ
১০.বাংলাদেশ সেরিকালচার রিসার্চ এন্ড ট্রেইনিং ইন্সটিটিউট।
১১.বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ এপিকালচার( ঢাকা)
১২. বাএআরআই অধিভুক্ত কিছু গবেষণা কেন্দ্র- —-আলু, তামাক- রংপুর, রাবার- কক্সবাজার, আম-চাপাইনবাবগঞ্জ।

এছাড়া অনেক কৃষিবিদ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। যেমন- বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিল ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে সার কারখানা, চিনিকল, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, কীটনাশক তৈরির কারখানা, ব্র্যাক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি এসব প্রতিষ্ঠানে কৃষিবিদরা কাজ করছেন।

বর্তমানে অনেক কৃষিবিদ সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক সহ দেশের অন্যান্য ব্যাংকসমূহ। তাছাড়া বিভিন্ন এনজিও এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দিন দিন কৃষিক্ষেত্রে তাদের কাজের পরিধি বাড়াচ্ছে, বিশেষ করে বেসরকারী বীজ কোম্পানিগুলোতে কৃষিবিদদের জন্য কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। কৃষিবিদ’রা কাজ করছে ব্র্যাক, স্কয়ার, অ্যাগ্রোভেট, লালতীর, ন্যাশনাল অ্যাগ্রোফেয়ার, প্রশিকা, আশা, এসিআই, কৃষিবিদ গ্রুপ, অ্যাকশন এইডের মতো প্রতিষ্ঠানেও। আবার কৃষিবিদ হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ থাকে, আধুনিক খামারও গড়ে তোলা যেতে পারে। কৃষিবিদ’রা কৃষি পরামর্শক হিসেবেও কাজ করতে পারবে তাই সহজেই বলা যায় কৃষিবিদের কর্মক্ষেত্র যথেষ্ট উর্বর।

বিদেশে উচ্চ শিক্ষা:

কৃষিতে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও রয়েছে উচ্চ শিক্ষার প্রচুর সুযোগ এবং স্কলারশিপ। উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতি বছর প্রচুর শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, জার্মান, নেদারল্যান্ড, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। অনেক কৃষিবিদ বিদেশে কর্মরত আছেন আবার অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছে। বিদেশি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কৃষিবিদ কাজ করছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন- এফএও, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক বিষয়ক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড), ডিএফআইডি, ডেনমার্কের বৈদেশিক বিষয়ক উন্নয়ন সংস্থা- ড্যানিডা, সুইডেন ও কানাডার সিডা, উইনর্ক ইন্টারন্যাশনাল, প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন, ওয়ার্ল্ড ফিম, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইআরআরআই), আন্তর্জাতিক সার উন্নয়ন সংস্থা (আইএফডিসি), অক্সফাম জিবির মতো প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে কৃষিবিদদের বিশেষ কর্মক্ষেত্র।

বিগত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন গবেষণা ইন্সটিটিউট কৃষি উন্নয়নে নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ফলশ্রুতিতে ক্রমাগতভাবে উদ্ভাবিত হচ্ছে নতুন নতুন ফসলের উন্নত জাত ও উৎপাদন বিষয়ক প্রযুক্তি। ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৃষি বিজ্ঞানীদের সফলতাও বাড়ছে। ১৯৭০ সাল থেকে দেশি জাতকে উন্নত করে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা উচ্চফলনশীল (উফশী) জাত উদ্ভাবন করছেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ১০৫ টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবন করেছে ১৮টিরও বেশি ধানের জাত। ১১৫টি হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলো। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে ফসলের ৪১৭টিরও বেশি জাত অবমুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত অবমুক্ত করেছে ২৬টি জাত। অন্যদিকে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট বেশ কয়েকটি জাত ছাড়াও পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছে। কৃষি গবেষণার এই চলমান প্রক্রিয়ায় উদ্ভাবিত লাগসই প্রযুক্তিসমূহ বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত- কৃষি সম্প্রসারণবিদ’দের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে স্বল্প সময়ে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন, কৃষকের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন হচ্ছে এবং সার্বিকভাবে দেশের কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষিখাতে অবদান রাখায় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক পুরস্কার লাভ করেছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউ বিভিন্ন সময় তাদের সাফল্যের জন্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে যেসব পুরস্কার লাভ করেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. গমের উপর গবেষণার জন্যে বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক ১৯৭৪।
২.কৃষিতে দ্রুত উন্নয়নের জন্যে রাষ্ট্রপতি পদক, ১৯৭৪।
৩.কৃষিতে অবদানের জন্যে বেগম জেবুন্নেসা ও কাজী মাহবুব উল্লাহ কল্যাণ ট্রাস্ট স্বর্ণপদক, ১৯৮২।
৪.গম বিষয়ক গবেষণা ও উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্যে ওমেন সায়েন্টিস্ট এসোসিয়েশনের স্বর্ণ পদক, ১৯৯০ (আন্তর্জাতিক পুরস্কার)।
৫.জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে বিশেষ পুরস্কার, ১৯৯০।
৬.কন্দাল ফসলের গবেষণা ও উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বেগম জেবুন্নেসা ও কাজী মাহবুব উল্লাহ কল্যাণ ট্রাস্টের স্বর্ণ পদক, ১৯৯৫।
৭.পোকা মাকড় দমন সংক্রান্ত গবেষণায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার।
৮.হর্টিকালচার গবেষণা কেন্দ্রের উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পুরস্কার ২০১২ এবং
৯.বাংলাদেশের কৃষি সেক্টরে বিশেষ অবদানের জন্যে দি রিফ্লেক্টর এওয়ার্ড, ২০১৩।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: , , ,